Dhaka ০৮:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

‘সীমান্তের ওপারে একটু বুদ্ধির প্রয়োজন’, ভারতীয় তারকার উদ্দেশ্যে সাকলাইন

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৯:১৫:২৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৬ Time View
12 / 100 SEO Score

দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশ ভারত-পাকিস্তান আগে থেকেই বিপরীতমুখী অবস্থানে ছিল। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচ বয়কট ইস্যুতে পাল্টাপাল্টি প্রতিক্রিয়ায় জড়ায় সাবেক ক্রিকেটাররা। সাধারণত এমন আলোচনায় দেখা যায় না পাকিস্তানের কিংবদন্তি সাকলাইন মুশতাককে। এবার তিনি তোপ দেগেছেন সাবেক ভারতীয় তারকার দিকে। অবশ্য কারও নাম উল্লেখ না করেই তিনি ক্ষোভ ঝেড়ে বলেন, ‘ক্রিকেটার হয়ে রাজনীতিবিদের মতো কথা বলছেন, আরও বিচক্ষণতা প্রয়োজন!’

গতকাল (সোমবার) ভারতের বিপক্ষে আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি হতে যাওয়া ম্যাচটি খেলার ঘোষণা দিয়েছে পাকিস্তান। এর আগে বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়ে ম্যাচ তারা বয়কটের ঘোষণা দিয়েছিল। পিসিবি ও বিসিবির সঙ্গে আইসিসির আলোচনায় পরিবর্তন এসেছে সেই সিদ্ধান্তে। বিশ্বকাপে ভারত-পাকিস্তানের হাইভোল্টেজ ম্যাচটি হবে শ্রীলঙ্কায় কলম্বোয়।

এদিকে, বিষয়টি সুরাহা হওয়ার আগপর্যন্ত পরস্পরবিরোধী অবস্থানে ছিলেন সাবেক ক্রিকেটাররা। সেই প্রসঙ্গ টেনে ‘গেম অন হ্যায়’ নামের এক অনুষ্ঠানে কিংবদন্তি স্পিনার সাকলাইন মুশতাক বলেন, ‘সম্প্রতি সাবেক এক ক্রিকেটার, তার নাম বলা ঠিক মনে করছি না– তাকে পাকিস্তান সম্মান ও মর্যাদার কথা বলছে কি না, সে বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল। উত্তরে তিনি বলেন, “দেখুন যাদের নিজেরই কোনো সম্মান নেই, তারা আবার সম্মানের কথা কীভাবে বলে?” আমি বলতে চাই, একটু সাধারণ বুদ্ধি ব্যবহার করুন! কী ধরনের সংকীর্ণ মানসিকতার কথা বলছেন? আপনি একজন সাবেক ক্রিকেটার। মানুষের খেলোয়াড়রা নায়ক ও তারকা, যারা সবার জন্যই আলো ছড়ায়। অন্তত নায়কের মতো আচরণ করার চেষ্টা করুন!’

ক্রিকেটারকে রাজনীতিবিদের ভূমিকায় দেখে কড়া সমালোচনা করেন সাবেক এই পাকিস্তানি তারকা, ‘রাজনীতিবিদরা তাদের রাজনীতি করবেন, সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু আপনারা (সাবেক ক্রিকেটাররা) এমন কথা বলবেন না। কেন বুঝতে পারছেন না? আপনি যখন চার মারেন বা উইকেট নেন, দুই দিকের মানুষই হাততালি দেয়। কিন্তু আপনারা যেন সেটা বুঝতেই চান না। আমি বলব– সীমান্তের ওপারে একটু বুদ্ধির প্রয়োজন, তাদের আরও বিচক্ষণভাবে কথা বলা উচিত।’

