Dhaka ০৩:৪৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

উচ্চশিক্ষার স্বপ্নপূরণ হবিগঞ্জের এই শিক্ষার্থীর, পেলেন ৭৪ লাখ টাকার বৃত্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক
8 / 100 SEO Score

 

চট্টগ্রামের এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনে (এইউডব্লিউ) পড়াশোনার জন্য প্রায় ৭৪ লাখ টাকার (৬০ হাজার মার্কিন ডলার) বৃত্তি পেয়েছেন হবিগঞ্জের শিক্ষার্থী জান্নাতুল ফেরদৌস (জেমি)। চার বছর মেয়াদি এ বৃত্তির আওতায় প্রতিবছর ১৫ হাজার মার্কিন ডলার করে পাবেন তিনি বলে জানা গেছে।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি কমিটির পরিচালক মৌরি রহমান চিঠি দিয়ে জান্নাতুলকে বৃত্তি পাওয়ার তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার জহুর চান বিবি মহিলা কলেজের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন জান্নাতুল। তার বাবা আফজল আলী শায়েস্তাগঞ্জের পশ্চিম লেঞ্জাপাড়ার বাসিন্দা। তিনি একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। পরিবারের নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও কলেজ কর্তৃপক্ষের সহায়তায় পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন জান্নাতুল।

এর আগে, গত বছর জহুর চান বিবি মহিলা কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন জেমি। এরপর গত ২০ জুলাই থেকে শেভরন বাংলাদেশের সহায়তায় পরিচালিত এক মাসের সামার স্কুল প্রোগ্রামে অংশ নেন। প্রোগ্রামটি সফলভাবে শেষ করার পর শেভরনের সহায়তায় এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পান তিনি।

বিজ্ঞানভিত্তিক ইংরেজি মাধ্যমের সামার স্কুলে অংশ নেওয়া জান্নাতুলের জন্য সহজ ছিল না। তবে নিজের আগ্রহ, পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে তিনি সফলভাবে প্রোগ্রামটি শেষ করেন।

এ বিষয়ে জান্নাতুল বলেন, ‘এ রকম একটি বৃত্তির কথা শুনে প্রথমে বিশ্বাস হচ্ছিল না। বারবার চিঠি পড়ে বিশ্বাস তৈরি করছিলাম। এখন নিজেকে প্রস্তুত করা শুরু করেছি। আমাকে আরও এগোতে হবে।’

পাশাপাশি আমি চাই, আরও শিক্ষার্থীরা এ বৃত্তি অর্জন করুক বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

জানা যায়, জান্নাতুলের বাবা আফজল আলী মেয়ের এ অর্জনে খুব খুশি। মেয়েকে পড়াশোনা করানোর মতো তার সামর্থ্য নেই উল্লেখ করে তিনি জানান, জান্নাতুল বৃত্তি পাওয়ায় তিনি চিন্তামুক্ত হয়েছেন। এখন তার মেয়ে ভালো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উচ্চশিক্ষা লাভ করবেন, এগিয়ে যাবে। তিনি মেয়েকে নিয়ে গর্ববোধ করেন।

এদিকে জেমির এই অর্জন দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণার দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করেন জহুর চান বিবি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন।

এসময় সদিচ্ছা, প্রচেষ্টা ও প্রতিভার সমন্বয় থাকলে যেকোনো প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করে কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব-জান্নাতুল তার প্রমাণ বলেও উল্লেখ করেন এই অধ্যক্ষ।

 

Tag :

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

9 − eight =

About Author Information

উচ্চশিক্ষার স্বপ্নপূরণ হবিগঞ্জের এই শিক্ষার্থীর, পেলেন ৭৪ লাখ টাকার বৃত্তি

Update Time : ০৪:১৮:১১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬
8 / 100 SEO Score

 

চট্টগ্রামের এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনে (এইউডব্লিউ) পড়াশোনার জন্য প্রায় ৭৪ লাখ টাকার (৬০ হাজার মার্কিন ডলার) বৃত্তি পেয়েছেন হবিগঞ্জের শিক্ষার্থী জান্নাতুল ফেরদৌস (জেমি)। চার বছর মেয়াদি এ বৃত্তির আওতায় প্রতিবছর ১৫ হাজার মার্কিন ডলার করে পাবেন তিনি বলে জানা গেছে।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি কমিটির পরিচালক মৌরি রহমান চিঠি দিয়ে জান্নাতুলকে বৃত্তি পাওয়ার তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার জহুর চান বিবি মহিলা কলেজের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন জান্নাতুল। তার বাবা আফজল আলী শায়েস্তাগঞ্জের পশ্চিম লেঞ্জাপাড়ার বাসিন্দা। তিনি একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। পরিবারের নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও কলেজ কর্তৃপক্ষের সহায়তায় পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন জান্নাতুল।

এর আগে, গত বছর জহুর চান বিবি মহিলা কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন জেমি। এরপর গত ২০ জুলাই থেকে শেভরন বাংলাদেশের সহায়তায় পরিচালিত এক মাসের সামার স্কুল প্রোগ্রামে অংশ নেন। প্রোগ্রামটি সফলভাবে শেষ করার পর শেভরনের সহায়তায় এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পান তিনি।

বিজ্ঞানভিত্তিক ইংরেজি মাধ্যমের সামার স্কুলে অংশ নেওয়া জান্নাতুলের জন্য সহজ ছিল না। তবে নিজের আগ্রহ, পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে তিনি সফলভাবে প্রোগ্রামটি শেষ করেন।

এ বিষয়ে জান্নাতুল বলেন, ‘এ রকম একটি বৃত্তির কথা শুনে প্রথমে বিশ্বাস হচ্ছিল না। বারবার চিঠি পড়ে বিশ্বাস তৈরি করছিলাম। এখন নিজেকে প্রস্তুত করা শুরু করেছি। আমাকে আরও এগোতে হবে।’

পাশাপাশি আমি চাই, আরও শিক্ষার্থীরা এ বৃত্তি অর্জন করুক বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

জানা যায়, জান্নাতুলের বাবা আফজল আলী মেয়ের এ অর্জনে খুব খুশি। মেয়েকে পড়াশোনা করানোর মতো তার সামর্থ্য নেই উল্লেখ করে তিনি জানান, জান্নাতুল বৃত্তি পাওয়ায় তিনি চিন্তামুক্ত হয়েছেন। এখন তার মেয়ে ভালো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উচ্চশিক্ষা লাভ করবেন, এগিয়ে যাবে। তিনি মেয়েকে নিয়ে গর্ববোধ করেন।

এদিকে জেমির এই অর্জন দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণার দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করেন জহুর চান বিবি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন।

এসময় সদিচ্ছা, প্রচেষ্টা ও প্রতিভার সমন্বয় থাকলে যেকোনো প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করে কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব-জান্নাতুল তার প্রমাণ বলেও উল্লেখ করেন এই অধ্যক্ষ।