Dhaka ০৩:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্ত্রীর কোনো অঙ্গকে যদি ‘তালাক’ বলা হয়, তাহলে কি তালাক কার্যকর হবে?

নিজস্ব প্রতিবেদক
8 / 100 SEO Score

 

স্ত্রীর কোনো নির্দিষ্ট অঙ্গকে উদ্দেশ্য করে ‘তালাক’ শব্দ উচ্চারণ করলে তালাক হবে কি না, তা নির্ভর করে ওই অঙ্গ দ্বারা পুরো শরীর বোঝানো হয় কি না এবং সমাজে প্রচলিত ভাষায় সেটি কীভাবে ব্যবহৃত হয় তার ওপর।

এ বিষয়ে একটি প্রশ্নের জবাবে মুহাম্মদপুর সাত মসজিদ জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়ার ফতোয়া বিভাগের নায়েবে মুফতি তাওহীদুল ইসলাম বিষয়টি ব্যাখ্যা করেছেন।

তাওহীদুল ইসলাম বলেন, যে অঙ্গের মাধ্যমে সাধারণত পুরো শরীর বোঝানো হয় না, সেই অঙ্গকে তালাকের সঙ্গে যুক্ত করে উচ্চারণ করলে তালাক পতিত হয় না। এ ধরনের অঙ্গের মধ্যে হাত, পা, আঙুল, জিহ্বা, ঠোঁট, কান ও নাকের মতো অঙ্গ রয়েছে। এসব অঙ্গ দিয়ে সাধারণভাবে পুরো শরীর বোঝানো হয় না।

তার ব্যাখ্যা অনুযায়ী, কেউ যদি স্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘তোমার হাত তালাক’, ‘তোমার পা তালাক’ কিংবা ‘তোমার ঠোঁট তালাক’, তাহলে শুধু এই কথাগুলো বলার কারণে তালাক পতিত হবে না।

তবে এর বিপরীত ক্ষেত্রে বিধান ভিন্ন। যে অঙ্গের মাধ্যমে পুরো শরীর বোঝানো হয়, সেই অঙ্গকে তালাকের সঙ্গে যুক্ত করে উচ্চারণ করলে তালাক পতিত হয়ে যাবে। উদাহরণ হিসেবে মাথা ও শরীরের কথা উল্লেখ করেছেন তিনি। অর্থাৎ কেউ যদি স্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘তোমার মাথা তালাক’ অথবা ‘তোমার শরীর তালাক’, তাহলে এসব কথা বলার মাধ্যমে তালাক পতিত হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।

তবে এ ক্ষেত্রেও সমাজের প্রচলিত ভাষা বা রীতির বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হবে। তাওহীদুল ইসলাম বলেন, কোনো সমাজে বা প্রচলিত ভাষায় কোনো নির্দিষ্ট অঙ্গ দিয়ে পুরো শরীর বোঝানোর রীতি থাকলে, সেই উরফ বা সমাজে প্রচলিত রীতির ভিত্তিতেই তালাকের বিধান নির্ধারিত হবে।

ফতোয়া বিভাগে করা প্রশ্নে এক ব্যক্তি তার পরিস্থিতি তুলে ধরে জানান, তিনি নতুন বিয়ে করেছেন। স্ত্রীকে চুমু দিতে গেলে তিনি বাধা দেন। এ সময় তিনি দুষ্টামি করে স্ত্রীকে বলেন, ‘তোমার ঠোঁটকে তালাক, তালাক, তালাক।’ পরে ওই কথা বলার বিষয়টি মনে করে তিনি ভয় ও কষ্টের মধ্যে ভুগছিলেন।

ওই ব্যক্তির প্রশ্নের জবাবে তাওহীদুল ইসলাম বলেন, বর্ণিত ঘটনায় স্বামী দুষ্টামির ছলে স্ত্রীকে ‘তোমার ঠোঁটকে তালাক, তালাক, তালাক’ বলেছেন। যেহেতু ঠোঁট এমন কোনো অঙ্গ নয়, যার মাধ্যমে সাধারণভাবে পুরো শরীর বোঝানো হয়, তাই এ ক্ষেত্রে প্রযোজ্য মূলনীতির ভিত্তিতে তালাক পতিত হয়নি। ফলে ওই ব্যক্তির এ নিয়ে ভয় পাওয়ার প্রয়োজন নেই।

তবে তালাকের শব্দ নিয়ে দুষ্টামি করা বা রাগ, ধমক কিংবা কাউকে ভয় দেখানোর উদ্দেশ্যে এ ধরনের শব্দ ব্যবহার না করার ব্যাপারে সতর্ক করেছেন তিনি।

তাওহীদুল ইসলাম বলেন, তালাকের শরীহ বা স্পষ্ট শব্দ স্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে উচ্চারণ করলে তালাক পতিত হয়ে যায়। এ ক্ষেত্রে দুষ্টামি, রাগ কিংবা ভয় দেখানোর উদ্দেশ্য দেখিয়ে তালাকের বিধান থেকে রেহাই পাওয়া যায় না। শরীহ তালাকের ক্ষেত্রে নিয়ত থাকা জরুরি নয়।

তাই ভবিষ্যতে কোনো পরিস্থিতিতেই দুষ্টামি, রাগ, ধমক বা ভয় দেখানোর উদ্দেশ্যে তালাকের শব্দ ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকতে হবে বলে পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

 

Tag :

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

eight − 8 =

About Author Information

স্ত্রীর কোনো অঙ্গকে যদি ‘তালাক’ বলা হয়, তাহলে কি তালাক কার্যকর হবে?

