Dhaka ০১:৫১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

থাইল্যান্ডে একযোগে ৫১ স্থানে হামলা-অগ্নিসংযোগ

আর্ন্তজাতিক ডেস্ক
8 / 100 SEO Score

 

এক রাতে একযোগে ৫১ স্থানে অগ্নিসংযোগ ও হামলার ঘটনা ঘটেছে থাইল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলে । এসব হামলায় অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন। শনিবার রাতের এই ঘটনায় কয়েকটি সরকারি কার্যালয়, যানবাহন ও অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রোববার দেশটির সামরিক বাহিনী এ তথ্য জানিয়েছে।

সবচেয়ে বেশি হামলা হয়েছে নারাথিওয়াত প্রদেশে। সেখানে সড়কের পাশে বোমা বিস্ফোরণে দুই নারী ও এক যুবক আহত হয়েছেন। তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং তিনজনের অবস্থা স্থিতিশীল আছে। হামলার পর প্রদেশটিতে রাতভর কারফিউ জারি করা হয়। পার্শ্ববর্তী ইয়ালা ও পাত্তানি প্রদেশেও হামলার ঘটনা ঘটেছে।

সামরিক বাহিনীর অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা অভিযান কমান্ড (আইএসওসি) জানায়, শনিবার রাত ৮টা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত দক্ষিণাঞ্চলের সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায় সমন্বিতভাবে হামলাগুলো চালানো হয়। এর উদ্দেশ্য ছিল ওই এলাকায় অস্থিরতা সৃষ্টি। তবে এখন পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী হামলার দায় স্বীকার করেনি।

সবচেয়ে বেশি হামলা হয়েছে নারাথিওয়াত প্রদেশে। সেখানে সড়কের পাশে বোমা বিস্ফোরণে দুই নারী ও এক যুবক আহত হয়েছেন। তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং অবস্থা স্থিতিশীল আছে। হামলার ঘটনায় রাতেই প্রদেশটিতে কারফিউ জারি করা হয়। একইদিন পার্শ্ববর্তী ইয়ালা ও পাত্তানি প্রদেশেও হামলার ঘটনা ঘটেছে।

স্থানীয় সম্প্রচারমাধ্যম থাই পিবিএসের ফুটেজে দেখা গেছে, হামলার পর সড়কে জ্বলতে থাকা টায়ার নেভাচ্ছেন দমকলকর্মীরা। একটি সেভেন-ইলেভেন দোকানেও আগুন জ্বলতে দেখা যায়। পরবর্তীতে নিরাপত্তা জোরদার করে বিভিন্ন যানবাহনে তল্লাশি চালায় পুলিশ।

হামলার কারণে নারাথিওয়াতের একটি রেলপথে সাময়িকভাবে ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। আইএসওসি জানিয়েছে, বোমা বিস্ফোরণে রেললাইনের ক্ষতি হওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এ ছাড়া স্থানীয় সরকারি কার্যালয়, টেলিযোগাযোগ টাওয়ার ও বিদ্যুতের খুঁটিও হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।

নারাথিওয়াতের একটি স্থানীয় প্রশাসনিক কার্যালয়ে হামলার সময় একটি গাড়ি চুরি করা হয়। পরে গাড়িটি পুড়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় সড়কে পাওয়া যায়।

পাত্তানি প্রদেশের একটি ক্ষতিগ্রস্ত পৌর কার্যালয় পরিদর্শনের পর দক্ষিণাঞ্চলের সেনা কমান্ডার নোরাথিপ পোইনক বলেন, হামলাকারীদের উদ্দেশ্য ছিল সরকারি স্থাপনা ধ্বংসের পাশাপাশি রাষ্ট্রের প্রতি জনগণের আস্থা দুর্বল করা। তিনি জানান, প্রায় দুই মাস আগে স্থানীয় সরকারি কার্যালয়গুলোতে হামলার আশঙ্কার বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্য পাওয়া গিয়েছিল। তবে হামলার সময় ও স্থান সম্পর্কে নির্দিষ্ট তথ্য ছিল না।

