মৃত্যুর খবর, যা আসলে গুজব
মৃত্যুর খবর, যা আসলে গুজব। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এমন খবরে মুহূর্তেই উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে ইলিয়াস কাঞ্চনের পরিবার, স্বজন ও ভক্তদের মাঝে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নিয়মিত চিকিৎসা প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বুধবার (২৬ আগস্ট) স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় লন্ডনে তার মস্তিষ্কের সিটি স্ক্যান ও এমআরআই পরীক্ষা করানোর কথা রয়েছে। এসব পরীক্ষার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে চিকিৎসকেরা তার পরবর্তী চিকিৎসাপদ্ধতি চূড়ান্ত করবেন। এই পরিস্থিতিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কোনো ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্যে কান না দেওয়ার জন্য দেশবাসী ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে পরিবার।
এদিকে ইলিয়াস কাঞ্চনকে নিয়ে ভিত্তিহীন মৃত্যুসংবাদ প্রচারের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে একটি যৌথ বিবৃতি দিয়েছে নিসচার কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এবং সারা দেশের প্রায় ১২০টি শাখা। বিবৃতিতে গুজবের মূল উৎস খুঁজে বের করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়েছে।
নিসচার মহাসচিব লিটন এরশাদ দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘“সবার আগে সংবাদ” দেওয়ার প্রতিযোগিতা কখনোই সত্য ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার বিকল্প হতে পারে না। একটি সংবাদ দ্রুত প্রকাশ করার চেয়ে সংবাদটি সত্য কি না, সেটি নিশ্চিত করা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’
সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ উল্লেখ করেন, মৃত্যু, দুর্ঘটনা কিংবা শারীরিক অসুস্থতার মতো সংবেদনশীল বিষয়ে যেকোনো তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট পরিবার বা নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে যাচাই করা নৈতিক দায়িত্ব। জীবিত একজন মানুষের মৃত্যুর অসত্য খবর তার পরিবার, স্বজন, সহকর্মী ও ভক্তদের মাঝে অহেতুক আতঙ্ক ও মানসিক বিপর্যয় ডেকে আনে। তথ্য যাচাই না করে তা ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়াকে চরম অনৈতিক ও অপরাধমূলক কাজ বলে আখ্যা দেন তারা।
উল্লেখ্য, দূরারোগ্য ব্রেন ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে ইলিয়াস কাঞ্চন গত বছরের এপ্রিল মাস থেকে লন্ডনে নিবিড় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গত বছরের আগস্টে সেখানে তার মস্তিষ্কে একটি জটিল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়, যার মাধ্যমে টিউমারের একটি বড় অংশ অপসারণ করা সম্ভব হয়েছিল। পরবর্তীতে বিভিন্ন ধাপে তিনি কেমোথেরাপি ও ওরালথেরাপি গ্রহণ করেন। দীর্ঘ চিকিৎসার মাঝে সাময়িক বিরতিতে সম্প্রতি তিনি ১০ দিনের জন্য দেশে এসেছিলেন।
এ সময় কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে নিজের গ্রামের বাড়িতে গিয়ে পূর্বপুরুষদের কবর জিয়ারত ছাড়াও নিসচার একটি আনুষ্ঠানিক কর্মসূচিতে অংশ নেন তিনি। কেমোথেরাপির ধাপ শেষে পরবর্তী প্রয়োজনীয় চিকিৎসার জন্য গত সপ্তাহে জামাতাকে সঙ্গে নিয়ে তিনি পুনরায় লন্ডনে পৌঁছান।















