Dhaka ০৮:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুদ্ধ বন্ধে নতুন উদ্যোগে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান

আর্ন্তজাতিক ডেস্ক
8 / 100 SEO Score

যুদ্ধ বন্ধে নতুন উদ্যোগে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান

সাত মাস ধরে চলা যুদ্ধ বন্ধে নতুন করে উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। এর অংশ হিসেবে মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে আলাদাভাবে আলোচনা করেছেন দুই দেশের কর্মকর্তারা। এর আগে যুদ্ধবিরতির দুটি উদ্যোগ ভেস্তে গেলেও এবার ইরানের সাত দিনের প্রস্তাবকে ঘিরে নতুন করে আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

সাত মাস ধরে চলা যুদ্ধ বন্ধের নতুন উদ্যোগের অংশ হিসেবে গতকাল মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে আলাদাভাবে আলোচনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তারা। দুই দেশের কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন। খবর রয়টার্স।

গত সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে সাত দিনের একটি প্রস্তাব উপস্থাপন করে ইরান। আলোচনার বিষয়ে অবগত এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পরবর্তী যেকোনো আলোচনা সেই প্রস্তাবের সংশোধিত সংস্করণ নিয়ে হতে পারে।

ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে ইরান যুদ্ধ শুরু হয়। এ যুদ্ধে কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন, যাদের বেশির ভাগই ইরান ও লেবাননের। একইসঙ্গে জ্বালানি তেল পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথগুলো অবরুদ্ধ হয়ে পড়ায় বিশ্ববাজারেও ব্যাপক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।

এর আগে এপ্রিল ও জুনে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে শান্তি আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান দুইবার যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল। তবে ওই দুই চুক্তিই দ্রুত ভেঙে পড়ে।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দেয়ার পর নিউইয়র্কে থেকে যাওয়া ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, সর্বশেষ যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল পুনরায় চালুর বিষয়ে ইরানের শর্তের ব্যাপারে তারা যুক্তরাষ্ট্রের জবাব পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা এ তথ্য জানিয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমেরিকানরা যদি দাবি করে যে তারা একটি চুক্তি বা শান্তিপূর্ণ সমাধান চায়, তাহলে আমরা সেই সমাধান উপস্থাপন করেছি।’

যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারাও মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে আলাদাভাবে কথা বলেছেন বলে গতকাল হোয়াইট হাউজে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি।

ইরানের সাত দিনের পরিকল্পনায় ইরান ও লেবাননে সব ধরনের শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ড বন্ধ, ইরানের কয়েকশ কোটি ডলারের সম্পদে স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার, ইরানি জ্বালানি তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং ইরানের বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ তুলে নেয়ার প্রস্তাব রয়েছে।

এর বিনিময়ে জ্বালানি তেলবাহী জাহাজ চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেয়ার অনুমতি দেবে তেহরান। পাশাপাশি দুই পক্ষ ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম জব্দ বা ধ্বংস করার বিষয়ে ট্রাম্পের ইচ্ছা নিয়েও আলোচনা আবার শুরু করবে।

গত শনিবার ট্রাম্প বলেন, তিনি ইরানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। তার দাবি, ইরান যে অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে রয়েছে, তাতে তারা দ্রুত একটি চুক্তি করতে চাইছে। তবে রোববার অ্যাক্সিওসকে ট্রাম্প বলেন, এ সপ্তাহে মার্কিন আলোচকদের আরো আলোচনায় অংশ নেয়ার প্রত্যাশা করছেন তিনি।

গত রোববার আরাকচি বলেন, মধ্যস্থতাকারীরা যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাখ্যানের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে ইরানকে জানায়নি। পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করার আগে ওয়াশিংটনের চূড়ান্ত অবস্থানের জন্য অপেক্ষা করছে তেহরান।

তিনি বলেন, ‘আমাদের শর্তগুলো স্পষ্ট এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেয়ার দিকে যেকোনো পদক্ষেপ এসব শর্ত পূরণের ওপর নির্ভরশীল।’

আরো বলেন, অচলাবস্থা নিরসনের একমাত্র উপায় হলো আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে পৌঁছানো।