ভারতীয় কিংবদন্তি সুনীল গাভাস্কার থেকে শুরু করে হাল আমলের হরভজন-রাহানেরাও সমালোচনায় মুখর ছিলেন। সেই প্রসঙ্গ ধরে সাকলাইনের অভিযোগ– ‘ওপারের বড় বড় সাবেক ক্রিকেটাররাও অদ্ভুত কথা বলছেন, ঘৃণা ছড়াচ্ছেন। তারা খেলাটির উদ্দেশ্য বোঝেন না। ক্রিকেট শান্তি ও ঐক্যের বার্তা দেয়। মনে আছে, আমরা যখন আমেরিকায় “ক্রিকেট অল-স্টার্স” খেলতে গিয়েছিলাম, দর্শকরা দুই দেশের পতাকা সেলাই করে এক বিশাল পতাকা বানিয়েছিল। জোড়া লাগানো হয় ভারত-পাকিস্তানের পতাকা, যা নিয়ে পাশাপাশি দাঁড়িয়ে ছিল দু’দেশের সমর্থকরা।’

রাজনীতির অঙ্গনে যাই ঘটুক, মাঠে কিংবা বাইরে ভারত-পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের মাঝে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল। এখন কেন তা বৈরিতায় রূপ নিলো তারও ব্যাখ্যা দিয়েছেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রায় পাঁচশ উইকেটের মালিক সাকলাইন, ‘আমার মনে হয় না সেই পুরোনো পরিবেশ আর ফিরবে, কারণ পরিস্থিতি অনেক দূর গড়িয়েছে। ওপারের অংশ তা ফিরিয়ে আনতে চায় না, নিজেদের রাজনীতিকে শক্তিশালী করতে ইচ্ছাকৃতভাবে এমন অবস্থা বজায় রেখেছে এবং তা চালিয়ে যাবে। দেখুন অর্থ আসে এবং বণ্টন হয়। কিন্তু তারা মাঝেমধ্যে বেরিয়ে বলে, ‘আমরাই আয় করেছি, আইসিসিকে দিয়েছি; তোমরা খাচ্ছ, আমরা উপার্জন করছি। যেন অন্যদের কিছুই নেই! কয়েকদিন পরপর এমন কথা বলে, তাদের ঔদ্ধত্য দিন দিন বাড়ছে।’

 

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আলোচিত সংবাদ

‘সীমান্তের ওপারে একটু বুদ্ধির প্রয়োজন’, ভারতীয় তারকার উদ্দেশ্যে সাকলাইন

Update Time : ০৯:১৫:২৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
12 / 100 SEO Score

দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশ ভারত-পাকিস্তান আগে থেকেই বিপরীতমুখী অবস্থানে ছিল। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচ বয়কট ইস্যুতে পাল্টাপাল্টি প্রতিক্রিয়ায় জড়ায় সাবেক ক্রিকেটাররা। সাধারণত এমন আলোচনায় দেখা যায় না পাকিস্তানের কিংবদন্তি সাকলাইন মুশতাককে। এবার তিনি তোপ দেগেছেন সাবেক ভারতীয় তারকার দিকে। অবশ্য কারও নাম উল্লেখ না করেই তিনি ক্ষোভ ঝেড়ে বলেন, ‘ক্রিকেটার হয়ে রাজনীতিবিদের মতো কথা বলছেন, আরও বিচক্ষণতা প্রয়োজন!’

গতকাল (সোমবার) ভারতের বিপক্ষে আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি হতে যাওয়া ম্যাচটি খেলার ঘোষণা দিয়েছে পাকিস্তান। এর আগে বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়ে ম্যাচ তারা বয়কটের ঘোষণা দিয়েছিল। পিসিবি ও বিসিবির সঙ্গে আইসিসির আলোচনায় পরিবর্তন এসেছে সেই সিদ্ধান্তে। বিশ্বকাপে ভারত-পাকিস্তানের হাইভোল্টেজ ম্যাচটি হবে শ্রীলঙ্কায় কলম্বোয়।

