Dhaka ০৮:৩৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হামলা-হুমকিতে চিকিৎসকদের মধ্যে বাড়ছে উদ্বেগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
10 / 100 SEO Score

 

**** উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনসার সদস্য মোতায়েন
**** বড় হাসপাতালগুলোতে জরুরি অ্যালার্ম সিস্টেম চালু
**** স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের জন্য বিশেষ পুলিশ ক্যাম্প

দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকদের ওপর হামলা, হুমকি, অপমান এবং শারীরিক নির্যাতনের ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে চিকিৎসক সমাজের মধ্যে গভীর নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে এবং স্বাস্থ্যসেবার স্বাভাবিক পরিবেশ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। বিশেষ করে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে কর্মরত চিকিৎসকরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

চিকিৎসক ও হাসপাতাল সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতিনিয়ত কোথাও না কোথাও চিকিৎসকরা হয় শারীরিক হামলা, নয়তো মানসিক চাপ ও হুমকির মুখে পড়ছেন। যদিও সব ঘটনা প্রকাশ্যে আসে না, তবুও যেসব ঘটনা সামনে আসে সেগুলোই পরিস্থিতির ভয়াবহতা স্পষ্ট করে।

সাম্প্রতিক ঘটনায় আতঙ্ক বাড়ছে: সম্প্রতি শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের এক চিকিৎসকের ওপর কর্মস্থলে হামলার ঘটনা ঘটে, যা দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দেয়। একই সময়ে জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে এক চিকিৎসা কর্মকর্তাকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। এছাড়া দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চিকিৎসকদের মারধর, হেনস্তা এবং হুমকির একাধিক ঘটনা ঘটেছে।

চিকিৎসক সংগঠনগুলোর দাবি, এসব ঘটনার পেছনে হাসপাতালকেন্দ্রিক টেন্ডার সিন্ডিকেট, অবৈধ ক্লিনিক ব্যবসা, স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবশালী গোষ্ঠী এবং স্বার্থান্বেষী চক্র জড়িত থাকতে পারে। যদিও প্রশাসন বলছে বিষয়গুলো তদন্তাধীন, তবুও চিকিৎসকদের মধ্যে আস্থার সংকট আরও গভীর হচ্ছে।

চিকিৎসা ব্যবস্থায় প্রভাব পড়ছে: চিকিৎসকদের নিরাপত্তাহীনতা এখন সরাসরি দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করছে। অনেক চিকিৎসক জানিয়েছেন, তারা এখন আর ঝুঁকিপূর্ণ রোগীর চিকিৎসায় অতিরিক্ত দায়িত্ব নিতে চাইছেন না।

ফলে তুলনামূলক জটিল বা সংকটাপন্ন রোগীদের দ্রুত জেলা সদর হাসপাতাল বা বড় মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হচ্ছে। এতে রোগীদের সময় নষ্ট হচ্ছে, খরচ বাড়ছে এবং অনেক ক্ষেত্রে রোগীর শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি ঘটছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, অনেক ক্ষেত্রে উপজেলা পর্যায়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হলেও নিরাপত্তার অভাবে চিকিৎসকরা সেটি এড়িয়ে যাচ্ছেন। এর ফলে স্বাস্থ্যসেবার ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

স্থানীয় প্রভাব ও রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার অভিযোগ: একাধিক হাসপাতাল পরিচালকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দেশের উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসকদের ওপর হামলা ও হুমকির বেশিরভাগ ঘটনায় স্থানীয় প্রভাবশালী গোষ্ঠী বা রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।

তাদের মতে, কিছু গোষ্ঠী হাসপাতালের টেন্ডার, ওষুধ সরবরাহ, বেসরকারি ক্লিনিক পরিচালনা এবং বিভিন্ন আর্থিক স্বার্থের কারণে চিকিৎসকদের ওপর চাপ প্রয়োগ করে। যখন এসব স্বার্থে বাধা সৃষ্টি হয়, তখন চিকিৎসকদের লক্ষ্য করে হুমকি বা হামলার ঘটনা ঘটে।