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

four × 2 =

About Author Information

থাইল্যান্ডে একযোগে ৫১ স্থানে হামলা-অগ্নিসংযোগ

Update Time : ০৫:৩২:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬
8 / 100 SEO Score

 

এক রাতে একযোগে ৫১ স্থানে অগ্নিসংযোগ ও হামলার ঘটনা ঘটেছে থাইল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলে । এসব হামলায় অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন। শনিবার রাতের এই ঘটনায় কয়েকটি সরকারি কার্যালয়, যানবাহন ও অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রোববার দেশটির সামরিক বাহিনী এ তথ্য জানিয়েছে।

সবচেয়ে বেশি হামলা হয়েছে নারাথিওয়াত প্রদেশে। সেখানে সড়কের পাশে বোমা বিস্ফোরণে দুই নারী ও এক যুবক আহত হয়েছেন। তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং তিনজনের অবস্থা স্থিতিশীল আছে। হামলার পর প্রদেশটিতে রাতভর কারফিউ জারি করা হয়। পার্শ্ববর্তী ইয়ালা ও পাত্তানি প্রদেশেও হামলার ঘটনা ঘটেছে।

সামরিক বাহিনীর অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা অভিযান কমান্ড (আইএসওসি) জানায়, শনিবার রাত ৮টা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত দক্ষিণাঞ্চলের সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায় সমন্বিতভাবে হামলাগুলো চালানো হয়। এর উদ্দেশ্য ছিল ওই এলাকায় অস্থিরতা সৃষ্টি। তবে এখন পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী হামলার দায় স্বীকার করেনি।

সবচেয়ে বেশি হামলা হয়েছে নারাথিওয়াত প্রদেশে। সেখানে সড়কের পাশে বোমা বিস্ফোরণে দুই নারী ও এক যুবক আহত হয়েছেন। তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং অবস্থা স্থিতিশীল আছে। হামলার ঘটনায় রাতেই প্রদেশটিতে কারফিউ জারি করা হয়। একইদিন পার্শ্ববর্তী ইয়ালা ও পাত্তানি প্রদেশেও হামলার ঘটনা ঘটেছে।

স্থানীয় সম্প্রচারমাধ্যম থাই পিবিএসের ফুটেজে দেখা গেছে, হামলার পর সড়কে জ্বলতে থাকা টায়ার নেভাচ্ছেন দমকলকর্মীরা। একটি সেভেন-ইলেভেন দোকানেও আগুন জ্বলতে দেখা যায়। পরবর্তীতে নিরাপত্তা জোরদার করে বিভিন্ন যানবাহনে তল্লাশি চালায় পুলিশ।

হামলার কারণে নারাথিওয়াতের একটি রেলপথে সাময়িকভাবে ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। আইএসওসি জানিয়েছে, বোমা বিস্ফোরণে রেললাইনের ক্ষতি হওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এ ছাড়া স্থানীয় সরকারি কার্যালয়, টেলিযোগাযোগ টাওয়ার ও বিদ্যুতের খুঁটিও হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।

নারাথিওয়াতের একটি স্থানীয় প্রশাসনিক কার্যালয়ে হামলার সময় একটি গাড়ি চুরি করা হয়। পরে গাড়িটি পুড়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় সড়কে পাওয়া যায়।

পাত্তানি প্রদেশের একটি ক্ষতিগ্রস্ত পৌর কার্যালয় পরিদর্শনের পর দক্ষিণাঞ্চলের সেনা কমান্ডার নোরাথিপ পোইনক বলেন, হামলাকারীদের উদ্দেশ্য ছিল সরকারি স্থাপনা ধ্বংসের পাশাপাশি রাষ্ট্রের প্রতি জনগণের আস্থা দুর্বল করা। তিনি জানান, প্রায় দুই মাস আগে স্থানীয় সরকারি কার্যালয়গুলোতে হামলার আশঙ্কার বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্য পাওয়া গিয়েছিল। তবে হামলার সময় ও স্থান সম্পর্কে নির্দিষ্ট তথ্য ছিল না।