Dhaka ০৬:৪৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাড়ে তিন মাস পর ৫ কোটি ডলার কিনলো বাংলাদেশ ব্যাংক

নিজস্ব প্রতিবেদক
8 / 100 SEO Score

 

বাজারে ডলারের সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় দাম কমার পরিপ্রেক্ষিতে প্রায় সাড়ে তিন মাস পর বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে নিলামের মাধ্যমে পাঁচ কোটি মার্কিন ডলার কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

গতকাল মঙ্গলবার চারটি ব্যাংক থেকে প্রতি ডলার ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা দরে এ ডলার কেনে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর আগে সর্বশেষ গত ২০ মে বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ডলার কিনেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সংশ্লিষ্টরা জানান, মঙ্গলবার সকালে বাজারে ডলারের দর তুলনামূলক কম ছিল। রেমিট্যান্স হাউজগুলো থেকে ব্যাংকগুলো ১২২ টাকা ৩০ থেকে ৪০ পয়সা দরে ডলার কিনেছে। আর আমদানি দায় বা এলসি নিষ্পত্তিতে দর ছিল ১২২ টাকা ৫০ থেকে ৬০ পয়সা।

তবে দুপুরের দিকে বাংলাদেশ ব্যাংক ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা দরে ডলার কেনার ঘোষণা দিলে বাজারে এর প্রভাব পড়ে। বিকেলে অনেক ব্যাংক একই দরে রেমিট্যান্সের ডলার কেনা এবং এলসি নিষ্পত্তি শুরু করে।

বাণিজ্যিক ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার মতে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ ডলার কেনার মধ্য দিয়ে বাজারে একটি বার্তা গেছে যে, ডলারের দর ১২২ টাকা ৭৫ পয়সার নিচে নামতে দেওয়া হবে না।

ব্যাংকারদের মতে, বর্তমানে ব্যাংকগুলোর হাতে ডলারের সরবরাহ পর্যাপ্ত। একই সময়ে আমদানি দায় পরিশোধের চাপও কিছুটা কমেছে। বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ দুর্বল থাকায় বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদাও কম। ফলে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বেশি থাকায় ডলারের দর নিম্নমুখী ছিল।

এর আগে গত সপ্তাহের শেষ দিকে ডলারের দর ১২৩ টাকা ৬৫ পয়সা পর্যন্ত উঠেছিল। আবার দুই সপ্তাহ আগে তা নেমে এসেছিল ১২২ টাকায়। ফলে গত কয়েক সপ্তাহে ডলারের দরে উল্লেখযোগ্য ওঠানামা দেখা যাচ্ছে।

এদিকে, আগামী মাসে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) কিছু অর্থ পরিশোধের সময় হওয়ায় ডলারের চাহিদা বাড়তে পারে বলে মনে করছেন ব্যাংকাররা।

জানা গেছে, মঙ্গলবার দুপুর ১টার দিকে বাংলাদেশ ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে ডলার কেনার বিষয়টি জানায়। সাধারণত কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডলার কেনার সিদ্ধান্ত নিলে সকালেই ব্যাংকগুলোকে তা জানানো হয়। ফলে সকালে ব্যাংকগুলো তুলনামূলক কম দরে বিভিন্ন ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের এলসি নিষ্পত্তি করে।

 

Tag :

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

4 × 4 =

About Author Information

সাড়ে তিন মাস পর ৫ কোটি ডলার কিনলো বাংলাদেশ ব্যাংক

Update Time : ০৬:৪৫:২৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
8 / 100 SEO Score

 

বাজারে ডলারের সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় দাম কমার পরিপ্রেক্ষিতে প্রায় সাড়ে তিন মাস পর বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে নিলামের মাধ্যমে পাঁচ কোটি মার্কিন ডলার কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

গতকাল মঙ্গলবার চারটি ব্যাংক থেকে প্রতি ডলার ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা দরে এ ডলার কেনে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর আগে সর্বশেষ গত ২০ মে বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ডলার কিনেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সংশ্লিষ্টরা জানান, মঙ্গলবার সকালে বাজারে ডলারের দর তুলনামূলক কম ছিল। রেমিট্যান্স হাউজগুলো থেকে ব্যাংকগুলো ১২২ টাকা ৩০ থেকে ৪০ পয়সা দরে ডলার কিনেছে। আর আমদানি দায় বা এলসি নিষ্পত্তিতে দর ছিল ১২২ টাকা ৫০ থেকে ৬০ পয়সা।

তবে দুপুরের দিকে বাংলাদেশ ব্যাংক ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা দরে ডলার কেনার ঘোষণা দিলে বাজারে এর প্রভাব পড়ে। বিকেলে অনেক ব্যাংক একই দরে রেমিট্যান্সের ডলার কেনা এবং এলসি নিষ্পত্তি শুরু করে।

বাণিজ্যিক ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার মতে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ ডলার কেনার মধ্য দিয়ে বাজারে একটি বার্তা গেছে যে, ডলারের দর ১২২ টাকা ৭৫ পয়সার নিচে নামতে দেওয়া হবে না।

ব্যাংকারদের মতে, বর্তমানে ব্যাংকগুলোর হাতে ডলারের সরবরাহ পর্যাপ্ত। একই সময়ে আমদানি দায় পরিশোধের চাপও কিছুটা কমেছে। বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ দুর্বল থাকায় বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদাও কম। ফলে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বেশি থাকায় ডলারের দর নিম্নমুখী ছিল।

এর আগে গত সপ্তাহের শেষ দিকে ডলারের দর ১২৩ টাকা ৬৫ পয়সা পর্যন্ত উঠেছিল। আবার দুই সপ্তাহ আগে তা নেমে এসেছিল ১২২ টাকায়। ফলে গত কয়েক সপ্তাহে ডলারের দরে উল্লেখযোগ্য ওঠানামা দেখা যাচ্ছে।

এদিকে, আগামী মাসে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) কিছু অর্থ পরিশোধের সময় হওয়ায় ডলারের চাহিদা বাড়তে পারে বলে মনে করছেন ব্যাংকাররা।

জানা গেছে, মঙ্গলবার দুপুর ১টার দিকে বাংলাদেশ ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে ডলার কেনার বিষয়টি জানায়। সাধারণত কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডলার কেনার সিদ্ধান্ত নিলে সকালেই ব্যাংকগুলোকে তা জানানো হয়। ফলে সকালে ব্যাংকগুলো তুলনামূলক কম দরে বিভিন্ন ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের এলসি নিষ্পত্তি করে।