পদ্মা ও তিস্তায় ব্যারাজ নির্মাণের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর
পানির সংকট দূর করা এবং বাংলাদেশের পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করতে পদ্মা ও তিস্তা নদীতে ব্যারাজ নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন ও নদী সংস্কারের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে রাজশাহী নগরীর ঐতিহাসিক মাদরাসা মাঠে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, পানির সমস্যা যারা তৈরি করেছে তাদের সাথে আমরা কথা বলব। দরকার হলে বাংলাদেশের মানুষের পানির হিস্যা আদায় করার জন্য যতদূর আমাদেরকে যেতে হয় আমরা চেষ্টা করব। ততদূর যেতে, কিন্তু ইনশাআল্লাহ বাংলাদেশের পানির হিস্যা আমরা নিয়ে আসার চেষ্টা করব। আমরা এই পদ্মা ব্যারাজ এবং তিস্তা ব্যারাজের কাজ শুরু করব এবং শেষও করব ইনশাআল্লাহ।
তারেক রহমান বলেন, সমগ্র দেশে আমরা আবার খাল খনন এবং নদী সংস্কার বা নদী খনন কর্মসূচি শুরু করব। আল্লাহর রহমতে আমরা সেই কাজও শুরু করেছি। আগামী পাঁচ বছর আমরা ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করব। এর মধ্যে প্রায় ৮০০ কিলোমিটার খাল গত আট মাসে আমরা খনন কার্য সম্পন্ন করেছি। এই কাজ করার মাধ্যমে একদিকে যেরকম কৃষক ভাইয়েরা পানির সুবিধা পাবে। সেচের সুবিধা পাবে। রাজশাহীর মানুষ জানে কিভাবে এখানকার ভূগর্ভস্থ পানি কত নিচে নেমে গিয়েছে। বহু মানুষের সেই জন্য পানির কষ্ট সেই পানিও ধীরে ধীরে আবার রিচার্জ হবে এখানে।
তিনি বলেন, একটি মহল বিভিন্ন রকম বিভ্রান্তি তৈরি করার চেষ্টা করছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখানে অনেক ব্যবসায়ী আছেন জনসভার মধ্যে। ছোটখাটো মাঝারি বড় অনেক ব্যবসায়ী আছেন। একটি নরমাল কথা- যদি আপনার একটি দোকান থাকে দোকানের সামনে যদি আপনার কোন রকমের সমস্যা হয়, কোনো রকমের হইচই বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়ে যায় সেদিন কি আপনার বনি (ব্যবসা) ভালো হবে? বিএনপি সরকার দেশে স্থিতিশীলতা আনতে চেষ্টা করছে। দেশে নিরাপত্তা বৃদ্ধির চেষ্টা করছে। বিএনপি সরকার চাইছে বন্ধ মিল কারখানাগুলো চালু করতে। বিএনপি সরকার চাইছে কৃষকদেরকে স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে। বিএনপি সরকার চাইছে শ্রমিক ভাইদেরকে দক্ষতা বৃদ্ধি করার মাধ্যমে দেশে হোক বিদেশে হোক কর্মসংস্থান তৈরি করার চেষ্টা করতে।
তিনি বলেন, বিএনপি চাইছে বেকারত্বের যে অভিশাপ সেটি ধীরে ধীরে কমিয়ে আনার চেষ্টা করতে। কিন্তু আমরা দেখেছি কতগুলো মানুষ, একটি বিশেষ দল, কতগুলো দলকে সাথে নিয়ে তারা রাস্তায়-রাজপথের মধ্যে বিশৃঙ্খলা তৈরি করার চেষ্টা করছে। আমরা দেশি উদ্যোক্তাদেরকে উৎসাহ দিয়ে আনার চেষ্টা করছি, যে কীভাবে বন্ধ কল কারখানাগুলো চালু করা যায়। যাতে করে বাংলাদেশের বেকার শ্রমিকরা কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারে। কিন্তু এই সকল কাজকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য আমরা কতগুলো দল উঠে পড়ে লেগেছে। জনগণকে বিভ্রান্ত করার জন্য তারা রাজপথে বিশৃঙ্খলা তৈরি করার চেষ্টা করছে।
জনসভায় ৩৮ হাজার ৯৭০ জন আখচাষির জন্য মোট ১২ কোটি টাকার প্রণোদনা বরাদ্দের ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ বলে ডিজিটাল বোতাম চেপে একযোগে প্রণোদনার অর্থ বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জনসভায় উপস্থিত হাজারো মানুষও সমস্বরে ‘বিসমিল্লাহ’ উচ্চারণ করেন।



















