Dhaka ০৬:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মুক্তিযুদ্ধ একদিকে, বাকি সবকিছু অন্যদিকে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

নিজেস্ব প্রতিবেদক
12 / 100 SEO Score

 

জাতীয় সংসদে মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই অভ্যুত্থানের তুলনামূলক অবস্থান ব্যাখ্যা করে একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শ্যামা ওবায়েদ বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধ একদিকে আর সবকিছু আরেকদিকে।

মুক্তিযুদ্ধ মুক্তিযুদ্ধই, মুক্তিযুদ্ধকে রিপ্লেস করা যায় না। মুক্তিযুদ্ধ একদিকে, আর ভবিষ্যতে বাংলাদেশের যত আন্দোলন হবে সবগুলো অন্যদিকে।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

জুলাই অভ্যুত্থান ও বর্তমান সরকারের কার্যক্রম প্রসঙ্গে শ্যামা ওবায়েদ বলেন, আমরা এটাও দেখেছি জুলাই অভ্যুত্থানের পরে ৫ আগস্ট পরবর্তী যে সরকার গঠিত হয়েছে, সেই সরকারে আমাদের যারা নবীনরা ছিলেন, আমাদের ভাইরা ছিলেন, তাদের বিরুদ্ধেও দুর্ভাগ্যবশত গত দেড় বছরে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।

মাননীয় স্পিকার যখন আমরা নতুন বাংলাদেশের কথা বলি, নতুন অভ্যুত্থানের কথা বলি, নতুন প্রজন্মের কথা বলি তখন আমরা এই জিনিসটা আশা করি না।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া রাজনীতিকে ইঙ্গিত করে তিনি আরও বলেন, শুধু ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে ভাইরাল হওয়ার জন্য বড় বড় কথা বলে পলিটিক্স হয় না। দেশের জন্য যদি কাজ করতে হয়, দেশের জনগণের জন্য যদি কাজ করতে হয়, তাহলে অভিজ্ঞতা যেমন দরকার, সাহস যেরকম দরকার, বুদ্ধিমত্তাও সেরকম দরকার।

বিএনপি এমন রাজনৈতিক দল যে ফেসবুকে রাজনীতি করে না, তারা রাস্তায় রাস্তায় গুলি খেয়ে রাজনীতি করে। শুধু বট বাহিনী দিয়ে স্ট্যাটাস দিয়ে মানুষকে ছোট করে আজেবাজে কথা বলে ভাইরাল হয়ে রাজনীতি হয় না। যদি ৭১ সালে ফেসবুক থাকত, যদি ৭১ সালে সোশ্যাল মিডিয়া থাকত তাহলে হয়তো দেশ স্বাধীন হতো কি না আমরা জানি না।

তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার অবদান স্মরণ করে বলেন, বিএনপি এমন একটি দল যে দলের নেতাকর্মীরা সেই দলের নেত্রীর মতো আপসহীন হয়ে একদিনের জন্য পরিচয় গোপন করে রাজনীতি করেনি।

এই দলের নেতাকর্মীরা ধানের ব্যাজ লাগিয়ে শহীদ জিয়া, তারেক রহমান, খালেদা জিয়ার টি-শার্ট পরে তারা গুলি খেয়েছে, জেলে গিয়েছে। তারা পথ গোপন করে অন্য দলে থেকে রাজনীতি করার চেষ্টা করেনি।

জুলাই সনদ ও রাষ্ট্র সংস্কার প্রসঙ্গে বিএনপির সক্ষমতা তুলে ধরে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, জুলাই সনদ নিয়ে বিএনপিকে বলে কোনো লাভ নেই। জুলাই সনদ মানে কী? একটা রিফর্ম। বাংলাদেশের রিফর্ম। নতুন প্রজন্মের জন্য রিফর্ম, সংস্কার।

আপনি যদি ইতিহাস দেখেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বাংলাদেশের একটি মাত্র দল যে বাংলাদেশের জন্মের পর থেকে এখন পর্যন্ত যত রকম রিফর্ম-সংস্কার হয়েছে বাংলাদেশের উন্নতির জন্য, প্রত্যেকটা বিএনপির হাত ধরে হয়েছে।

এখন রিফর্ম যেটা হচ্ছে ফ্যামিলি কার্ড, ফার্মারস কার্ড, আমাদের নতুন প্রজন্মের জন্য কাজ—এই সবকিছুই হচ্ছে তারেক রহমান ও বিএনপির হাত দিয়ে। যেটার সুফল আপনারাও পাবেন ইনশাআল্লাহ।

মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই অভ্যুত্থানের তুলনামূলক অবস্থান ব্যাখ্যা করে একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধ একদিকে আর সবকিছু আরেকদিকে। মুক্তিযুদ্ধ মুক্তিযুদ্ধই। মুক্তিযুদ্ধকে রিপ্লেস করা যায় না। মুক্তিযুদ্ধ একদিকে, আর ভবিষ্যতে বাংলাদেশের যত আন্দোলন হবে সবগুলো অন্যদিকে।

আমি একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে বলছি এবং আমি মেলাতে পারি আমার সামনে যারা বসে আছেন— নাহিদ বসে আছে, আমাদের মাননীয় সংসদ সদস্যরা বসে আছে। আমি দুঃখিত, আমি ওদের সেন্টিমেন্ট বুঝতে পারি। আমরাও চাই আমাদের সন্তানরা একটি নতুন বাংলাদেশে বসবাস করুক।

শেষে তিনি সবাইকে কাদা ছোড়াছুড়ি বন্ধ করে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

