আবাসন সংকটে স্পেনে গণবিক্ষোভ
ক্রমবর্ধমান আবাসন সংকট ও বাড়তে থাকা ভাড়ার প্রতিবাদে স্পেনজুড়ে রাজপথে নেমেছেন হাজার হাজার মানুষ। রাজধানী মাদ্রিদসহ প্রায় ৫০টি শহরে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ থেকে সরকারকে আবাসন সংকট মোকাবেলায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
ক্রমবর্ধমান আবাসন সংকট মোকাবেলায় সরকারের পদক্ষেপ ব্যর্থ হওয়ার পর স্পেনের বিভিন্ন শহরে রাস্তায় নেমেছেন কয়েক লাখ মানুষ। গতকাল রাজধানী মাদ্রিদসহ প্রায় ৫০টি শহরে বিক্ষোভ করেন তারা। বিক্ষোভকারীরা আবাসন সংকট মোকাবেলায় কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানান। এসময় অনেকের হাতে সাধারণ ধর্মঘটের আহ্বানসংবলিত পোস্টারও দেখা যায়। খবর দ্য গার্ডিয়ান।
দেশটির পার্লামেন্টে গত শুক্রবার আবাসন সংকট মোকাবেলায় সরকারের প্রস্তাবিত পদক্ষেপগুলো প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর এ বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। সম্প্রতি মাদ্রিদে ৮৭ বছর বয়সী এক নারীকে উচ্ছেদ এবং বাড়িভাড়া বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন আবাসন সমস্যাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে ক্ষোভ বাড়ছিল।
কর্তৃপক্ষের হিসাবে শনিবারের বিক্ষোভে অংশ নেন ৭০ হাজার মানুষ। তবে আয়োজকদের দাবি, অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ছিল ৫ লাখ।
মাদ্রিদে বিক্ষোভে অংশ নেয়া ২৬ বছর বয়সী নান্দো দে আঙ্গুলো বলেন, ‘এটা লজ্জার। এতে শুধু প্রমাণ হয়, জনগণকেই রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে মানিয়ে নিতে হচ্ছে; জনগণ কী চায়, তার সঙ্গে রাজনীতিকদের মানিয়ে নিতে হচ্ছে না। এভাবে চলতে পারে না।’
প্রস্তাবিত আবাসন আইন পার্লামেন্টে পাস না হওয়ায় স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ নভেম্বরে আগাম নির্বাচন দিতে পারেন বলে দেশটির গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ হয়। বিক্ষোভ কতটা বড় হয়, তা দেখে তিনি এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
আবাসন সংকট নিয়ে বিক্ষোভ দেশটির জাতীয় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে। এতে সানচেজের চাপে থাকা সরকারের প্রতি নতুন করে মনোযোগ তৈরি হয়েছে এবং সেউতার সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব থেকে আলোচনার কেন্দ্র কিছুটা সরে গেছে।
বিক্ষোভের বেশির ভাগই শান্তিপূর্ণ ছিল। তবে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় শহর ভ্যালেন্সিয়ায় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ রাবার বুলেট ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে।
প্রায় ৩০ জন বিক্ষোভকারী শহরের বিখ্যাত সাংস্কৃতিক স্থাপনা সিটি অব আর্টস অ্যান্ড সায়েন্সেসের ভেতরে ঢুকে পড়েন। পরে পুলিশ তাদের সেখান থেকে বের করে দেয়।
মাদ্রিদের বিক্ষোভে অংশ নেয়া ৩১ বছর বয়সী সৌর প্যানেল স্থাপনকারী কর্মী হাভিয়ের বলেন, ‘আমরা একটি মৌলিক অধিকারের দাবি জানাচ্ছি—মানসম্মত আবাসন, স্থিতিশীলতা এবং এমন পরিস্থিতি, যেখানে আমরা একটি সুন্দর জীবন গড়ে তুলতে পারি।’
তিনি বলেন, ‘আমি বেতনের অর্ধেক একটি ছোট ঘরের পেছনে খরচ করি।’
বিক্ষোভ আয়োজনকারী টেন্যান্টস ইউনিয়নের অন্যতম মুখপাত্র ভ্যালেরিয়া রাকু এক বিবৃতিতে বলেন, ‘রাস্তায় আমরা যে নতুন শক্তি অনুভব করছি, দীর্ঘদিনে এমনটা দেখা যায়নি। এই শক্তি দেখাচ্ছে, জনগণের আট দিনের শক্তি আট বছরের প্রগতিশীল সরকারের চেয়েও বেশি কিছু অর্জন করতে পারে।’
তিনি বলেন, ‘এখন শুরু হচ্ছে প্রকৃত রাজনীতি—যে রাজনীতি সবসময় জনগণের ছিল এবং যা শেষ পর্যন্ত আবার রাস্তায় ফিরে আসবে।’
শুক্রবার পেদ্রো সানচেজের নেতৃত্বাধীন সোশ্যালিস্ট জোট আবাসন সুবিধা বাড়াতে দুটি ডিক্রি পার্লামেন্টে উপস্থাপন করে। এসব প্রস্তাবের মধ্যে ২০৩০ সাল পর্যন্ত উচ্ছেদ বন্ধ রাখা এবং অস্থায়ী ভাড়া ও কক্ষভিত্তিক ভাড়া নিয়ন্ত্রণের মতো পদক্ষেপ ছিল।
আবাসন ব্যয় ক্রমাগত বেড়ে যাওয়ার ক্ষোভ গত মাসের শেষ দিকে চরমে পৌঁছায়। ওই সময় ৮৭ বছর বয়সী মারিকারমেন আবাসকালকে তার ৭০ বছর ধরে বসবাস করা বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করা হয়। হুইলচেয়ারে চলাফেরা করা ওই নারী বলেন, তার অ্যাপার্টমেন্ট কিনে নেয়া একটি বিনিয়োগ তহবিল ২৩০ শতাংশ ভাড়া বাড়ানোর দাবি করেছিল, যা তার পক্ষে পরিশোধ করা সম্ভব ছিল না।




