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

10 − 6 =

About Author Information

যুদ্ধ বন্ধে নতুন উদ্যোগে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান

Update Time : ০৮:৪৭:১০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
8 / 100 SEO Score

যুদ্ধ বন্ধে নতুন উদ্যোগে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান

সাত মাস ধরে চলা যুদ্ধ বন্ধে নতুন করে উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। এর অংশ হিসেবে মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে আলাদাভাবে আলোচনা করেছেন দুই দেশের কর্মকর্তারা। এর আগে যুদ্ধবিরতির দুটি উদ্যোগ ভেস্তে গেলেও এবার ইরানের সাত দিনের প্রস্তাবকে ঘিরে নতুন করে আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

সাত মাস ধরে চলা যুদ্ধ বন্ধের নতুন উদ্যোগের অংশ হিসেবে গতকাল মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে আলাদাভাবে আলোচনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তারা। দুই দেশের কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন। খবর রয়টার্স।

গত সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে সাত দিনের একটি প্রস্তাব উপস্থাপন করে ইরান। আলোচনার বিষয়ে অবগত এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পরবর্তী যেকোনো আলোচনা সেই প্রস্তাবের সংশোধিত সংস্করণ নিয়ে হতে পারে।

ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে ইরান যুদ্ধ শুরু হয়। এ যুদ্ধে কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন, যাদের বেশির ভাগই ইরান ও লেবাননের। একইসঙ্গে জ্বালানি তেল পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথগুলো অবরুদ্ধ হয়ে পড়ায় বিশ্ববাজারেও ব্যাপক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।

এর আগে এপ্রিল ও জুনে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে শান্তি আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান দুইবার যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল। তবে ওই দুই চুক্তিই দ্রুত ভেঙে পড়ে।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দেয়ার পর নিউইয়র্কে থেকে যাওয়া ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, সর্বশেষ যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল পুনরায় চালুর বিষয়ে ইরানের শর্তের ব্যাপারে তারা যুক্তরাষ্ট্রের জবাব পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা এ তথ্য জানিয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমেরিকানরা যদি দাবি করে যে তারা একটি চুক্তি বা শান্তিপূর্ণ সমাধান চায়, তাহলে আমরা সেই সমাধান উপস্থাপন করেছি।’

যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারাও মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে আলাদাভাবে কথা বলেছেন বলে গতকাল হোয়াইট হাউজে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি।

ইরানের সাত দিনের পরিকল্পনায় ইরান ও লেবাননে সব ধরনের শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ড বন্ধ, ইরানের কয়েকশ কোটি ডলারের সম্পদে স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার, ইরানি জ্বালানি তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং ইরানের বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ তুলে নেয়ার প্রস্তাব রয়েছে।

এর বিনিময়ে জ্বালানি তেলবাহী জাহাজ চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেয়ার অনুমতি দেবে তেহরান। পাশাপাশি দুই পক্ষ ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম জব্দ বা ধ্বংস করার বিষয়ে ট্রাম্পের ইচ্ছা নিয়েও আলোচনা আবার শুরু করবে।

গত শনিবার ট্রাম্প বলেন, তিনি ইরানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। তার দাবি, ইরান যে অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে রয়েছে, তাতে তারা দ্রুত একটি চুক্তি করতে চাইছে। তবে রোববার অ্যাক্সিওসকে ট্রাম্প বলেন, এ সপ্তাহে মার্কিন আলোচকদের আরো আলোচনায় অংশ নেয়ার প্রত্যাশা করছেন তিনি।

গত রোববার আরাকচি বলেন, মধ্যস্থতাকারীরা যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাখ্যানের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে ইরানকে জানায়নি। পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করার আগে ওয়াশিংটনের চূড়ান্ত অবস্থানের জন্য অপেক্ষা করছে তেহরান।

তিনি বলেন, ‘আমাদের শর্তগুলো স্পষ্ট এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেয়ার দিকে যেকোনো পদক্ষেপ এসব শর্ত পূরণের ওপর নির্ভরশীল।’

আরো বলেন, অচলাবস্থা নিরসনের একমাত্র উপায় হলো আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে পৌঁছানো।