Dhaka ০৯:৩৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নিউক্যাসলকে ৭ গোলে উড়িয়ে কোয়ার্টারে বার্সেলোনা

12 / 100 SEO Score

নিউক্যাসলের মাঠ থেকে শেষ মুহূর্তের গোলে হার এড়িয়েছিল বার্সেলোনা। এবার ফিরতি লেগে হ্যান্সি ফ্লিকের দল ক্যাম্প ন্যুতে রীতিমতো গোল উৎসব করেছে। আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে প্রথমার্ধের নির্ধারিত সময়ে ২-২ সমতা ছিল দুই দলের। যোগ করা সময়ে পেনাল্টিতে পিছিয়ে পড়ার পর নিউক্যাসল আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। তাদের ৭-২ গোলে উড়িয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে বার্সা।

শেষ ষোলোর ফিরতি লেগের প্রথমার্ধে দুই দল সমান তালে লড়লেও, দ্বিতীয়ার্ধে কেবলই স্বাগতিকদের দাপট। যার সামনে দাঁড়াতেই পারেননি নিউক্যাসল। কাতালানদের পক্ষে জোড়া গোল করেছেন রাফিনিয়া এবং রবার্ট লেভান্ডফস্কি। এ ছাড়া একটি করে গোল করেছেন মার্ক বার্নাল, লামিনে ইয়ামাল ও ফারমিন লোপেজ। বিপরীতে অ্যান্টনি ইলাঙ্গার জোড়া গোলে ইংলিশ ক্লাবটি ব্যবধান কমিয়েছে।

৬৩ শতাংশ পজেশনের পাশাপাশি বার্সেলোনা গোলের জন্য ১৯টি শট নেয়, এর মধ্যে লক্ষ্যে ছিল ১৩টি। বিপরীতে ৯ শটের ৬টি লক্ষ্যে ছিল নিউক্যাসলের। আক্রমণে উঠে ম্যাচের মাত্র ষষ্ঠ মিনিটেই কাতালানরা লিড নেয়। লামিনে ইয়ামাল হয়ে আসা বল রাফিনিয়া এবং লোপেজ দেওয়া-নেওয়ার পর ব্রাজিলিয়ান তারকা বাঁ-পায়ের শট গোলপোস্ট কাঁপান। রক্ষণের দুর্বলতায় সেই লিড ৯ মিনিট বাদেই হারায় বার্সা। এলাঙ্গা ফাঁকা বক্সে আগুয়ান গোলরক্ষকের পাশ দিয়ে শট নিয়ে বল জালে জড়ান। দুই মিনিট পরই ফের স্কোরবোর্ড বার্সার দখলে, রাফিনিয়ার ফ্রি-কিকের পর জেরার্ড মার্টিনের হেড পাস পেয়ে বার্নাল গোলটি করেছেন ভলিতে।

২৮ মিনিটে আবারও সমতায় ফেরে নিউক্যাসল। ইয়ামালের ভুলে ব্যাক-হিল ফ্লিকে বল পেয়ে যায় প্রতিপক্ষ শিবির, সতীর্থের বাড়ানো বল ধরে এলাঙ্গা দূরের পোস্ট দিয়ে দলের ও ব্যক্তিগত দ্বিতীয় গোলটি করেন। এরপর একাধিক সুযোগ হাতছাড়া করেছে বার্সেলোনা। তবে রেফারি বিরতির বাঁশি বাজানোর আগমুহূর্তে রাফিনিয়াকে ফাউল করায় স্বাগতিকরা পেনাল্টি পেয়ে যায়। ব্রাজিল তারকা বল তুলে দেন ইয়ামালের হাতে। তার স্পট কিকটি ছিল বাঁ-দিকে, সেদিকেই লাফ দিয়েছিলেন নিউক্যাসল গোলরক্ষক, তবে গতির কাছে হার মেনে পিছিয়ে পড়ে ৩-২ ব্যবধানে।

