Dhaka ০৮:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জাতীয় সংসদে সরাসরি ভোটে নারী প্রতিনিধিত্ব আরও কমলো

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৬:১৬:১২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৪ Time View
12 / 100 SEO Score

জাতীয় সংসদে সরাসরি ভোটে নির্বাচিত নারী প্রতিনিধির সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাত্র সাতজন নারী প্রার্থী জয়ী হয়েছেন, যা সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৬৮ জন নারী প্রার্থীর মধ্যে ২২ জন এবং ২০২৪ সালের দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে ৯৬ জন নারী প্রার্থীর মধ্যে ১৯ জন বিজয়ী হয়েছিলেন।

দ্বাদশ সংসদ ভেঙে দেওয়ার প্রায় দেড় বছর পর অনুষ্ঠিত এই ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে নারী প্রার্থীর সংখ্যা এবং বিজয়ের হার—উভয়ই নিম্নমুখী। এবার ১ হাজার ৯৮১ জন প্রার্থীর মধ্যে নারী ছিলেন মাত্র ৮১ জন, যা মোট প্রার্থীর মাত্র ৪ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ।

এর আগে ২০১৪ সালের দশম সংসদে ২৯ জন নারী প্রার্থীর মধ্যে ১৮ জন সরাসরি নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালে ৫৯ জন নারী প্রার্থীর মধ্যে জয়ী হন ১৯ জন। এর আগে ২০০১ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ৩৮ জন প্রার্থীর মধ্যে ৬ জন, ১৯৯৬ সালের জুনের নির্বাচনে ৩৮ জনের মধ্যে ৬ জন এবং একই বছরের ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ৩৬ জনের মধ্যে ৮ জন নারী জয়ী হয়েছিলেন। এ ছাড়া ১৯৯১ সালের পঞ্চম সংসদে ৩৯ জন নারী প্রার্থীর মধ্যে ৫ জন জয়ী হয়ে সংসদে যান।

এবারের নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিএনপি। বেসরকারিভাবে নির্বাচিত ৭ জন নারী সংসদ সদস্যের মধ্যে ৬ জনই বিএনপি মনোনীত প্রার্থী। অন্যজন বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।

বেসরকারিভাবে নির্বাচিত নারী প্রার্থীরা হলেন—
মানিকগঞ্জ-৩ : সাবেক মন্ত্রী হারুনুর রশীদ খান মুন্নুর কন্যা আফরোজা খান রিতা ১ লাখ ৬৭ হাজার ৩৪৫ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মুহাম্মদ সাঈদ নূর পেয়েছেন ৬৪ হাজার ২৪২ ভোট।

ফরিদপুর-২ : ধানের শীষ প্রতীকে শামা ওবায়েদ পেয়েছেন ১ লাখ ২১ হাজার ৬৯৪ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মো. আকরাম আলী পেয়েছেন ৮৯ হাজার ৩০৫ ভোট।

ফরিদপুর-৩ : বিএনপি প্রার্থী চৌধুরী নায়াব ইউসুফ কামাল ১ লাখ ৪৮ হাজার ৫৪৫ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মো. আবদুত তাওয়াব পেয়েছেন ১ লাখ ২৪ হাজার ১১৫ ভোট।

ঝালকাঠি-২ : ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো ১ লাখ ১৩ হাজার ৪১৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর এস এম নেয়ামুল করিম পেয়েছেন ৭০ হাজার ৫৫৬ ভোট।

সিলেট-২ : তাহসিনা রুশদীর লুনা পেয়েছেন ১ লাখ ১৭ হাজার ৯৫৬ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী খেলাফত মজলিসের মুনতাছির আলী পেয়েছেন ৩৮ হাজার ৬৩৫ ভোট।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ : বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হয়ে ‘হাঁস’ প্রতীকে স্বতন্ত্র নির্বাচন করা রুমিন ফারহানা ১ লাখ ১৮ হাজার ৫৪৭ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তিনি জোট মনোনীত প্রার্থী জুনায়েদ আল হাবিবের চেয়ে ৩৭ হাজার ৫৬৮ ভোট বেশি পেয়েছেন।

নাটোর-১ : বিএনপির ফারজানা শারমিন পুতুল ১ লাখ ২ হাজার ৭২৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর মো. আবুল কালাম আজাদ পেয়েছেন ৯০ হাজার ৫৬৮ ভোট।

 