Update Time : ০১:৩৬:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
8 / 100 SEO Score

 

স্ত্রীর কোনো নির্দিষ্ট অঙ্গকে উদ্দেশ্য করে ‘তালাক’ শব্দ উচ্চারণ করলে তালাক হবে কি না, তা নির্ভর করে ওই অঙ্গ দ্বারা পুরো শরীর বোঝানো হয় কি না এবং সমাজে প্রচলিত ভাষায় সেটি কীভাবে ব্যবহৃত হয় তার ওপর।

এ বিষয়ে একটি প্রশ্নের জবাবে মুহাম্মদপুর সাত মসজিদ জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়ার ফতোয়া বিভাগের নায়েবে মুফতি তাওহীদুল ইসলাম বিষয়টি ব্যাখ্যা করেছেন।

তাওহীদুল ইসলাম বলেন, যে অঙ্গের মাধ্যমে সাধারণত পুরো শরীর বোঝানো হয় না, সেই অঙ্গকে তালাকের সঙ্গে যুক্ত করে উচ্চারণ করলে তালাক পতিত হয় না। এ ধরনের অঙ্গের মধ্যে হাত, পা, আঙুল, জিহ্বা, ঠোঁট, কান ও নাকের মতো অঙ্গ রয়েছে। এসব অঙ্গ দিয়ে সাধারণভাবে পুরো শরীর বোঝানো হয় না।

তার ব্যাখ্যা অনুযায়ী, কেউ যদি স্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘তোমার হাত তালাক’, ‘তোমার পা তালাক’ কিংবা ‘তোমার ঠোঁট তালাক’, তাহলে শুধু এই কথাগুলো বলার কারণে তালাক পতিত হবে না।

তবে এর বিপরীত ক্ষেত্রে বিধান ভিন্ন। যে অঙ্গের মাধ্যমে পুরো শরীর বোঝানো হয়, সেই অঙ্গকে তালাকের সঙ্গে যুক্ত করে উচ্চারণ করলে তালাক পতিত হয়ে যাবে। উদাহরণ হিসেবে মাথা ও শরীরের কথা উল্লেখ করেছেন তিনি। অর্থাৎ কেউ যদি স্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘তোমার মাথা তালাক’ অথবা ‘তোমার শরীর তালাক’, তাহলে এসব কথা বলার মাধ্যমে তালাক পতিত হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।

তবে এ ক্ষেত্রেও সমাজের প্রচলিত ভাষা বা রীতির বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হবে। তাওহীদুল ইসলাম বলেন, কোনো সমাজে বা প্রচলিত ভাষায় কোনো নির্দিষ্ট অঙ্গ দিয়ে পুরো শরীর বোঝানোর রীতি থাকলে, সেই উরফ বা সমাজে প্রচলিত রীতির ভিত্তিতেই তালাকের বিধান নির্ধারিত হবে।

ফতোয়া বিভাগে করা প্রশ্নে এক ব্যক্তি তার পরিস্থিতি তুলে ধরে জানান, তিনি নতুন বিয়ে করেছেন। স্ত্রীকে চুমু দিতে গেলে তিনি বাধা দেন। এ সময় তিনি দুষ্টামি করে স্ত্রীকে বলেন, ‘তোমার ঠোঁটকে তালাক, তালাক, তালাক।’ পরে ওই কথা বলার বিষয়টি মনে করে তিনি ভয় ও কষ্টের মধ্যে ভুগছিলেন।

ওই ব্যক্তির প্রশ্নের জবাবে তাওহীদুল ইসলাম বলেন, বর্ণিত ঘটনায় স্বামী দুষ্টামির ছলে স্ত্রীকে ‘তোমার ঠোঁটকে তালাক, তালাক, তালাক’ বলেছেন। যেহেতু ঠোঁট এমন কোনো অঙ্গ নয়, যার মাধ্যমে সাধারণভাবে পুরো শরীর বোঝানো হয়, তাই এ ক্ষেত্রে প্রযোজ্য মূলনীতির ভিত্তিতে তালাক পতিত হয়নি। ফলে ওই ব্যক্তির এ নিয়ে ভয় পাওয়ার প্রয়োজন নেই।

তবে তালাকের শব্দ নিয়ে দুষ্টামি করা বা রাগ, ধমক কিংবা কাউকে ভয় দেখানোর উদ্দেশ্যে এ ধরনের শব্দ ব্যবহার না করার ব্যাপারে সতর্ক করেছেন তিনি।

তাওহীদুল ইসলাম বলেন, তালাকের শরীহ বা স্পষ্ট শব্দ স্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে উচ্চারণ করলে তালাক পতিত হয়ে যায়। এ ক্ষেত্রে দুষ্টামি, রাগ কিংবা ভয় দেখানোর উদ্দেশ্য দেখিয়ে তালাকের বিধান থেকে রেহাই পাওয়া যায় না। শরীহ তালাকের ক্ষেত্রে নিয়ত থাকা জরুরি নয়।

তাই ভবিষ্যতে কোনো পরিস্থিতিতেই দুষ্টামি, রাগ, ধমক বা ভয় দেখানোর উদ্দেশ্যে তালাকের শব্দ ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকতে হবে বলে পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।