Dhaka ০২:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরান নয়, চুক্তিতে বেশি আগ্রহী ছিল যুক্তরাষ্ট্র: মোজতবা খামেনি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
8 / 100 SEO Score

 

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার নতুন সমঝোতা স্মারকটি মূলত তেহরানের আগ্রহে নয় বরং আমেরিকার চরম ব্যাকুলতা ও চাপের কারণে স্বাক্ষরিত হয়েছে বলে দাবি করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি তার আনুষ্ঠানিক বার্তায় সরাসরি উল্লেখ করেছেন যে, ‘আপনাদের যেমনটা জানানো হয়েছে, ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টদ্বয়ের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।’

তিনি স্পষ্ট করেন যে ইরানি কর্মকর্তারা এই কূটনৈতিক পর্যায়ে পৌঁছানোর জন্য অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করলেও মূলত মার্কিন পক্ষই এর জন্য সবচেয়ে বেশি মরিয়া ছিল এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট নিজে চরম উপায়হীন হয়ে এই চুক্তি সম্পন্ন করতে সব ধরনের কৌশলগত চাপ বা লিভারেজ ব্যবহার করেছেন।

নতুন এই দ্বিপাক্ষিক চুক্তি নিয়ে নিজের কিছুটা ভিন্নমতের কথা প্রকাশ করে সর্বোচ্চ নেতা জানান যে নীতিগতভাবে এই চুক্তির বিষয়ে তার ব্যক্তিগত কিছু আপত্তি বা ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি ছিল। তা সত্ত্বেও ইরানি জাতির ন্যায্য অধিকার ও প্রতিরোধ ফ্রন্টের স্বার্থ রক্ষা করার বিষয়ে দেশের প্রেসিডেন্টের দৃঢ় প্রতিশ্রুতির ওপর ভিত্তি করেই তিনি শেষ পর্যন্ত এই সমঝোতায় নিজের চূড়ান্ত অনুমতি দিয়েছেন।

আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি একই সঙ্গে ওয়াশিংটনকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন যে আমেরিকা যদি এই নির্ধারিত চুক্তির বাইরে গিয়ে অতিরিক্ত কোনো দাবি চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে, তবে ইরান কোনোভাবেই তা মেনে নেবে না এবং তাদের অন্যায্য দাবির কাছে মাথা নত করবে না। নিজেকে ইরানি জনগণের একজন বিনয়ী সেবক হিসেবে উল্লেখ করে তিনি দেশের সব নাগরিককে চুক্তির শর্তাবলী বাস্তবায়নের প্রতিটি ধাপ গভীর মনোযোগের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

প্যারিসের ঐতিহাসিক ভার্সাই প্রাসাদে জি-৭ শীর্ষ সম্মেলন সমাপ্ত হওয়ার পর ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর নৈশভোজের আসরে এই সমঝোতা স্মারকটি চূড়ান্তভাবে স্বাক্ষরিত হয়। ফরাসি প্রেসিডেন্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এই যুগান্তকারী অর্জনের কথা ঘোষণা করে লিখেছেন যে এই চুক্তিটি মূলত একটি দীর্ঘস্থায়ী শান্তির পথ উন্মুক্ত করে এবং বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিটি পুনরায় সচল করার সুযোগ তৈরি করে দেয়।

ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক নামে আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচিত এই দ্বিপাক্ষিক চুক্তির প্রধান শর্ত অনুযায়ী লেবাননসহ সব ধরনের সামরিক ফ্রন্টে অবিলম্বে এবং স্থায়ীভাবে সব ধরনের যুদ্ধবিগ্রহ ও অভিযান বন্ধ করার কথা বলা হয়েছে। চুক্তির আওতায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আগামী ৩০ দিনের মধ্যে ইরানের ওপর আরোপিত তাদের দীর্ঘদিনের নৌ অবরোধ সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করে নিতে সম্মত হয়েছে যাতে ওই অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল পূর্বের স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে।

এর পাশাপাশি চূড়ান্ত চুক্তি হওয়ার এক মাসের মধ্যে ইরান সীমান্তের আশপাশ থেকে ওয়াশিংটন তাদের সব সামরিক বাহিনী ও যুদ্ধজাহাজ প্রত্যাহার করে নেবে এবং এর জবাবে ইরানও আগামী ৬০ দিন বিনা মূল্যে সব বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ সহযোগিতা প্রদান করবে।

সূত্র: এনডিটিভি

 