এদিকে, বিষয়টি সুরাহা হওয়ার আগপর্যন্ত পরস্পরবিরোধী অবস্থানে ছিলেন সাবেক ক্রিকেটাররা। সেই প্রসঙ্গ টেনে ‘গেম অন হ্যায়’ নামের এক অনুষ্ঠানে কিংবদন্তি স্পিনার সাকলাইন মুশতাক বলেন, ‘সম্প্রতি সাবেক এক ক্রিকেটার, তার নাম বলা ঠিক মনে করছি না– তাকে পাকিস্তান সম্মান ও মর্যাদার কথা বলছে কি না, সে বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল। উত্তরে তিনি বলেন, “দেখুন যাদের নিজেরই কোনো সম্মান নেই, তারা আবার সম্মানের কথা কীভাবে বলে?” আমি বলতে চাই, একটু সাধারণ বুদ্ধি ব্যবহার করুন! কী ধরনের সংকীর্ণ মানসিকতার কথা বলছেন? আপনি একজন সাবেক ক্রিকেটার। মানুষের খেলোয়াড়রা নায়ক ও তারকা, যারা সবার জন্যই আলো ছড়ায়। অন্তত নায়কের মতো আচরণ করার চেষ্টা করুন!’

ক্রিকেটারকে রাজনীতিবিদের ভূমিকায় দেখে কড়া সমালোচনা করেন সাবেক এই পাকিস্তানি তারকা, ‘রাজনীতিবিদরা তাদের রাজনীতি করবেন, সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু আপনারা (সাবেক ক্রিকেটাররা) এমন কথা বলবেন না। কেন বুঝতে পারছেন না? আপনি যখন চার মারেন বা উইকেট নেন, দুই দিকের মানুষই হাততালি দেয়। কিন্তু আপনারা যেন সেটা বুঝতেই চান না। আমি বলব– সীমান্তের ওপারে একটু বুদ্ধির প্রয়োজন, তাদের আরও বিচক্ষণভাবে কথা বলা উচিত।’

ভারতীয় কিংবদন্তি সুনীল গাভাস্কার থেকে শুরু করে হাল আমলের হরভজন-রাহানেরাও সমালোচনায় মুখর ছিলেন। সেই প্রসঙ্গ ধরে সাকলাইনের অভিযোগ– ‘ওপারের বড় বড় সাবেক ক্রিকেটাররাও অদ্ভুত কথা বলছেন, ঘৃণা ছড়াচ্ছেন। তারা খেলাটির উদ্দেশ্য বোঝেন না। ক্রিকেট শান্তি ও ঐক্যের বার্তা দেয়। মনে আছে, আমরা যখন আমেরিকায় “ক্রিকেট অল-স্টার্স” খেলতে গিয়েছিলাম, দর্শকরা দুই দেশের পতাকা সেলাই করে এক বিশাল পতাকা বানিয়েছিল। জোড়া লাগানো হয় ভারত-পাকিস্তানের পতাকা, যা নিয়ে পাশাপাশি দাঁড়িয়ে ছিল দু’দেশের সমর্থকরা।’

রাজনীতির অঙ্গনে যাই ঘটুক, মাঠে কিংবা বাইরে ভারত-পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের মাঝে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল। এখন কেন তা বৈরিতায় রূপ নিলো তারও ব্যাখ্যা দিয়েছেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রায় পাঁচশ উইকেটের মালিক সাকলাইন, ‘আমার মনে হয় না সেই পুরোনো পরিবেশ আর ফিরবে, কারণ পরিস্থিতি অনেক দূর গড়িয়েছে। ওপারের অংশ তা ফিরিয়ে আনতে চায় না, নিজেদের রাজনীতিকে শক্তিশালী করতে ইচ্ছাকৃতভাবে এমন অবস্থা বজায় রেখেছে এবং তা চালিয়ে যাবে। দেখুন অর্থ আসে এবং বণ্টন হয়। কিন্তু তারা মাঝেমধ্যে বেরিয়ে বলে, ‘আমরাই আয় করেছি, আইসিসিকে দিয়েছি; তোমরা খাচ্ছ, আমরা উপার্জন করছি। যেন অন্যদের কিছুই নেই! কয়েকদিন পরপর এমন কথা বলে, তাদের ঔদ্ধত্য দিন দিন বাড়ছে।’