বাংলাদেশের আইসিটিতে চীনা প্রবেশ বাড়ছে
বাংলাদেশের দ্রুত সম্প্রসারিত তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) বাজারে চীনা প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর উপস্থিতি ক্রমেই বাড়ছে। টেলিযোগাযোগের গণ্ডি পেরিয়ে এখন ব্যাংকিং, ডেটা সেন্টার, সার্ভার, ক্লাউড ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অবকাঠামোয়ও প্রবেশ করছে তারা। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘদিনের শক্ত অবস্থানের কারণে বাজারটিতে তৈরি হচ্ছে নতুন প্রতিযোগিতা। এর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের রফতানি নিয়ন্ত্রণ ও জাতীয় নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিধিনিষেধ যুক্ত হওয়ায় বাংলাদেশের প্রযুক্তি খাতে ভূরাজনৈতিক হিসাবও ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ভেরিফায়েড মার্কেট রিসার্চের হিসাবে, ২০২৪ সালে বাংলাদেশের আইসিটি বাজারের আকার ছিল প্রায় ৮০০ কোটি ডলার। ২০৩২ সাল নাগাদ তা ২ হাজার কোটি ডলারে পৌঁছাতে পারে। বাজারটির বার্ষিক প্রবৃদ্ধি ২০২৬-৩২ সময়ে ১২ দশমিক ১ শতাংশ হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
দেশের ব্যাংকিং খাতে দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও ভারতের প্রযুক্তি ব্যবহৃত হচ্ছে। কোর ব্যাংকিংয়ে ওরাকলের ফ্লেক্সকিউব, টেমেনোসের টি২৪ ও ইনফোসিসের ফিনাকলসহ বিভিন্ন সমাধান রয়েছে। পাশাপাশি সার্ভার, প্রসেসর, স্টোরেজ ও নেটওয়ার্ক অবকাঠামোয় আইবিএম, ইনটেল, ডেল, এইচপিই ও সিসকোর প্রযুক্তি ব্যবহৃত হচ্ছে।
এ অবস্থায় চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোও ব্যাংকিং ও এন্টারপ্রাইজ প্রযুক্তির বাজারে প্রবেশের চেষ্টা করছে। হুয়াওয়ের প্রযুক্তি ইতোমধ্যে দেশের টেলিযোগাযোগ খাতে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির সমন্বিত ডেটা সেন্টার, ভার্চুয়ালাইজেশন ও ফ্ল্যাশ স্টোরেজ প্রযুক্তি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জেও ব্যবহৃত হচ্ছে বলে হুয়াওয়ের প্রকাশিত তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে চীনা প্রযুক্তির বিস্তারের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক বাণিজ্য চুক্তির কিছু শর্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। চুক্তিতে জাতীয় নিরাপত্তাসংবেদনশীল প্রযুক্তি, রফতানি নিয়ন্ত্রণ এবং সরবরাহ শৃঙ্খলের নিরাপত্তা নিয়ে সহযোগিতার কথা বলা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ তালিকায় থাকা প্রযুক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ব্যাংক ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভবিষ্যতে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হতে পারে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানিয়েছেন, স্যাংশনভুক্ত বা বিধিনিষেধের আওতায় থাকা কোম্পানি থেকে পণ্য কেনার ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোকে সতর্ক থাকতে নির্দেশনা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোনো একটি দেশ বা প্রযুক্তি সরবরাহকারীর ওপর অতিনির্ভরতা তৈরি হলে সফটওয়্যার, যন্ত্রাংশ, লাইসেন্স, কারিগরি সহায়তা ও নিষেধাজ্ঞাজনিত ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই স্থানীয় ডেটা সেন্টার, ক্লাউড সক্ষমতা, সাইবার নিরাপত্তা, স্বাধীন নিরাপত্তা নিরীক্ষা এবং প্রযুক্তি পরিবর্তনের সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
আগামী দিনে এআই অবকাঠামো ঘিরে এ প্রতিযোগিতা আরও বিস্তৃত হতে পারে। ফলে বাংলাদেশের জন্য প্রযুক্তি ব্যবহারে নিরাপত্তা, ব্যয়, সক্ষমতা ও সরবরাহের স্বাধীনতার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখাই হবে বড় চ্যালেঞ্জ।


























