Dhaka ১০:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করার বিনিময়ে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রস্তাব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
8 / 100 SEO Score

 

 

হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা এবং মধ্যপ্রাচ্যে প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর হামলা বন্ধের শর্তে ইরানের ওপর থেকে সব ধরনের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও সদ্যঘোষিত অর্থনৈতিক অবরোধ প্রত্যাহারের প্রস্তাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

চ্যানেল আল এরাবিয়ার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির সম্প্রতি তেহরান সফরকালে ওয়াশিংটনের এই প্রস্তাবটি ইরানি কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে দেন।

যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত ও প্রস্তাবিত ছাড়:
মূল শর্ত: বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি তেল পরিবহনের প্রধান জলপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে অবাধ জাহাজ চলাচলের নিশ্চয়তা দিতে হবে এবং আঞ্চলিক প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর আক্রমণ বন্ধ করতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি: এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র গত ২৪ আগস্ট মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টের ঘোষণা করা ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ স্থগিত বা বাতিল করবে, ইরানের ওপর থেকে যাবতীয় নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবে এবং ইরানি সমুদ্রবন্দরগুলোর ওপর থেকে চলমান নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার করবে।

সফরকালে পাকিস্তানি সেনাপ্রধান ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মহসেন রেজাইয়ের সাথে বৈঠক করেন। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার জুনে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের উপাদানগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করার অংশ হিসেবেই এই কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ইরানের অনড় অবস্থান:
যুক্তরাষ্ট্রের এই নতুন প্রস্তাবের বিপরীতে তেহরান এখনো তাদের পূর্বের দাবিতে অনড় রয়েছে। ইরান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ৩০০ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সমস্ত নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি প্রত্যাহার, আটকে থাকা ১০০ থেকে ১২৩ বিলিয়ন ডলারের ইরানি সম্পদ মুক্ত করা, নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়া, পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চল থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার এবং লেবানন ও গাজাসহ পুরো অঞ্চলে সার্বিক যুদ্ধবিরতি কার্যকরের দাবি জানিয়েছে তেহরান। রেজাই পাকিস্তানি সেনাপ্রধানকে জানিয়েছেন যে, তেহরান এ বিষয়ে তাদের অভ্যন্তরীণ আলোচনা চালিয়ে যাবে।

প্রেক্ষাপট ও বৈশ্বিক প্রতিক্রিয়া:
এর আগে গত ২৪ আগস্ট মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট ইরানের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর সেকেন্ডারি-নিষেধাজ্ঞা কর্মসূচি ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ উন্মোচন করেন। যার লক্ষ্য ছিল ইরানের অবশিষ্ট অর্থনৈতিক ভিত্তিগুলোকে স্তব্ধ করে দেওয়া। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের এই নতুন একতরফা নিষেধাজ্ঞার কারণে বেইজিং ইরানের সঙ্গে তাদের বিদ্যমান অর্থনৈতিক সম্পর্ক পরিবর্তন করবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে চীন। বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল এই জলপথ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রস্তাব ও শর্তের ব্যবধান দীর্ঘস্থায়ী সমঝোতার পথকে জটিল করে তুলেছে।

 

 

 

 

Tag :

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

fourteen + 16 =

About Author Information

হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করার বিনিময়ে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রস্তাব

Update Time : ০৪:২৩:৪৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬
8 / 100 SEO Score

 

 

হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা এবং মধ্যপ্রাচ্যে প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর হামলা বন্ধের শর্তে ইরানের ওপর থেকে সব ধরনের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও সদ্যঘোষিত অর্থনৈতিক অবরোধ প্রত্যাহারের প্রস্তাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

চ্যানেল আল এরাবিয়ার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির সম্প্রতি তেহরান সফরকালে ওয়াশিংটনের এই প্রস্তাবটি ইরানি কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে দেন।

যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত ও প্রস্তাবিত ছাড়:
মূল শর্ত: বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি তেল পরিবহনের প্রধান জলপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে অবাধ জাহাজ চলাচলের নিশ্চয়তা দিতে হবে এবং আঞ্চলিক প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর আক্রমণ বন্ধ করতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি: এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র গত ২৪ আগস্ট মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টের ঘোষণা করা ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ স্থগিত বা বাতিল করবে, ইরানের ওপর থেকে যাবতীয় নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবে এবং ইরানি সমুদ্রবন্দরগুলোর ওপর থেকে চলমান নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার করবে।

সফরকালে পাকিস্তানি সেনাপ্রধান ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মহসেন রেজাইয়ের সাথে বৈঠক করেন। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার জুনে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের উপাদানগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করার অংশ হিসেবেই এই কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ইরানের অনড় অবস্থান:
যুক্তরাষ্ট্রের এই নতুন প্রস্তাবের বিপরীতে তেহরান এখনো তাদের পূর্বের দাবিতে অনড় রয়েছে। ইরান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ৩০০ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সমস্ত নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি প্রত্যাহার, আটকে থাকা ১০০ থেকে ১২৩ বিলিয়ন ডলারের ইরানি সম্পদ মুক্ত করা, নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়া, পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চল থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার এবং লেবানন ও গাজাসহ পুরো অঞ্চলে সার্বিক যুদ্ধবিরতি কার্যকরের দাবি জানিয়েছে তেহরান। রেজাই পাকিস্তানি সেনাপ্রধানকে জানিয়েছেন যে, তেহরান এ বিষয়ে তাদের অভ্যন্তরীণ আলোচনা চালিয়ে যাবে।

প্রেক্ষাপট ও বৈশ্বিক প্রতিক্রিয়া:
এর আগে গত ২৪ আগস্ট মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট ইরানের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর সেকেন্ডারি-নিষেধাজ্ঞা কর্মসূচি ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ উন্মোচন করেন। যার লক্ষ্য ছিল ইরানের অবশিষ্ট অর্থনৈতিক ভিত্তিগুলোকে স্তব্ধ করে দেওয়া। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের এই নতুন একতরফা নিষেধাজ্ঞার কারণে বেইজিং ইরানের সঙ্গে তাদের বিদ্যমান অর্থনৈতিক সম্পর্ক পরিবর্তন করবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে চীন। বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল এই জলপথ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রস্তাব ও শর্তের ব্যবধান দীর্ঘস্থায়ী সমঝোতার পথকে জটিল করে তুলেছে।