চিকিৎসকরা অভিযোগ করেন, অনেক ঘটনার সঠিক তদন্ত ও বিচার না হওয়ায় অপরাধীরা সহজেই পার পেয়ে যাচ্ছে। ফলে একই ধরনের ঘটনা বারবার ঘটছে এবং চিকিৎসক সমাজ আরও বেশি অনিরাপদ হয়ে পড়ছে।

সরকারের অবস্থান ও নিরাপত্তা উদ্যোগ: চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলে জানা গেছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা অনুযায়ী, দেশের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে নিরাপত্তা জোরদারের জন্য আনসার সদস্য মোতায়েন করা হবে।

এছাড়া বড় সরকারি হাসপাতালগুলোতে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় ‘ইমার্জেন্সি অ্যালার্ম সিস্টেম’ বা দ্রুত সাড়া দেওয়ার ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রথম ধাপে এই ব্যবস্থা চালু করার কথা বলা হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনায় আরও রয়েছে মহাখালী এলাকায় স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের জন্য আলাদা পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন এবং হাসপাতালে জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত নিরাপত্তা সহায়তার জন্য ‘কোড ব্লু’ সিস্টেম চালু করা। এছাড়া উপজেলা পর্যায়ে ১০ জন আনসার সদস্য ও একজন প্লাটুন কমান্ডার নিয়োগের পরিকল্পনাও রয়েছে, যারা হাসপাতালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন।

চিকিৎসকদের সংগঠনের বক্তব্য: বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি)-এর এক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, দেশের হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ অত্যন্ত বেশি, কিন্তু সেই অনুপাতে চিকিৎসক ও অবকাঠামো নেই। ফলে চিকিৎসকদের ওপর কাজের চাপ যেমন বাড়ছে, তেমনি রোগীদের প্রত্যাশাও বাড়ছে।

তিনি বলেন, অনেক সময় রোগীর স্বজনরা পরিস্থিতি না বুঝেই চিকিৎসকদের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে পড়েন, বিশেষ করে রোগীর অবস্থা খারাপ হলে বা মৃত্যু ঘটলে। এতে চিকিৎসকদের নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে পড়ে যায়।

ড্যাব নেতারা বলছেন, একটি সংঘবদ্ধ চক্র দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। তাদের মতে, চিকিৎসকদের ওপর হামলা বাড়লে স্বাস্থ্যসেবার ওপর জনগণের আস্থা কমে যাবে এবং দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

রেফার প্রবণতা ও ভবিষ্যৎ ঝুঁকি: চিকিৎসকদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা বাড়ার কারণে ‘রেফার সংস্কৃতি’ও দ্রুত বাড়ছে। অর্থাৎ, স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার সুযোগ থাকলেও অনেক চিকিৎসক ঝুঁকি এড়াতে রোগীদের দ্রুত বড় হাসপাতালে পাঠিয়ে দিচ্ছেন।

এর ফলে বড় হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ আরও বেড়ে যাচ্ছে এবং গ্রামীণ পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবা দুর্বল হয়ে পড়ছে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, এই প্রবণতা চলতে থাকলে ভবিষ্যতে দেশের প্রাথমিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা কার্যত ভেঙে পড়তে পারে।

চিকিৎসক নেতারা বলছেন, শুধুমাত্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ালেই এই সংকট সমাধান হবে না। একই সঙ্গে হামলার ঘটনায় দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা, অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া এবং হাসপাতালগুলোতে একটি নিরাপদ কর্মপরিবেশ তৈরি করা জরুরি। তাদের মতে, চিকিৎসক ও রোগীর মধ্যে আস্থা পুনর্গঠন না হলে পুরো স্বাস্থ্যব্যবস্থা দীর্ঘমেয়াদে বড় ধরনের সংকটে পড়তে পারে।

