ঈদে সচল থাকবে ৮৫টি লোকোমোটিভ
পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে যাত্রীচাপ সামাল দিতে মিটারগেজ লোকোমোটিভ সংকট মোকাবিলায় বিশেষ প্রস্তুতি নিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে এবার ৮৫টি মিটারগেজ লোকোমোটিভ সচল রাখার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে রেল কর্তৃপক্ষ।
শনিবার রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশন পরিদর্শন করেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম। পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন,যাত্রীদের নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ রেলওয়ে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছে।
লোকোমোটিভ সংকট মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতির কথা তুলে ধরে ফাহিমুল ইসলাম বলেন, মিটারগেজ লোকোমোটিভের কিছু সংকট রয়েছে। তবে ঈদের সময় ৮৫টি মিটারগেজ লোকোমোটিভ সচল রাখার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমানে ৭৮ থেকে ৭৯টি প্রস্তুত রয়েছে এবং আগামীকাল থেকে এ সংখ্যা ৮০ ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, বর্তমান প্রস্তুতি অনুযায়ী ঈদযাত্রায় বড় ধরনের শিডিউল বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখছে না রেল কর্তৃপক্ষ। এ সময় বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেন সহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
রেলসচিব জানান, সকাল থেকেই বিভিন্ন ট্রেনের শিডিউল ও সার্বিক ব্যবস্থাপনা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা ও যাত্রীসেবার বিষয়গুলো আরও জোরদার করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় সভাও অনুষ্ঠিত হবে।
তিনি বলেন, গত ঈদুল ফিতরে সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা সন্তোষজনক ছিল। তবে পশ্চিমাঞ্চলে একটি ট্রেন লাইনচ্যুত হওয়া এবং কুমিল্লার পদুয়ার বাজার এলাকায় লেভেল ক্রসিংয়ে বাসের সঙ্গে সংঘর্ষের মতো দুটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছিল।
ট্রেনের ছাদে যাত্রী ওঠা ঠেকাতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী, জিআরপি ও ভ্রাম্যমাণ আদালত মাঠে কাজ করছে। গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনগুলোতে ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত দায়িত্ব পালন করবে।
স্টেশনে টিকিটবিহীন যাত্রী প্রবেশ রোধে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও জানান রেলসচিব। তিনি বলেন, টিকিট ছাড়া যাত্রীরা স্টেশনে প্রবেশ করতে না পারলে ভিড় ও বিশৃঙ্খলাও কমে আসবে।
যাত্রীচাপ সামাল দিতে এবারও ২৫ শতাংশ স্ট্যান্ডিং টিকিট রাখা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ঈদকে কেন্দ্র করে বিপুলসংখ্যক মানুষ ঢাকা ছাড়েন। ফলে রেলের চাহিদা অনেক বেড়ে যায়, যা পুরোপুরি পূরণ করা সম্ভব হয় না।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী, জিআরপি, মেট্রোপলিটন পুলিশ, এপিবিএন, র্যাব ও আনসার সদস্যরা সমন্বিতভাবে কাজ করছে বলে জানান তিনি। কমলাপুরসহ গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন এলাকায় ছিনতাই, পকেটমার ও বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
রেলসচিব আরও বলেন, যাত্রীরা যেকোনো অভিযোগ, তথ্য বা সহায়তার জন্য রেলওয়ের ১৩১ হটলাইনে যোগাযোগ করতে পারবেন।
