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

ইরান নয়, চুক্তিতে বেশি আগ্রহী ছিল যুক্তরাষ্ট্র: মোজতবা খামেনি

Update Time : ১০:৩৭:৩৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬
8 / 100 SEO Score

 

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার নতুন সমঝোতা স্মারকটি মূলত তেহরানের আগ্রহে নয় বরং আমেরিকার চরম ব্যাকুলতা ও চাপের কারণে স্বাক্ষরিত হয়েছে বলে দাবি করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি তার আনুষ্ঠানিক বার্তায় সরাসরি উল্লেখ করেছেন যে, ‘আপনাদের যেমনটা জানানো হয়েছে, ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টদ্বয়ের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।’

তিনি স্পষ্ট করেন যে ইরানি কর্মকর্তারা এই কূটনৈতিক পর্যায়ে পৌঁছানোর জন্য অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করলেও মূলত মার্কিন পক্ষই এর জন্য সবচেয়ে বেশি মরিয়া ছিল এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট নিজে চরম উপায়হীন হয়ে এই চুক্তি সম্পন্ন করতে সব ধরনের কৌশলগত চাপ বা লিভারেজ ব্যবহার করেছেন।

নতুন এই দ্বিপাক্ষিক চুক্তি নিয়ে নিজের কিছুটা ভিন্নমতের কথা প্রকাশ করে সর্বোচ্চ নেতা জানান যে নীতিগতভাবে এই চুক্তির বিষয়ে তার ব্যক্তিগত কিছু আপত্তি বা ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি ছিল। তা সত্ত্বেও ইরানি জাতির ন্যায্য অধিকার ও প্রতিরোধ ফ্রন্টের স্বার্থ রক্ষা করার বিষয়ে দেশের প্রেসিডেন্টের দৃঢ় প্রতিশ্রুতির ওপর ভিত্তি করেই তিনি শেষ পর্যন্ত এই সমঝোতায় নিজের চূড়ান্ত অনুমতি দিয়েছেন।

আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি একই সঙ্গে ওয়াশিংটনকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন যে আমেরিকা যদি এই নির্ধারিত চুক্তির বাইরে গিয়ে অতিরিক্ত কোনো দাবি চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে, তবে ইরান কোনোভাবেই তা মেনে নেবে না এবং তাদের অন্যায্য দাবির কাছে মাথা নত করবে না। নিজেকে ইরানি জনগণের একজন বিনয়ী সেবক হিসেবে উল্লেখ করে তিনি দেশের সব নাগরিককে চুক্তির শর্তাবলী বাস্তবায়নের প্রতিটি ধাপ গভীর মনোযোগের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

প্যারিসের ঐতিহাসিক ভার্সাই প্রাসাদে জি-৭ শীর্ষ সম্মেলন সমাপ্ত হওয়ার পর ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর নৈশভোজের আসরে এই সমঝোতা স্মারকটি চূড়ান্তভাবে স্বাক্ষরিত হয়। ফরাসি প্রেসিডেন্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এই যুগান্তকারী অর্জনের কথা ঘোষণা করে লিখেছেন যে এই চুক্তিটি মূলত একটি দীর্ঘস্থায়ী শান্তির পথ উন্মুক্ত করে এবং বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিটি পুনরায় সচল করার সুযোগ তৈরি করে দেয়।

ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক নামে আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচিত এই দ্বিপাক্ষিক চুক্তির প্রধান শর্ত অনুযায়ী লেবাননসহ সব ধরনের সামরিক ফ্রন্টে অবিলম্বে এবং স্থায়ীভাবে সব ধরনের যুদ্ধবিগ্রহ ও অভিযান বন্ধ করার কথা বলা হয়েছে। চুক্তির আওতায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আগামী ৩০ দিনের মধ্যে ইরানের ওপর আরোপিত তাদের দীর্ঘদিনের নৌ অবরোধ সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করে নিতে সম্মত হয়েছে যাতে ওই অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল পূর্বের স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে।

এর পাশাপাশি চূড়ান্ত চুক্তি হওয়ার এক মাসের মধ্যে ইরান সীমান্তের আশপাশ থেকে ওয়াশিংটন তাদের সব সামরিক বাহিনী ও যুদ্ধজাহাজ প্রত্যাহার করে নেবে এবং এর জবাবে ইরানও আগামী ৬০ দিন বিনা মূল্যে সব বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ সহযোগিতা প্রদান করবে।

সূত্র: এনডিটিভি