Dhaka ০৬:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শাকসু নির্বাচন: সাড়ে ১২ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর মুক্ত উপাচার্য

সাধারণ শিক্ষার্থীরা জানান, দীর্ঘ ২৮ বছর পর আজ মঙ্গলবার সকাল ৯টায় শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) নির্বাচনে ভোট গ্রহণ শুরু হওয়ার কথা ছিল। তবে দুজন প্রার্থী ও একজন শিক্ষার্থীর করা রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট রুলসহ নির্বাচন চার সপ্তাহের জন্য স্থগিতের আদেশ দিয়েছেন।

নির্বাচন স্থগিতের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ছাত্রশিবির-সমর্থিত ‘দুর্বার সাস্টিয়ান ঐক্য’ প্যানেল, ‘সাধারণের ঐক্যস্বর’ প্যানেল, স্বতন্ত্র প্রার্থী ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের ক্ষুব্ধ একটা অংশ বেলা তিনটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনের সিলেট-সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধ করেন। নির্ধারিত সময়ে নির্বাচনের দাবিতে তাঁরা মিছিল করেন। এতে মহাসড়কের দুই পাশে তীব্র যানজট দেখা দেয়।

পরে বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা অবরোধ প্রত্যাহার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নেন। সেখানে তাঁরা নির্বাচনের দাবিতে একের পর এক স্লোগান দেন।

রাতে কয়েক দফায় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বৈঠক করে। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়া এবং চেম্বার আদালতের সিদ্ধান্তের পরদিন নির্বাচনের ভোট গ্রহণের আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে আন্দোলনকারীরা রাত একটার দিকে কর্মসূচি স্থগিতের ঘোষণা দেন। তবে আজ মঙ্গলবার সকাল ১০টায় নতুন কর্মসূচি দেওয়ার ঘোষণাও আন্দোলনকারীরা দিয়েছেন।

এদিকে শাকসু নির্বাচন নিয়ে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গতকাল জরুরি সিন্ডিকেট বৈঠক হয়। বৈঠক শেষে রাত ১০টার দিকে সিন্ডিকেট সদস্য জহির বিন আলম প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন থেকে চেম্বার আদালতে আপিল করা হয়েছে। আদালত আপিলের শুনানির সময় ও তারিখ কিছু জানাননি।’

প্রধান উপদেষ্টা ও শিক্ষা উপদেষ্টার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছেন জানিয়ে জহির বিন আলম বলেন, ‘আগামীকাল (আজ) সকালে আবার আবেদন করা হবে। চেম্বার আদালত সিদ্ধান্ত দিলে আমরা পরের দিনই নির্বাচন আয়োজন করব।’

এদিকে আন্দোলনকারী কয়েকজনের হাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মো. আশরাফ উদ্দিন ‘লাঞ্ছিত’ হওয়ার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে গতকাল রাতে বিবৃতি দিয়েছে ছাত্রদলের বিশ্ববিদ্যালয় শাখা। সংগঠনের সভাপতি রাহাত জামান ও সাধারণ সম্পাদক নাঈম সরকার এক বিবৃতিতে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসার দাবি জানিয়েছেন।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

আলোচিত সংবাদ

শাকসু নির্বাচন: সাড়ে ১২ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর মুক্ত উপাচার্য

Update Time : ০৯:০২:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬

সাধারণ শিক্ষার্থীরা জানান, দীর্ঘ ২৮ বছর পর আজ মঙ্গলবার সকাল ৯টায় শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) নির্বাচনে ভোট গ্রহণ শুরু হওয়ার কথা ছিল। তবে দুজন প্রার্থী ও একজন শিক্ষার্থীর করা রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট রুলসহ নির্বাচন চার সপ্তাহের জন্য স্থগিতের আদেশ দিয়েছেন।

নির্বাচন স্থগিতের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ছাত্রশিবির-সমর্থিত ‘দুর্বার সাস্টিয়ান ঐক্য’ প্যানেল, ‘সাধারণের ঐক্যস্বর’ প্যানেল, স্বতন্ত্র প্রার্থী ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের ক্ষুব্ধ একটা অংশ বেলা তিনটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনের সিলেট-সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধ করেন। নির্ধারিত সময়ে নির্বাচনের দাবিতে তাঁরা মিছিল করেন। এতে মহাসড়কের দুই পাশে তীব্র যানজট দেখা দেয়।

পরে বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা অবরোধ প্রত্যাহার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নেন। সেখানে তাঁরা নির্বাচনের দাবিতে একের পর এক স্লোগান দেন।

রাতে কয়েক দফায় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বৈঠক করে। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়া এবং চেম্বার আদালতের সিদ্ধান্তের পরদিন নির্বাচনের ভোট গ্রহণের আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে আন্দোলনকারীরা রাত একটার দিকে কর্মসূচি স্থগিতের ঘোষণা দেন। তবে আজ মঙ্গলবার সকাল ১০টায় নতুন কর্মসূচি দেওয়ার ঘোষণাও আন্দোলনকারীরা দিয়েছেন।

এদিকে শাকসু নির্বাচন নিয়ে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গতকাল জরুরি সিন্ডিকেট বৈঠক হয়। বৈঠক শেষে রাত ১০টার দিকে সিন্ডিকেট সদস্য জহির বিন আলম প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন থেকে চেম্বার আদালতে আপিল করা হয়েছে। আদালত আপিলের শুনানির সময় ও তারিখ কিছু জানাননি।’

প্রধান উপদেষ্টা ও শিক্ষা উপদেষ্টার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছেন জানিয়ে জহির বিন আলম বলেন, ‘আগামীকাল (আজ) সকালে আবার আবেদন করা হবে। চেম্বার আদালত সিদ্ধান্ত দিলে আমরা পরের দিনই নির্বাচন আয়োজন করব।’

এদিকে আন্দোলনকারী কয়েকজনের হাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মো. আশরাফ উদ্দিন ‘লাঞ্ছিত’ হওয়ার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে গতকাল রাতে বিবৃতি দিয়েছে ছাত্রদলের বিশ্ববিদ্যালয় শাখা। সংগঠনের সভাপতি রাহাত জামান ও সাধারণ সম্পাদক নাঈম সরকার এক বিবৃতিতে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসার দাবি জানিয়েছেন।