Dhaka ১১:১৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ছাত্রাবাসে মৃত্যু, বিচারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

জেলা প্রতিনিধি
12 / 100 SEO Score

 

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে ছাত্রাবাসে এক শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় জড়িতদের বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বিকেলে বিক্ষোভ মিছিল, সড়ক অবরোধ, মানববন্ধন ও থানা ঘেরাও কর্মসূচি পালন করে তারা। একই সময়ে নিহত শিক্ষার্থী মেহেদী হাসানের বাবা থানায় এজাহার দায়ের করেন।

জানা গেছে, দুপুর ২টার দিকে মেহেদী হত্যার বিচার চেয়ে রামগঞ্জ সরকারি কলেজ গেইট থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে শিক্ষার্থীরা। পরে শহরের চৌরাস্তা এলাকায় সড়ক অবরোধ করে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে লক্ষ্মীপুর-রামগঞ্জ-হাজীগঞ্জ ও রামগঞ্জ-চাটখিল সড়কে ঘণ্টাব্যাপী তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ নিয়ে রামগঞ্জ থানা ঘেরাও করে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত মেহেদী রামগঞ্জ উপজেলার সোনাপুর বাজার এলাকার ব্যবসায়ী জিয়া উদ্দিনের ছেলে এবং ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া একাডেমির অষ্টম শ্রেণির ছাত্র ছিল। সে প্রতিষ্ঠানটির আব্দুর রহমান ছাত্রাবাসে থাকত। গত মঙ্গলবার বিকেলে ছাত্রাবাস থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে দাবি করে রাতেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান গেইট ও অভ্যর্থনা কক্ষ ভাঙচুর করে উত্তেজিত এলাকাবাসী।

পরে পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ময়নাতদন্ত শেষে বুধবার বিকেলে মেহেদীর দাফন সম্পন্ন হয়। এর আগে ওই দিন দুপুরে নিহতের মরদেহ নিয়ে রামগঞ্জ থানা ঘেরাও করে এলাকাবাসী ও স্বজনেরা। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া একাডেমি ৭ দিনের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে বিবৃতি দেন প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ খন্দকার আব্দুল মান্নান।

মেহেদীর মা শারমিন আক্তার বলেন, একটি আইফোন হারিয়ে যাওয়ার ঘটনায় সন্দেহ করে আমার ছেলেসহ কয়েকজনকে মারধর করা হয়। ওই ঘটনার কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে। তাকে হত্যা করা হয়েছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।

নিহত মেহেদীর বাবা জিয়া উদ্দিন বলেন, এজাহার জমা দিতে আমাদের সময়ক্ষেপণ হয়েছে। পুলিশ আমাদের আশ্বস্ত করেছে, এ ঘটনায় জড়িতদের বিচারের আওতায় আনা হবে।

রামগঞ্জ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, বিকেলে ওই শিক্ষার্থীর বাবা বাদী হয়ে এজাহার জমা দিয়েছেন। দ্রুত সময়ের মধ্যে মামলা রুজু করা হবে। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের আশ্বাস দেন তিনি।

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

ছাত্রাবাসে মৃত্যু, বিচারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

Update Time : ১১:৫৪:৩৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬
12 / 100 SEO Score

 

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে ছাত্রাবাসে এক শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় জড়িতদের বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বিকেলে বিক্ষোভ মিছিল, সড়ক অবরোধ, মানববন্ধন ও থানা ঘেরাও কর্মসূচি পালন করে তারা। একই সময়ে নিহত শিক্ষার্থী মেহেদী হাসানের বাবা থানায় এজাহার দায়ের করেন।

জানা গেছে, দুপুর ২টার দিকে মেহেদী হত্যার বিচার চেয়ে রামগঞ্জ সরকারি কলেজ গেইট থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে শিক্ষার্থীরা। পরে শহরের চৌরাস্তা এলাকায় সড়ক অবরোধ করে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে লক্ষ্মীপুর-রামগঞ্জ-হাজীগঞ্জ ও রামগঞ্জ-চাটখিল সড়কে ঘণ্টাব্যাপী তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ নিয়ে রামগঞ্জ থানা ঘেরাও করে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত মেহেদী রামগঞ্জ উপজেলার সোনাপুর বাজার এলাকার ব্যবসায়ী জিয়া উদ্দিনের ছেলে এবং ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া একাডেমির অষ্টম শ্রেণির ছাত্র ছিল। সে প্রতিষ্ঠানটির আব্দুর রহমান ছাত্রাবাসে থাকত। গত মঙ্গলবার বিকেলে ছাত্রাবাস থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে দাবি করে রাতেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান গেইট ও অভ্যর্থনা কক্ষ ভাঙচুর করে উত্তেজিত এলাকাবাসী।

পরে পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ময়নাতদন্ত শেষে বুধবার বিকেলে মেহেদীর দাফন সম্পন্ন হয়। এর আগে ওই দিন দুপুরে নিহতের মরদেহ নিয়ে রামগঞ্জ থানা ঘেরাও করে এলাকাবাসী ও স্বজনেরা। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া একাডেমি ৭ দিনের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে বিবৃতি দেন প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ খন্দকার আব্দুল মান্নান।

মেহেদীর মা শারমিন আক্তার বলেন, একটি আইফোন হারিয়ে যাওয়ার ঘটনায় সন্দেহ করে আমার ছেলেসহ কয়েকজনকে মারধর করা হয়। ওই ঘটনার কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে। তাকে হত্যা করা হয়েছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।

নিহত মেহেদীর বাবা জিয়া উদ্দিন বলেন, এজাহার জমা দিতে আমাদের সময়ক্ষেপণ হয়েছে। পুলিশ আমাদের আশ্বস্ত করেছে, এ ঘটনায় জড়িতদের বিচারের আওতায় আনা হবে।

রামগঞ্জ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, বিকেলে ওই শিক্ষার্থীর বাবা বাদী হয়ে এজাহার জমা দিয়েছেন। দ্রুত সময়ের মধ্যে মামলা রুজু করা হবে। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের আশ্বাস দেন তিনি।