Dhaka ০১:৫১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক নিয়ে মোদির নির্দেশনা

আর্ন্তজাতিক ডেস্ক
8 / 100 SEO Score

 

ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের চলমান টানাপোড়েনের মধ্যেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। মঙ্গলবার নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার বিষয়ে মোদির নির্দেশনা ও পরামর্শ নেন তিনি।দুদেশের জনগণের স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) অনুষ্ঠিত এই সাক্ষাতে দীনেশ ত্রিবেদী দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বহুমুখী ও দীর্ঘস্থায়ী বন্ধনকে আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নির্দেশনা ও পরামর্শ গ্রহণ করেন। ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, দুদেশের জনগণের স্বার্থকে কেন্দ্র করে গঠনমূলকভাবে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে তাদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে।

এর আগে গত দুই দিনে ঢাকায় উচ্চপর্যায়ের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন দীনেশ ত্রিবেদী। সোমবার তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে পৃথক সাক্ষাৎ করেন। তার আগের দিন রোববার পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে তার দীর্ঘ রুদ্ধদ্বার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। উল্লেখ্য, ঢাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণের দেড় মাসের মাথায় সোমবার প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পান তিনি।

এমন এক সময়ে ভারতীয় হাইকমিশনার দিল্লি সফরে গেলেন, যখন মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দিল্লিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার সুযোগ দেওয়াকে কেন্দ্র করে ঢাকার পক্ষ থেকে তীব্র অসন্তোষ জানানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের পর পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, শেখ হাসিনাকে দ্রুত প্রত্যর্পণের জন্য ভারতকে অনুরোধ করা হয়েছে। পাশাপাশি ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্তদেরও ফিরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা।

বর্তমানে দুদেশের সম্পর্কের টানাপোড়েনের কারণে আগামী সেপ্টেম্বরে দিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ভারতের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে দ্বিপাক্ষিক সফর ও ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হলেও বাংলাদেশ সরকার এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল মঙ্গলবার সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে নিশ্চিত করেছেন যে, আমন্ত্রণপত্রটি ইতিমধ্যে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশে ভারতের ১৬তম হাইকমিশনার হিসেবে গত এপ্রিলে নিয়োগ পান ভারতের সাবেক কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী ও প্রবীণ রাজনীতিবিদ দীনেশ ত্রিবেদী। দুদেশের সম্পর্কের ইতিহাসে এই প্রথম ভারত কোনো সাবেক মন্ত্রী বা রাজনীতিবিদকে হাইকমিশনার হিসেবে বাংলাদেশে পাঠিয়েছে। গত ৫ জুন স্থলসীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের পর ২৫ জুন তিনি পরিচয়পত্র পেশ করেন। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিককে হাইকমিশনার করে পাঠানো দুদেশের বর্তমান নাজুক পরিস্থিতি মোকাবিলায় ভারতের একটি কৌশলগত পদক্ষেপ। দীনেশ ত্রিবেদীর বর্তমান দিল্লি সফর ও মোদির সঙ্গে বৈঠকটি ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের আগামী দিনের রূপরেখা নির্ধারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

Tag :

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

five × 3 =

About Author Information

ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক নিয়ে মোদির নির্দেশনা

Update Time : ০৫:৫৪:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬
8 / 100 SEO Score

 

ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের চলমান টানাপোড়েনের মধ্যেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। মঙ্গলবার নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার বিষয়ে মোদির নির্দেশনা ও পরামর্শ নেন তিনি।দুদেশের জনগণের স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) অনুষ্ঠিত এই সাক্ষাতে দীনেশ ত্রিবেদী দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বহুমুখী ও দীর্ঘস্থায়ী বন্ধনকে আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নির্দেশনা ও পরামর্শ গ্রহণ করেন। ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, দুদেশের জনগণের স্বার্থকে কেন্দ্র করে গঠনমূলকভাবে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে তাদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে।

এর আগে গত দুই দিনে ঢাকায় উচ্চপর্যায়ের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন দীনেশ ত্রিবেদী। সোমবার তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে পৃথক সাক্ষাৎ করেন। তার আগের দিন রোববার পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে তার দীর্ঘ রুদ্ধদ্বার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। উল্লেখ্য, ঢাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণের দেড় মাসের মাথায় সোমবার প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পান তিনি।

এমন এক সময়ে ভারতীয় হাইকমিশনার দিল্লি সফরে গেলেন, যখন মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দিল্লিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার সুযোগ দেওয়াকে কেন্দ্র করে ঢাকার পক্ষ থেকে তীব্র অসন্তোষ জানানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের পর পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, শেখ হাসিনাকে দ্রুত প্রত্যর্পণের জন্য ভারতকে অনুরোধ করা হয়েছে। পাশাপাশি ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্তদেরও ফিরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা।

বর্তমানে দুদেশের সম্পর্কের টানাপোড়েনের কারণে আগামী সেপ্টেম্বরে দিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ভারতের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে দ্বিপাক্ষিক সফর ও ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হলেও বাংলাদেশ সরকার এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল মঙ্গলবার সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে নিশ্চিত করেছেন যে, আমন্ত্রণপত্রটি ইতিমধ্যে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশে ভারতের ১৬তম হাইকমিশনার হিসেবে গত এপ্রিলে নিয়োগ পান ভারতের সাবেক কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী ও প্রবীণ রাজনীতিবিদ দীনেশ ত্রিবেদী। দুদেশের সম্পর্কের ইতিহাসে এই প্রথম ভারত কোনো সাবেক মন্ত্রী বা রাজনীতিবিদকে হাইকমিশনার হিসেবে বাংলাদেশে পাঠিয়েছে। গত ৫ জুন স্থলসীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের পর ২৫ জুন তিনি পরিচয়পত্র পেশ করেন। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিককে হাইকমিশনার করে পাঠানো দুদেশের বর্তমান নাজুক পরিস্থিতি মোকাবিলায় ভারতের একটি কৌশলগত পদক্ষেপ। দীনেশ ত্রিবেদীর বর্তমান দিল্লি সফর ও মোদির সঙ্গে বৈঠকটি ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের আগামী দিনের রূপরেখা নির্ধারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।