বিরতির পর সফরকারীদের আরও চেপে ধরে ব্লুগ্রানারা। ৫১ মিনিটে রাফিনিয়ার থ্রু বল নিয়ে বক্সে ঢুকে নিউক্যাসল গোলরক্ষকের পাশ দিয়ে পাঠানো শটে জাল কাঁপান লোপেজ। মিনিট পাঁচেক পরই প্রথমবার স্কোরশিটে নাম তোলেন লেভান্ডফস্কি। রাফিনিয়ার কর্নারে পাওয়া বলে একেবারে গোলমুখে বল পেয়ে মাথা ছুঁয়ে দেন পোল্যান্ড তারকা। চার মিনিট পর তিনি নিজের দ্বিতীয় গোলও পেয়ে যান। ইয়ামালের পাস ধরে বক্সে ঢুকে দূরের পোস্ট দিয়ে বল গোলটি করে লেভা। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ইতিহাসে তৃতীয় সর্বোচ্চ এই গোলদাতার গোলসংখ্যা হলো ১০৯টি।

একের পর এক গোলে দিশেহারা নিউক্যাসলের রক্ষণকে এরপরও তটস্থ থাকতে হয়। তারই এক ফাঁকে ৭২ মিনিটে ভুল পাসে রাফিনিয়ার পায়ে তুলে দেন সফরকারীদের একজন। ব্রাজিল ফরোয়ার্ড ডান পায়ের শটে গোলরক্ষকের পাশ দিয়ে নিজের দ্বিতীয় এবং দলের সপ্তম গোল করেন। এ নিয়ে চলতি মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ১৯ গোল করলেন রাফিনিয়া। আগের ম্যাচে সেভিয়ার বিপক্ষে লা লিগায় হ্যাটট্রিকও করেছিলেন এই সেলেসাও তারকা। ৭-২ এবং অ্যাগ্রিগেটে ৮-৩ ব্যবধানে জিতে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টারে উঠল বার্সেলোনা।

 

Tag :

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

নিউক্যাসলকে ৭ গোলে উড়িয়ে কোয়ার্টারে বার্সেলোনা

Update Time : ০৪:৪০:৪৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬
12 / 100 SEO Score

নিউক্যাসলের মাঠ থেকে শেষ মুহূর্তের গোলে হার এড়িয়েছিল বার্সেলোনা। এবার ফিরতি লেগে হ্যান্সি ফ্লিকের দল ক্যাম্প ন্যুতে রীতিমতো গোল উৎসব করেছে। আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে প্রথমার্ধের নির্ধারিত সময়ে ২-২ সমতা ছিল দুই দলের। যোগ করা সময়ে পেনাল্টিতে পিছিয়ে পড়ার পর নিউক্যাসল আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। তাদের ৭-২ গোলে উড়িয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে বার্সা।

শেষ ষোলোর ফিরতি লেগের প্রথমার্ধে দুই দল সমান তালে লড়লেও, দ্বিতীয়ার্ধে কেবলই স্বাগতিকদের দাপট। যার সামনে দাঁড়াতেই পারেননি নিউক্যাসল। কাতালানদের পক্ষে জোড়া গোল করেছেন রাফিনিয়া এবং রবার্ট লেভান্ডফস্কি। এ ছাড়া একটি করে গোল করেছেন মার্ক বার্নাল, লামিনে ইয়ামাল ও ফারমিন লোপেজ। বিপরীতে অ্যান্টনি ইলাঙ্গার জোড়া গোলে ইংলিশ ক্লাবটি ব্যবধান কমিয়েছে।