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আলোচিত সংবাদ

জাতীয় সংসদে সরাসরি ভোটে নারী প্রতিনিধিত্ব আরও কমলো

Update Time : ০৬:১৬:১২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
12 / 100 SEO Score

জাতীয় সংসদে সরাসরি ভোটে নির্বাচিত নারী প্রতিনিধির সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাত্র সাতজন নারী প্রার্থী জয়ী হয়েছেন, যা সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৬৮ জন নারী প্রার্থীর মধ্যে ২২ জন এবং ২০২৪ সালের দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে ৯৬ জন নারী প্রার্থীর মধ্যে ১৯ জন বিজয়ী হয়েছিলেন।

দ্বাদশ সংসদ ভেঙে দেওয়ার প্রায় দেড় বছর পর অনুষ্ঠিত এই ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে নারী প্রার্থীর সংখ্যা এবং বিজয়ের হার—উভয়ই নিম্নমুখী। এবার ১ হাজার ৯৮১ জন প্রার্থীর মধ্যে নারী ছিলেন মাত্র ৮১ জন, যা মোট প্রার্থীর মাত্র ৪ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ।

এর আগে ২০১৪ সালের দশম সংসদে ২৯ জন নারী প্রার্থীর মধ্যে ১৮ জন সরাসরি নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালে ৫৯ জন নারী প্রার্থীর মধ্যে জয়ী হন ১৯ জন। এর আগে ২০০১ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ৩৮ জন প্রার্থীর মধ্যে ৬ জন, ১৯৯৬ সালের জুনের নির্বাচনে ৩৮ জনের মধ্যে ৬ জন এবং একই বছরের ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ৩৬ জনের মধ্যে ৮ জন নারী জয়ী হয়েছিলেন। এ ছাড়া ১৯৯১ সালের পঞ্চম সংসদে ৩৯ জন নারী প্রার্থীর মধ্যে ৫ জন জয়ী হয়ে সংসদে যান।

এবারের নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিএনপি। বেসরকারিভাবে নির্বাচিত ৭ জন নারী সংসদ সদস্যের মধ্যে ৬ জনই বিএনপি মনোনীত প্রার্থী। অন্যজন বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।

বেসরকারিভাবে নির্বাচিত নারী প্রার্থীরা হলেন—
মানিকগঞ্জ-৩ : সাবেক মন্ত্রী হারুনুর রশীদ খান মুন্নুর কন্যা আফরোজা খান রিতা ১ লাখ ৬৭ হাজার ৩৪৫ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মুহাম্মদ সাঈদ নূর পেয়েছেন ৬৪ হাজার ২৪২ ভোট।

ফরিদপুর-২ : ধানের শীষ প্রতীকে শামা ওবায়েদ পেয়েছেন ১ লাখ ২১ হাজার ৬৯৪ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মো. আকরাম আলী পেয়েছেন ৮৯ হাজার ৩০৫ ভোট।

ফরিদপুর-৩ : বিএনপি প্রার্থী চৌধুরী নায়াব ইউসুফ কামাল ১ লাখ ৪৮ হাজার ৫৪৫ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মো. আবদুত তাওয়াব পেয়েছেন ১ লাখ ২৪ হাজার ১১৫ ভোট।

ঝালকাঠি-২ : ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো ১ লাখ ১৩ হাজার ৪১৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর এস এম নেয়ামুল করিম পেয়েছেন ৭০ হাজার ৫৫৬ ভোট।

সিলেট-২ : তাহসিনা রুশদীর লুনা পেয়েছেন ১ লাখ ১৭ হাজার ৯৫৬ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী খেলাফত মজলিসের মুনতাছির আলী পেয়েছেন ৩৮ হাজার ৬৩৫ ভোট।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ : বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হয়ে ‘হাঁস’ প্রতীকে স্বতন্ত্র নির্বাচন করা রুমিন ফারহানা ১ লাখ ১৮ হাজার ৫৪৭ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তিনি জোট মনোনীত প্রার্থী জুনায়েদ আল হাবিবের চেয়ে ৩৭ হাজার ৫৬৮ ভোট বেশি পেয়েছেন।

নাটোর-১ : বিএনপির ফারজানা শারমিন পুতুল ১ লাখ ২ হাজার ৭২৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর মো. আবুল কালাম আজাদ পেয়েছেন ৯০ হাজার ৫৬৮ ভোট।