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

হামলা-হুমকিতে চিকিৎসকদের মধ্যে বাড়ছে উদ্বেগ

Update Time : ০৮:৩৬:৩১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬
10 / 100 SEO Score

 

**** উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনসার সদস্য মোতায়েন
**** বড় হাসপাতালগুলোতে জরুরি অ্যালার্ম সিস্টেম চালু
**** স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের জন্য বিশেষ পুলিশ ক্যাম্প

দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকদের ওপর হামলা, হুমকি, অপমান এবং শারীরিক নির্যাতনের ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে চিকিৎসক সমাজের মধ্যে গভীর নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে এবং স্বাস্থ্যসেবার স্বাভাবিক পরিবেশ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। বিশেষ করে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে কর্মরত চিকিৎসকরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

চিকিৎসক ও হাসপাতাল সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতিনিয়ত কোথাও না কোথাও চিকিৎসকরা হয় শারীরিক হামলা, নয়তো মানসিক চাপ ও হুমকির মুখে পড়ছেন। যদিও সব ঘটনা প্রকাশ্যে আসে না, তবুও যেসব ঘটনা সামনে আসে সেগুলোই পরিস্থিতির ভয়াবহতা স্পষ্ট করে।

সাম্প্রতিক ঘটনায় আতঙ্ক বাড়ছে: সম্প্রতি শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের এক চিকিৎসকের ওপর কর্মস্থলে হামলার ঘটনা ঘটে, যা দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দেয়। একই সময়ে জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে এক চিকিৎসা কর্মকর্তাকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। এছাড়া দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চিকিৎসকদের মারধর, হেনস্তা এবং হুমকির একাধিক ঘটনা ঘটেছে।

চিকিৎসক সংগঠনগুলোর দাবি, এসব ঘটনার পেছনে হাসপাতালকেন্দ্রিক টেন্ডার সিন্ডিকেট, অবৈধ ক্লিনিক ব্যবসা, স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবশালী গোষ্ঠী এবং স্বার্থান্বেষী চক্র জড়িত থাকতে পারে। যদিও প্রশাসন বলছে বিষয়গুলো তদন্তাধীন, তবুও চিকিৎসকদের মধ্যে আস্থার সংকট আরও গভীর হচ্ছে।

চিকিৎসা ব্যবস্থায় প্রভাব পড়ছে: চিকিৎসকদের নিরাপত্তাহীনতা এখন সরাসরি দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করছে। অনেক চিকিৎসক জানিয়েছেন, তারা এখন আর ঝুঁকিপূর্ণ রোগীর চিকিৎসায় অতিরিক্ত দায়িত্ব নিতে চাইছেন না।

ফলে তুলনামূলক জটিল বা সংকটাপন্ন রোগীদের দ্রুত জেলা সদর হাসপাতাল বা বড় মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হচ্ছে। এতে রোগীদের সময় নষ্ট হচ্ছে, খরচ বাড়ছে এবং অনেক ক্ষেত্রে রোগীর শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি ঘটছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, অনেক ক্ষেত্রে উপজেলা পর্যায়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হলেও নিরাপত্তার অভাবে চিকিৎসকরা সেটি এড়িয়ে যাচ্ছেন। এর ফলে স্বাস্থ্যসেবার ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

স্থানীয় প্রভাব ও রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার অভিযোগ: একাধিক হাসপাতাল পরিচালকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দেশের উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসকদের ওপর হামলা ও হুমকির বেশিরভাগ ঘটনায় স্থানীয় প্রভাবশালী গোষ্ঠী বা রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।

তাদের মতে, কিছু গোষ্ঠী হাসপাতালের টেন্ডার, ওষুধ সরবরাহ, বেসরকারি ক্লিনিক পরিচালনা এবং বিভিন্ন আর্থিক স্বার্থের কারণে চিকিৎসকদের ওপর চাপ প্রয়োগ করে। যখন এসব স্বার্থে বাধা সৃষ্টি হয়, তখন চিকিৎসকদের লক্ষ্য করে হুমকি বা হামলার ঘটনা ঘটে।

