শেষ ইলিশ নিষেধাজ্ঞা, জেলেদের স্বস্তি
দুই মাসের দীর্ঘ নিষেধাজ্ঞা শেষে ইলিশ ধরার অনুমতি ফিরছে মধ্যরাতেই, স্বস্তি ফিরেছে উপকূলজুড়ে লাখো জেলের জীবনে।
জাটকা সংরক্ষণে সরকারের এই উদ্যোগ শেষ হওয়ায় নতুন আশায় বুক বাঁধছেন জেলেরা—নদীতে নামার প্রস্তুতি শেষ, প্রত্যাশা ভালো মাছ পেয়ে কাটবে কষ্টের দিন।হাসি ফুটেছে কর্মহীন থাকা ভোলার ৭ উপজেলার প্রায় ২ লক্ষাধিক জেলের মুখে।
অন্যদিকে ক্রেতা-বিক্রেতাদের চিরচেনা হাঁকডাকের অপেক্ষায় নদী তীরবর্তী মাছের আড়তগুলো। তাই শেষ মুহূর্তে ধোঁয়ামোছার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন আড়তদাররা। এছাড়া নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়ের ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার আশা সংশ্লিষ্টদের।
জেলা মৎস্য বিভাগ জানিয়েছে, জাটকা সংরক্ষণ ও ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে ২ মাসের (মার্চ-এপ্রিল) নিষেধাজ্ঞা শুরু হয়েছিল গত ২৮ ফেব্রুয়ারি দিনগত রাত ১২টায়। এবং শেষ হবে আজ বুধবার (৩০ এপ্রিল) দিনগত রাত ১২টায়।
ভোলা মৎস্য বিভাগের হালনাগাদ তথ্যমতে, ভোলার ৭ উপজেলায় মোট নিবন্ধিত জেলে রয়েছেন ১ লাখ ৬৭ হাজার ৯৭০ জন।
এর মধ্যে ভোলা সদর উপজেলায় ২২ হাজার ৪১২ জন, দৌলতখানে ২১ হাজার ২৯৩ জন, বোরহানউদ্দিনে ১৯ হাজার ৮৩৮ জন, লালমোহনে ২৪ হাজার ৮০৬ জন, তজুমুদ্দিনে ১৯ হাজার ৫৭২ জন, চরফ্যাশনে ৪৪ হাজার ৩১২ জন ও মনপুরা উপজেলায় ১৫ হাজার ৭৩৮ জন।
তাদের অনুকূলে মাসে ৪০ কেজি করে ৯০ হাজার ২শ জেলে পরিবারকে সরকারি খাদ্য সহায়তার ভিজিএফ চাল দিয়েছে মৎস্য বিভাগ। এছাড়া এবারই প্রথম ইলিশ সম্পদ প্রকল্পের আওতায় ১৩ হাজার ৬০০ জন জেলেকে বিভিন্ন ধরনের খাদ্যসামগ্রী দিয়েছে সরকার।
সরেজমিন সদর উপজেলার ভোলার খাল ও তুলাতুলি মেঘনা তীরে ঘুরে দেখা যায়, মধ্যরাতে নিষেধাজ্ঞার শেষ হওয়ার খবরে জাল-ট্রলার মেরামতসহ মাছ ধরার সকল সরঞ্জাম প্রস্তুত করে রেখেছেন জেলেরা। আবার কেউ কেউ শেষ মুহূর্তে তাদের জাল-ট্রলার মেরামতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
জেলে মো. গিয়াসউদ্দিন, শাজাহান, বশির ও জোবায়ের বলেন, নদীতে মাছ ধরার ওপর ২ মাসের সরকারি নিষেধাজ্ঞায় কর্মহীন থাকায় পরিবার-পরিজন নিয়ে অনেক কষ্টে খেয়ে না খেয়ে দিন কাটিয়েছি।
তারপরও সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নদীতে মাছ ধরতে নামিনি। সরকারি খাদ্য সহায়তার চাল ছিল চাহিদার বিপরীতে অপ্রতুল। আসলে মাছ ধরা ছাড়া আমাদের আর কোনো পেশা নেই।
আজ মধ্যরাতে নিষেধাজ্ঞা উঠে যাবে, আমরা নদীতে গিয়ে মাছ ধরার জন্য সব প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি। রাত ১২টার পরে নদীতে নামব। আশা করি ইলিশসহ সবধরনের বেশি পরিমাণে মাছ পেয়ে তা বিক্রির পর বিগত দিনের দেনার পুষিয়ে নিতে পারব। আর যদি কাঙ্ক্ষিত মাছ না পাই তাহলে দুর্দশার শেষ হবে না।
নদীতে নিষেধাজ্ঞায় নিজেরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন জানিয়ে আড়তদার ইউনুছ বেপারী বলেন, ঢাকা-খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন মোকাম থেকে দাদন (টাকা) এনে তা জেলেদের দিয়েছি। নিষেধাজ্ঞার কারণে জেলেরা নদীতে মাছ ধরতে পারেনি ফলে আড়ত বন্ধ রেখেছি। নদীতে যেতে আমরাই জেলেদের নিরুৎসাহিত করেছি।
নিষেধাজ্ঞা শেষে আশা করি জেলেরা আড়তে মাছ এনে তা বিক্রির পর তাদের দেনা শোধ করবে, তাই আমরা আড়ত খুলে কেনাবেচার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি। জেলেরা নদীতে কাঙ্ক্ষিত মাছ পেলে আশা করি আমরা সকলেই লাভবান হতে পারব।
নিষেধাজ্ঞা সফল হয়েছে: সীমিত জনবল এবং অর্থ বরাদ্দের মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন করেছেন জানিয়ে ভোলা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন বলেন, আশা করছি ১ মে থেকে জেলেরা নদীতে গিয়ে ইলিশসহ সবধরনের কাঙ্ক্ষিত মাছ পাবেন।
নিষেধাজ্ঞার ফলে মাছের উৎপাদন বাড়বে, এতে দেশ ও জাতিও লাভবান হবেন। এছাড়া এবারই প্রথম ইলিশ সম্পদ প্রকল্পের আওতায় জেলেদের বিভিন্ন ধরনের সরকারি খাদ্যসামগ্রীসহ ভিজিএফ দেওয়া হয়েছে।



















