অনিয়ম ঠেকাতে নওগাঁর ফিলিং স্টেশনে ফুয়েল ব্যবস্থাপনা অ্যাপে মিলছে জ্বালানি তেল
ভোগান্তি ও অনিয়ম ঠেকাতে নওগাঁর সব ফিলিং স্টেশনে ফুয়েল ব্যবস্থাপনা অ্যাপের মাধ্যমে জ্বালানি তেল সরবরাহ শুরু হয়েছে। জেলার ২৯টি ফিলিং স্টেশন থেকে হয়রানি ছাড়াই তেল পেতে এবং অনিয়ম রোধে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এ অ্যাপ চালু করা হয়েছে। এতে জেলাজুড়ে জ্বালানি তেল বিতরণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত হওয়ায় ভোক্তাদের মাঝে স্বস্তি ফিরেছে।
গত রোববার (৫ এপ্রিল) প্রাথমিকভাবে সদর উপজেলার ১১টি পেট্রোল পাম্পে পরীক্ষামূলকভাবে এই কার্যক্রম শুরু হয়। পরে মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) থেকে জেলার ১১টি উপজেলার সব ফিলিং স্টেশনে ট্যাগ কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে অ্যাপটি চালু করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম।
মঙ্গলবার সকালে রাণীনগর উপজেলার পাঁচটি ফিলিং স্টেশনে অ্যাপ স্থাপনের পর আনুষ্ঠানিকভাবে তেল সরবরাহ কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়। এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাকিবুল হাসান তেল বিতরণ কার্যক্রম তদারকি করেন।
মোটরসাইকেলে তেল নিতে আসা সদর উপজেলার হাসাইগাড়ি এলাকার হাফিজুল মন্ডল জানান, অনেকেই বাইকে তেল থাকা সত্ত্বেও লাইনে দাঁড়িয়ে বারবার তেল নিতেন। অ্যাপের মাধ্যমে তেল দেওয়ায় এখন নির্দিষ্ট দূরত্ব অতিক্রম না করে কেউ আর তেল নিতে পারবে না। তিনি এ ব্যবস্থা কার্যকর রাখার দাবি জানান।
অন্যদিকে বদলগাছি উপজেলার কোলা বাজার এলাকা থেকে আসা গ্রাহক আবু হাসান বলেন, তীব্র রোদে লাইনে দাঁড়িয়ে তেল নিতে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। নতুন অ্যাপে তথ্য দেওয়ায় কিছুটা বেশি সময় লাগছে। এটি আরও দ্রুত করার জন্য প্রশাসনের উদ্যোগ প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।
নওগাঁর মুক্তির মোড়ের মেসার্স সাকিব ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার আল আমিন জানান, অ্যাপ পরিচালনার জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী অ্যাপের মাধ্যমেই তেল বিক্রি করা হচ্ছে। এতে কেউ একাধিকবার তেল নিতে পারছে না, ফলে তাদের কাজও সহজ হয়েছে।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. মাসুদুল হক জানান, একটি গাড়িকে অ্যাপের মাধ্যমে তেল দিতে ১৫-২০ সেকেন্ড বেশি সময় লাগছে। তবে এতে অসাধু চক্র শনাক্ত করা সম্ভব হবে এবং প্রকৃত গ্রাহক দ্রুত তেল পাবেন।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ফুয়েল অ্যাপ চালুর মূল লক্ষ্য হলো জ্বালানি তেলের কালোবাজারি, অবৈধ মজুদ ও একাধিকবার তেল নেওয়ার প্রবণতা বন্ধ করা। দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র একই মোটরসাইকেল বা ভিন্ন পরিচয়ে বারবার তেল নিয়ে বেশি দামে বিক্রি করছিল। এই অ্যাপ চালুর ফলে সেই সুযোগ বন্ধ হবে।
তিনি আরও জানান, এখন থেকে সব গ্রাহককে অ্যাপ ব্যবহার করেই তেল নিতে হবে। অ্যাপে তেল নেওয়ার সময়, পরিমাণ, গাড়ির মাইলেজ ও লাইসেন্স নম্বর সংরক্ষিত থাকবে। একটি মোটরসাইকেলে একবার ৫০০ টাকার তেল দেওয়া হবে এবং ১২৫ কিলোমিটার চলার পর পুনরায় তেল নেওয়া যাবে। এর ব্যত্যয় ঘটলে অ্যাপের মাধ্যমে তা শনাক্ত হবে।
মঙ্গলবার থেকে জেলার সব ফিলিং স্টেশনে এই অ্যাপ চালু হয়েছে। এর মাধ্যমে নওগাঁবাসী উপকৃত হবেন এবং জ্বালানি খাতে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে বলে আশা করছে জেলা প্রশাসন।




















