Dhaka ১২:৪৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এলপিজি ভ্যাট প্রত্যাহার নাকচ

নিজেস্ব প্রতিবেদক
12 / 100 SEO Score

 

এলপিজি সিলিন্ডারে ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবিকে সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

প্রাক-বাজেট আলোচনায় ব্যবসায়ীদের জোরালো দাবি সত্ত্বেও সংস্থাটি জানিয়েছে, ভ্যাট কমালেই ভোক্তা পর্যায়ে দাম কমবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। ফলে আপাতত এলপিজি খাতে বিদ্যমান ভ্যাট কাঠামো বহাল থাকছে।

এলপিজি সিলিন্ডার গ্যাস ভর্তির ক্ষেত্রে আরোপিত ভ্যাট প্রত্যাহার এবং ফার্নিচার ও পেপারসহ বিভিন্ন শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক হ্রাসের দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

বুধবার (২২ এপ্রিল) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জাতীয় রাজস্ব ভবনে অনুষ্ঠিত প্রাক-বাজেট আলোচনায় এনবিআরের কাছে এসব প্রস্তাব তুলে ধরেন ১৩টি সংগঠনের প্রতিনিধিরা।

রাজস্ব বোর্ড চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এই সভায় ব্যবসায়ীরা আসন্ন বাজেটে করমুক্ত আয়ের সীমা বৃদ্ধিসহ ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের কর সুবিধা দেওয়ার অনুরোধ জানান।

একই প্রতিষ্ঠানের বোটলিং ইউনিটে এলপিজি সিলিন্ডার ভর্তির সময় বর্তমানে যে ১০ শতাংশ হারে মূসক দিতে হয়, তা তুলে নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (লোয়াব)।

সংগঠনটির মহাসচিব মোহাম্মদ আহসানুল জব্বার বলেন, সিলিন্ডার এবং গ্যাস একই কোম্পানি উৎপাদন ও বিপণন করলেও আলাদা স্থানে ভর্তি করার কারণে অতিরিক্ত ভ্যাট দিতে হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে সিলিন্ডার তৈরির কাঁচামালের দাম ও জাহাজভাড়া বেড়ে যাওয়ায় এই খাতে শুল্ক কমানোর প্রয়োজনীয়তাও তুলে ধরেন তিনি। তবে এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান এই ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবি নাকচ করে দিয়ে বলেন, কর কমালে ভোক্তা পর্যায়ে দাম কমবে এমন নিশ্চয়তা নেই, তাই সব পর্যায়ে ভ্যাট বহাল রাখা হবে।

আসবাবপত্র খাতের সংকট তুলে ধরে বাংলাদেশ ফার্নিচার শিল্পমালিক সমিতির চেয়ারম্যান সেলিম এইচ রহমান বলেন, কাঁচামাল আমদানিতে বিভিন্ন পর্যায়ে করের পরিমাণ বর্তমানে ১১৮ শতাংশে পৌঁছেছে। বিশেষ করে ২০ শতাংশ শুল্ক ও সমপরিমাণ নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্কের ভারে এই শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

তিনি আগাম আয়কর ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২ শতাংশে নামিয়ে আনার দাবি জানান। জবাবে এনবিআর চেয়ারম্যান উল্লেখ করেন, সংশ্লিষ্ট পণ্যগুলো অন্যের কাছে প্রস্তুত পণ্য হিসেবে গণ্য হতে পারে বলেই শুল্কের হার এমন বেশি।

কাগজ আমদানির ক্ষেত্রেও ভিন্নমুখী দাবি উঠেছে আলোচনায়। বাংলাদেশ পেপার মার্চেন্টস অ্যাসোসিয়েশন দেশে উৎপাদিত হয় না এমন কাগজের আমদানি শুল্ক ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব দিয়েছে।

বিপরীতে বাংলাদেশ পেপার মিলস অ্যাসোসিয়েশন শুল্ক বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে। এদিকে বাংলাদেশ ফ্রোজেন ফুডস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন মাছ চাষিদের ব্যাংক হিসাব বা ভ্যাট নিবন্ধন না থাকার বিষয়টি তুলে ধরে উৎসে কর প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে। পাশাপাশি তারা ভেনামি চিংড়ি আমদানি করে পুনরায় রপ্তানির অনুমতি চায়।

কোল্ড স্টোরেজ খাতের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি আমদানিতে ২৬ শতাংশ শুল্ককে বড় বাধা হিসেবে উল্লেখ করেছেন বাংলাদেশ কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী।