Tag :

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

মুক্তিযুদ্ধ একদিকে, বাকি সবকিছু অন্যদিকে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

Update Time : ০৬:৩১:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
12 / 100 SEO Score

 

জাতীয় সংসদে মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই অভ্যুত্থানের তুলনামূলক অবস্থান ব্যাখ্যা করে একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শ্যামা ওবায়েদ বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধ একদিকে আর সবকিছু আরেকদিকে।

মুক্তিযুদ্ধ মুক্তিযুদ্ধই, মুক্তিযুদ্ধকে রিপ্লেস করা যায় না। মুক্তিযুদ্ধ একদিকে, আর ভবিষ্যতে বাংলাদেশের যত আন্দোলন হবে সবগুলো অন্যদিকে।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

জুলাই অভ্যুত্থান ও বর্তমান সরকারের কার্যক্রম প্রসঙ্গে শ্যামা ওবায়েদ বলেন, আমরা এটাও দেখেছি জুলাই অভ্যুত্থানের পরে ৫ আগস্ট পরবর্তী যে সরকার গঠিত হয়েছে, সেই সরকারে আমাদের যারা নবীনরা ছিলেন, আমাদের ভাইরা ছিলেন, তাদের বিরুদ্ধেও দুর্ভাগ্যবশত গত দেড় বছরে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।

মাননীয় স্পিকার যখন আমরা নতুন বাংলাদেশের কথা বলি, নতুন অভ্যুত্থানের কথা বলি, নতুন প্রজন্মের কথা বলি তখন আমরা এই জিনিসটা আশা করি না।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া রাজনীতিকে ইঙ্গিত করে তিনি আরও বলেন, শুধু ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে ভাইরাল হওয়ার জন্য বড় বড় কথা বলে পলিটিক্স হয় না। দেশের জন্য যদি কাজ করতে হয়, দেশের জনগণের জন্য যদি কাজ করতে হয়, তাহলে অভিজ্ঞতা যেমন দরকার, সাহস যেরকম দরকার, বুদ্ধিমত্তাও সেরকম দরকার।

বিএনপি এমন রাজনৈতিক দল যে ফেসবুকে রাজনীতি করে না, তারা রাস্তায় রাস্তায় গুলি খেয়ে রাজনীতি করে। শুধু বট বাহিনী দিয়ে স্ট্যাটাস দিয়ে মানুষকে ছোট করে আজেবাজে কথা বলে ভাইরাল হয়ে রাজনীতি হয় না। যদি ৭১ সালে ফেসবুক থাকত, যদি ৭১ সালে সোশ্যাল মিডিয়া থাকত তাহলে হয়তো দেশ স্বাধীন হতো কি না আমরা জানি না।

তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার অবদান স্মরণ করে বলেন, বিএনপি এমন একটি দল যে দলের নেতাকর্মীরা সেই দলের নেত্রীর মতো আপসহীন হয়ে একদিনের জন্য পরিচয় গোপন করে রাজনীতি করেনি।

এই দলের নেতাকর্মীরা ধানের ব্যাজ লাগিয়ে শহীদ জিয়া, তারেক রহমান, খালেদা জিয়ার টি-শার্ট পরে তারা গুলি খেয়েছে, জেলে গিয়েছে। তারা পথ গোপন করে অন্য দলে থেকে রাজনীতি করার চেষ্টা করেনি।

জুলাই সনদ ও রাষ্ট্র সংস্কার প্রসঙ্গে বিএনপির সক্ষমতা তুলে ধরে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, জুলাই সনদ নিয়ে বিএনপিকে বলে কোনো লাভ নেই। জুলাই সনদ মানে কী? একটা রিফর্ম। বাংলাদেশের রিফর্ম। নতুন প্রজন্মের জন্য রিফর্ম, সংস্কার।

আপনি যদি ইতিহাস দেখেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বাংলাদেশের একটি মাত্র দল যে বাংলাদেশের জন্মের পর থেকে এখন পর্যন্ত যত রকম রিফর্ম-সংস্কার হয়েছে বাংলাদেশের উন্নতির জন্য, প্রত্যেকটা বিএনপির হাত ধরে হয়েছে।

এখন রিফর্ম যেটা হচ্ছে ফ্যামিলি কার্ড, ফার্মারস কার্ড, আমাদের নতুন প্রজন্মের জন্য কাজ—এই সবকিছুই হচ্ছে তারেক রহমান ও বিএনপির হাত দিয়ে। যেটার সুফল আপনারাও পাবেন ইনশাআল্লাহ।

মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই অভ্যুত্থানের তুলনামূলক অবস্থান ব্যাখ্যা করে একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধ একদিকে আর সবকিছু আরেকদিকে। মুক্তিযুদ্ধ মুক্তিযুদ্ধই। মুক্তিযুদ্ধকে রিপ্লেস করা যায় না। মুক্তিযুদ্ধ একদিকে, আর ভবিষ্যতে বাংলাদেশের যত আন্দোলন হবে সবগুলো অন্যদিকে।

আমি একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে বলছি এবং আমি মেলাতে পারি আমার সামনে যারা বসে আছেন— নাহিদ বসে আছে, আমাদের মাননীয় সংসদ সদস্যরা বসে আছে। আমি দুঃখিত, আমি ওদের সেন্টিমেন্ট বুঝতে পারি। আমরাও চাই আমাদের সন্তানরা একটি নতুন বাংলাদেশে বসবাস করুক।

শেষে তিনি সবাইকে কাদা ছোড়াছুড়ি বন্ধ করে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।