৬৩ শতাংশ পজেশনের পাশাপাশি বার্সেলোনা গোলের জন্য ১৯টি শট নেয়, এর মধ্যে লক্ষ্যে ছিল ১৩টি। বিপরীতে ৯ শটের ৬টি লক্ষ্যে ছিল নিউক্যাসলের। আক্রমণে উঠে ম্যাচের মাত্র ষষ্ঠ মিনিটেই কাতালানরা লিড নেয়। লামিনে ইয়ামাল হয়ে আসা বল রাফিনিয়া এবং লোপেজ দেওয়া-নেওয়ার পর ব্রাজিলিয়ান তারকা বাঁ-পায়ের শট গোলপোস্ট কাঁপান। রক্ষণের দুর্বলতায় সেই লিড ৯ মিনিট বাদেই হারায় বার্সা। এলাঙ্গা ফাঁকা বক্সে আগুয়ান গোলরক্ষকের পাশ দিয়ে শট নিয়ে বল জালে জড়ান। দুই মিনিট পরই ফের স্কোরবোর্ড বার্সার দখলে, রাফিনিয়ার ফ্রি-কিকের পর জেরার্ড মার্টিনের হেড পাস পেয়ে বার্নাল গোলটি করেছেন ভলিতে।

২৮ মিনিটে আবারও সমতায় ফেরে নিউক্যাসল। ইয়ামালের ভুলে ব্যাক-হিল ফ্লিকে বল পেয়ে যায় প্রতিপক্ষ শিবির, সতীর্থের বাড়ানো বল ধরে এলাঙ্গা দূরের পোস্ট দিয়ে দলের ও ব্যক্তিগত দ্বিতীয় গোলটি করেন। এরপর একাধিক সুযোগ হাতছাড়া করেছে বার্সেলোনা। তবে রেফারি বিরতির বাঁশি বাজানোর আগমুহূর্তে রাফিনিয়াকে ফাউল করায় স্বাগতিকরা পেনাল্টি পেয়ে যায়। ব্রাজিল তারকা বল তুলে দেন ইয়ামালের হাতে। তার স্পট কিকটি ছিল বাঁ-দিকে, সেদিকেই লাফ দিয়েছিলেন নিউক্যাসল গোলরক্ষক, তবে গতির কাছে হার মেনে পিছিয়ে পড়ে ৩-২ ব্যবধানে।

বিরতির পর সফরকারীদের আরও চেপে ধরে ব্লুগ্রানারা। ৫১ মিনিটে রাফিনিয়ার থ্রু বল নিয়ে বক্সে ঢুকে নিউক্যাসল গোলরক্ষকের পাশ দিয়ে পাঠানো শটে জাল কাঁপান লোপেজ। মিনিট পাঁচেক পরই প্রথমবার স্কোরশিটে নাম তোলেন লেভান্ডফস্কি। রাফিনিয়ার কর্নারে পাওয়া বলে একেবারে গোলমুখে বল পেয়ে মাথা ছুঁয়ে দেন পোল্যান্ড তারকা। চার মিনিট পর তিনি নিজের দ্বিতীয় গোলও পেয়ে যান। ইয়ামালের পাস ধরে বক্সে ঢুকে দূরের পোস্ট দিয়ে বল গোলটি করে লেভা। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ইতিহাসে তৃতীয় সর্বোচ্চ এই গোলদাতার গোলসংখ্যা হলো ১০৯টি।

একের পর এক গোলে দিশেহারা নিউক্যাসলের রক্ষণকে এরপরও তটস্থ থাকতে হয়। তারই এক ফাঁকে ৭২ মিনিটে ভুল পাসে রাফিনিয়ার পায়ে তুলে দেন সফরকারীদের একজন। ব্রাজিল ফরোয়ার্ড ডান পায়ের শটে গোলরক্ষকের পাশ দিয়ে নিজের দ্বিতীয় এবং দলের সপ্তম গোল করেন। এ নিয়ে চলতি মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ১৯ গোল করলেন রাফিনিয়া। আগের ম্যাচে সেভিয়ার বিপক্ষে লা লিগায় হ্যাটট্রিকও করেছিলেন এই সেলেসাও তারকা। ৭-২ এবং অ্যাগ্রিগেটে ৮-৩ ব্যবধানে জিতে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টারে উঠল বার্সেলোনা।