তিনি এই শুল্ক ১ শতাংশে নামিয়ে আনার পাশাপাশি মাঠ পর্যায় থেকে আলু কেনার ক্ষেত্রে উৎসে কর প্রত্যাহারের দাবি জানান। অন্যদিকে প্লাস্টিক খাতের উদ্যোক্তারা কাস্টমসে অতিরিক্ত দর নির্ধারণের অভিযোগ তুলে ধরেন।

তাদের দাবি, ১ শতাংশ শুল্কের বদলে অনেক ক্ষেত্রে ১০৪ শতাংশ পর্যন্ত কর আদায় করা হচ্ছে। এই সমস্যা সমাধানে তারা পৃথক প্রজ্ঞাপন জারির দাবি জানান।

নিম্ন ও মধ্যবিত্ত করদাতাদের ওপর মূল্যস্ফীতির চাপ কমাতে করমুক্ত আয়ের সীমা ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ লাখ টাকা করার সুপারিশ করেছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)।

সংগঠনের পক্ষ থেকে এ বি এম লুৎফুল হাদি তালিকাভুক্ত নয় এমন কোম্পানির করহার ২৫ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং বাণিজ্যিক আমদানিতে আগাম কর হ্রাসের প্রস্তাব দেন।

বিসিআই সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ বলেন, শুধু পোশাক শিল্পের ওপর নির্ভর না করে অন্যান্য খাতকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ওপর ৩০ শতাংশ শুল্কের বোঝা কমানোর প্রস্তাব দেন এবং তাদের জন্য একটি নির্দিষ্ট কর কাঠামো তৈরির পরামর্শ দেন।

ব্যবসায়িক পরিবেশ সহজ করার লক্ষ্যে সিলেট চেম্বারের পক্ষ থেকে পুরোনো মামলা নিষ্পত্তির মাধ্যমে সরকারের রাজস্ব বাড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়।

নারায়ণগঞ্জ চেম্বারের প্রতিনিধিরা কাস্টমসে দীর্ঘসূত্রতার কারণে বন্দরে জরিমানা গোনার বিষয়টি উল্লেখ করেন এবং নারী উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ সুবিধার দাবি জানান।

এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান ব্যবসায়ীদের এসব যৌক্তিক দাবিগুলো পর্যালোচনার আশ্বাস দেন এবং প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান।

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

এলপিজি ভ্যাট প্রত্যাহার নাকচ

Update Time : ০৮:৪৪:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬
12 / 100 SEO Score

 

এলপিজি সিলিন্ডারে ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবিকে সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

প্রাক-বাজেট আলোচনায় ব্যবসায়ীদের জোরালো দাবি সত্ত্বেও সংস্থাটি জানিয়েছে, ভ্যাট কমালেই ভোক্তা পর্যায়ে দাম কমবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। ফলে আপাতত এলপিজি খাতে বিদ্যমান ভ্যাট কাঠামো বহাল থাকছে।

এলপিজি সিলিন্ডার গ্যাস ভর্তির ক্ষেত্রে আরোপিত ভ্যাট প্রত্যাহার এবং ফার্নিচার ও পেপারসহ বিভিন্ন শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক হ্রাসের দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

বুধবার (২২ এপ্রিল) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জাতীয় রাজস্ব ভবনে অনুষ্ঠিত প্রাক-বাজেট আলোচনায় এনবিআরের কাছে এসব প্রস্তাব তুলে ধরেন ১৩টি সংগঠনের প্রতিনিধিরা।

রাজস্ব বোর্ড চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এই সভায় ব্যবসায়ীরা আসন্ন বাজেটে করমুক্ত আয়ের সীমা বৃদ্ধিসহ ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের কর সুবিধা দেওয়ার অনুরোধ জানান।

একই প্রতিষ্ঠানের বোটলিং ইউনিটে এলপিজি সিলিন্ডার ভর্তির সময় বর্তমানে যে ১০ শতাংশ হারে মূসক দিতে হয়, তা তুলে নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (লোয়াব)।

সংগঠনটির মহাসচিব মোহাম্মদ আহসানুল জব্বার বলেন, সিলিন্ডার এবং গ্যাস একই কোম্পানি উৎপাদন ও বিপণন করলেও আলাদা স্থানে ভর্তি করার কারণে অতিরিক্ত ভ্যাট দিতে হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে সিলিন্ডার তৈরির কাঁচামালের দাম ও জাহাজভাড়া বেড়ে যাওয়ায় এই খাতে শুল্ক কমানোর প্রয়োজনীয়তাও তুলে ধরেন তিনি। তবে এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান এই ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবি নাকচ করে দিয়ে বলেন, কর কমালে ভোক্তা পর্যায়ে দাম কমবে এমন নিশ্চয়তা নেই, তাই সব পর্যায়ে ভ্যাট বহাল রাখা হবে।

