Dhaka ০৮:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অধ্যক্ষ-শিক্ষক অপসারণে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম

নিজেস্ব প্রতিবেদক
12 / 100 SEO Score

 

রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার দাওকান্দি সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ ও এক নারী শিক্ষকের সঙ্গে লাঞ্ছনার ঘটনার পর তাদের অপসারণের দাবিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন, অন্যথায় কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন।

শনিবার নগরীর সাহেববাজার জিরো পয়েন্ট এলাকায় একটি রেস্তোরাঁয় সংবাদ সম্মেলন করে এ দাবি জানান নেতাকর্মীরা।

এর আগে বৃহস্পতিবার মসজিদ উন্নয়নের জন্য অনুদান চাইতে কলেজে গিয়ে থাপ্পড়ের জেরে কলেজ শিক্ষিকাকে জুতাপেটা করেন স্থানীয় বিএনপির এক নেতা। এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

পরে দুর্গাপুর উপজেলার জয়নগর ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি আকবর আলীকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। শিক্ষিকাকে জুতা দিয়ে আঘাত করেন স্থানীয় বিএনপির নেতা ও মাছ ব্যবসায়ী শাহাদ আলী।

সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন গ্রাম্য মাতব্বর আব্দুস সামাদ ওরফে সামাদ দারোগা। উপস্থিত ছিলেন এ ঘটনার জেরে বহিষ্কৃত হওয়া ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি আকবর আলী, ইউনিয়ন কৃষক দলের সভাপতি জয়নাল আবেদীন, ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ইজদার আলী ও সাবেক সভাপতি আফাজ উদ্দিন।

তারা অভিযোগ করেন, ঘটনাটি গণমাধ্যমে আংশিক ও বিকৃতভাবে প্রকাশ করা হয়েছে। আব্দুস সামাদ বলেন, আমাদের চাঁদাবাজ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

কলেজে পূর্বের বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে জবাবদিহি চাইতে গেলে আমাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয় এবং প্রথমে তাদের ওপর হামলা চালান প্রদর্শক আলিয়া।

আমরা চাই আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক ও প্রদর্শক আলিয়ার অপসারণ নিশ্চিত করা হোক। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আলিয়া খাতুন বলেন, ‘বিভিন্ন সময় কলেজে এসে তারা হিসাব চাইতেন, যা মূলত চাঁদা দাবির অংশ ছিল।

এবার তারা এসেছিলেন মাহফিলের নামে চাঁদা আদায় করতে। অধ্যক্ষের পাশে থেকে প্রতিবাদ করায় আমিও হামলার শিকার হয়েছি। আমি এর বিচার চাই।’

অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক জানান, চার মাস আগে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই বিএনপির বিভিন্ন গ্রুপ তাঁর কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিল। তিনি এসব দাবি প্রত্যাখ্যান করাতেই বিরোধের সূত্রপাত।

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

অধ্যক্ষ-শিক্ষক অপসারণে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম

Update Time : ০৬:২১:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬
12 / 100 SEO Score

 

রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার দাওকান্দি সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ ও এক নারী শিক্ষকের সঙ্গে লাঞ্ছনার ঘটনার পর তাদের অপসারণের দাবিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন, অন্যথায় কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন।

শনিবার নগরীর সাহেববাজার জিরো পয়েন্ট এলাকায় একটি রেস্তোরাঁয় সংবাদ সম্মেলন করে এ দাবি জানান নেতাকর্মীরা।

এর আগে বৃহস্পতিবার মসজিদ উন্নয়নের জন্য অনুদান চাইতে কলেজে গিয়ে থাপ্পড়ের জেরে কলেজ শিক্ষিকাকে জুতাপেটা করেন স্থানীয় বিএনপির এক নেতা। এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

পরে দুর্গাপুর উপজেলার জয়নগর ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি আকবর আলীকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। শিক্ষিকাকে জুতা দিয়ে আঘাত করেন স্থানীয় বিএনপির নেতা ও মাছ ব্যবসায়ী শাহাদ আলী।

সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন গ্রাম্য মাতব্বর আব্দুস সামাদ ওরফে সামাদ দারোগা। উপস্থিত ছিলেন এ ঘটনার জেরে বহিষ্কৃত হওয়া ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি আকবর আলী, ইউনিয়ন কৃষক দলের সভাপতি জয়নাল আবেদীন, ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ইজদার আলী ও সাবেক সভাপতি আফাজ উদ্দিন।

তারা অভিযোগ করেন, ঘটনাটি গণমাধ্যমে আংশিক ও বিকৃতভাবে প্রকাশ করা হয়েছে। আব্দুস সামাদ বলেন, আমাদের চাঁদাবাজ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

কলেজে পূর্বের বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে জবাবদিহি চাইতে গেলে আমাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয় এবং প্রথমে তাদের ওপর হামলা চালান প্রদর্শক আলিয়া।

আমরা চাই আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক ও প্রদর্শক আলিয়ার অপসারণ নিশ্চিত করা হোক। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আলিয়া খাতুন বলেন, ‘বিভিন্ন সময় কলেজে এসে তারা হিসাব চাইতেন, যা মূলত চাঁদা দাবির অংশ ছিল।

এবার তারা এসেছিলেন মাহফিলের নামে চাঁদা আদায় করতে। অধ্যক্ষের পাশে থেকে প্রতিবাদ করায় আমিও হামলার শিকার হয়েছি। আমি এর বিচার চাই।’

অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক জানান, চার মাস আগে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই বিএনপির বিভিন্ন গ্রুপ তাঁর কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিল। তিনি এসব দাবি প্রত্যাখ্যান করাতেই বিরোধের সূত্রপাত।