চিকিৎসকরা অভিযোগ করেন, অনেক ঘটনার সঠিক তদন্ত ও বিচার না হওয়ায় অপরাধীরা সহজেই পার পেয়ে যাচ্ছে। ফলে একই ধরনের ঘটনা বারবার ঘটছে এবং চিকিৎসক সমাজ আরও বেশি অনিরাপদ হয়ে পড়ছে।

সরকারের অবস্থান ও নিরাপত্তা উদ্যোগ: চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলে জানা গেছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা অনুযায়ী, দেশের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে নিরাপত্তা জোরদারের জন্য আনসার সদস্য মোতায়েন করা হবে।

এছাড়া বড় সরকারি হাসপাতালগুলোতে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় ‘ইমার্জেন্সি অ্যালার্ম সিস্টেম’ বা দ্রুত সাড়া দেওয়ার ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রথম ধাপে এই ব্যবস্থা চালু করার কথা বলা হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনায় আরও রয়েছে মহাখালী এলাকায় স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের জন্য আলাদা পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন এবং হাসপাতালে জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত নিরাপত্তা সহায়তার জন্য ‘কোড ব্লু’ সিস্টেম চালু করা। এছাড়া উপজেলা পর্যায়ে ১০ জন আনসার সদস্য ও একজন প্লাটুন কমান্ডার নিয়োগের পরিকল্পনাও রয়েছে, যারা হাসপাতালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন।

চিকিৎসকদের সংগঠনের বক্তব্য: বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি)-এর এক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, দেশের হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ অত্যন্ত বেশি, কিন্তু সেই অনুপাতে চিকিৎসক ও অবকাঠামো নেই। ফলে চিকিৎসকদের ওপর কাজের চাপ যেমন বাড়ছে, তেমনি রোগীদের প্রত্যাশাও বাড়ছে।

তিনি বলেন, অনেক সময় রোগীর স্বজনরা পরিস্থিতি না বুঝেই চিকিৎসকদের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে পড়েন, বিশেষ করে রোগীর অবস্থা খারাপ হলে বা মৃত্যু ঘটলে। এতে চিকিৎসকদের নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে পড়ে যায়।

ড্যাব নেতারা বলছেন, একটি সংঘবদ্ধ চক্র দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। তাদের মতে, চিকিৎসকদের ওপর হামলা বাড়লে স্বাস্থ্যসেবার ওপর জনগণের আস্থা কমে যাবে এবং দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

রেফার প্রবণতা ও ভবিষ্যৎ ঝুঁকি: চিকিৎসকদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা বাড়ার কারণে ‘রেফার সংস্কৃতি’ও দ্রুত বাড়ছে। অর্থাৎ, স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার সুযোগ থাকলেও অনেক চিকিৎসক ঝুঁকি এড়াতে রোগীদের দ্রুত বড় হাসপাতালে পাঠিয়ে দিচ্ছেন।

এর ফলে বড় হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ আরও বেড়ে যাচ্ছে এবং গ্রামীণ পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবা দুর্বল হয়ে পড়ছে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, এই প্রবণতা চলতে থাকলে ভবিষ্যতে দেশের প্রাথমিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা কার্যত ভেঙে পড়তে পারে।

চিকিৎসক নেতারা বলছেন, শুধুমাত্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ালেই এই সংকট সমাধান হবে না। একই সঙ্গে হামলার ঘটনায় দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা, অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া এবং হাসপাতালগুলোতে একটি নিরাপদ কর্মপরিবেশ তৈরি করা জরুরি। তাদের মতে, চিকিৎসক ও রোগীর মধ্যে আস্থা পুনর্গঠন না হলে পুরো স্বাস্থ্যব্যবস্থা দীর্ঘমেয়াদে বড় ধরনের সংকটে পড়তে পারে।