আসবাবপত্র খাতের সংকট তুলে ধরে বাংলাদেশ ফার্নিচার শিল্পমালিক সমিতির চেয়ারম্যান সেলিম এইচ রহমান বলেন, কাঁচামাল আমদানিতে বিভিন্ন পর্যায়ে করের পরিমাণ বর্তমানে ১১৮ শতাংশে পৌঁছেছে। বিশেষ করে ২০ শতাংশ শুল্ক ও সমপরিমাণ নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্কের ভারে এই শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

তিনি আগাম আয়কর ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২ শতাংশে নামিয়ে আনার দাবি জানান। জবাবে এনবিআর চেয়ারম্যান উল্লেখ করেন, সংশ্লিষ্ট পণ্যগুলো অন্যের কাছে প্রস্তুত পণ্য হিসেবে গণ্য হতে পারে বলেই শুল্কের হার এমন বেশি।

কাগজ আমদানির ক্ষেত্রেও ভিন্নমুখী দাবি উঠেছে আলোচনায়। বাংলাদেশ পেপার মার্চেন্টস অ্যাসোসিয়েশন দেশে উৎপাদিত হয় না এমন কাগজের আমদানি শুল্ক ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব দিয়েছে।

বিপরীতে বাংলাদেশ পেপার মিলস অ্যাসোসিয়েশন শুল্ক বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে। এদিকে বাংলাদেশ ফ্রোজেন ফুডস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন মাছ চাষিদের ব্যাংক হিসাব বা ভ্যাট নিবন্ধন না থাকার বিষয়টি তুলে ধরে উৎসে কর প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে। পাশাপাশি তারা ভেনামি চিংড়ি আমদানি করে পুনরায় রপ্তানির অনুমতি চায়।

কোল্ড স্টোরেজ খাতের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি আমদানিতে ২৬ শতাংশ শুল্ককে বড় বাধা হিসেবে উল্লেখ করেছেন বাংলাদেশ কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী।

তিনি এই শুল্ক ১ শতাংশে নামিয়ে আনার পাশাপাশি মাঠ পর্যায় থেকে আলু কেনার ক্ষেত্রে উৎসে কর প্রত্যাহারের দাবি জানান। অন্যদিকে প্লাস্টিক খাতের উদ্যোক্তারা কাস্টমসে অতিরিক্ত দর নির্ধারণের অভিযোগ তুলে ধরেন।

তাদের দাবি, ১ শতাংশ শুল্কের বদলে অনেক ক্ষেত্রে ১০৪ শতাংশ পর্যন্ত কর আদায় করা হচ্ছে। এই সমস্যা সমাধানে তারা পৃথক প্রজ্ঞাপন জারির দাবি জানান।

নিম্ন ও মধ্যবিত্ত করদাতাদের ওপর মূল্যস্ফীতির চাপ কমাতে করমুক্ত আয়ের সীমা ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ লাখ টাকা করার সুপারিশ করেছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)।

সংগঠনের পক্ষ থেকে এ বি এম লুৎফুল হাদি তালিকাভুক্ত নয় এমন কোম্পানির করহার ২৫ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং বাণিজ্যিক আমদানিতে আগাম কর হ্রাসের প্রস্তাব দেন।

বিসিআই সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ বলেন, শুধু পোশাক শিল্পের ওপর নির্ভর না করে অন্যান্য খাতকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ওপর ৩০ শতাংশ শুল্কের বোঝা কমানোর প্রস্তাব দেন এবং তাদের জন্য একটি নির্দিষ্ট কর কাঠামো তৈরির পরামর্শ দেন।

ব্যবসায়িক পরিবেশ সহজ করার লক্ষ্যে সিলেট চেম্বারের পক্ষ থেকে পুরোনো মামলা নিষ্পত্তির মাধ্যমে সরকারের রাজস্ব বাড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়।

নারায়ণগঞ্জ চেম্বারের প্রতিনিধিরা কাস্টমসে দীর্ঘসূত্রতার কারণে বন্দরে জরিমানা গোনার বিষয়টি উল্লেখ করেন এবং নারী উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ সুবিধার দাবি জানান।

এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান ব্যবসায়ীদের এসব যৌক্তিক দাবিগুলো পর্যালোচনার আশ্বাস দেন এবং প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান।