Dhaka ০৫:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিপর্যয় সামলে ২৭৪ রানের পুঁজি বাংলাদেশের

নিজস্ব প্রতিবেদক
8 / 100 SEO Score

 

টপঅর্ডারের ব্যাটিং বিপর্যয় যেন বাংলাদেশের নিত্যসঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ওয়ানডেতেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। প্রথম ওভারেই উইকেট হারানোর ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই ৬১ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় স্বাগতিকরা। তবে সেই সংকট থেকে দলকে টেনে তোলেন লিটন দাস, তাওহীদ হৃদয় ও মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। তিনজনের ফিফটিতে ভর করে শেষ পর্যন্ত ৫০ ওভারে ৫ উইকেটে ২৭৪ রান সংগ্রহ করেছে বাংলাদেশ।

মিরপুরে টস জিতে একাদশে একাধিক পরিবর্তন এনে ব্যাটিংয়ে নামে বাংলাদেশ। কিন্তু শুরুটা ছিল হতাশাজনক। দলীয় ২ রানেই ফেরেন সৌম্য সরকার। মাত্র ২ রান করে সাজঘরে ফেরেন এই ওপেনার। ফলে টানা দ্বিতীয় ম্যাচে প্রথম ওভারেই উইকেট হারানোর তিক্ত অভিজ্ঞতা হলো বাংলাদেশের।

সৌম্যর বিদায়ের পর অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তকে নিয়ে ইনিংস গড়ার চেষ্টা করেন তানজিদ হাসান তামিম। দুজন মিলে প্রাথমিক ধাক্কা সামাল দিলেও ইনিংস বড় করতে পারেননি। ম্যাট রেনশোর স্কিড করা বলে স্লগ সুইপ খেলতে গিয়ে ১৯ রানে থামেন তামিম। তার বিদায়ে ভাঙে ৫১ রানের জুটি।

তামিমের পথেই হাঁটেন শান্তও। সুইপ খেলতে গিয়ে উইকেট বিলিয়ে দেন তিনি। ৫০ বলে ২৪ রান করে ফেরেন অধিনায়ক। তাতে মাত্র ৬১ রানেই ৩ উইকেট হারিয়ে বড় বিপদে পড়ে বাংলাদেশ। সেই বিপদের সময়ই হাল ধরেন লিটন দাস ও তাওহীদ হৃদয়। দুজন মিলে গড়ে তোলেন ৯২ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি।

শুরুতে সময় নিয়ে খেললেও ধীরে ধীরে হাত খুলতে শুরু করেন লিটন। অন্য প্রান্তে হৃদয়ও ছিলেন আত্মবিশ্বাসী। সুযোগ পেলেই বাউন্ডারিতে চাপ কমিয়েছেন তিনি। তবে দারুণ ছন্দে থাকা লিটনের ইনিংসে বাধা হয়ে দাঁড়ায় চোট। ব্যক্তিগত ৪৮ রানে পৌঁছে পায়ের পেশিতে টান অনুভব করলে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন তিনি। তখনও তার নামের পাশে যোগ হয়নি বহু প্রতীক্ষিত মিরপুরের প্রথম ওয়ানডে ফিফটি।

ওয়ানডেতে লিটনের অভিষেকও হয়েছিল মিরপুরেই। এর আগে শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে ২৮ ইনিংস খেলেও কোনো ফিফটি পাননি তিনি। পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ড সিরিজে কয়েকটি চল্লিশোর্ধ্ব ইনিংস খেললেও অর্ধশতকের দেখা মেলেনি।

লিটনের অবর্তমানে ক্রিজে এসে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং শুরু করেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। তাকে সঙ্গে নিয়ে ইনিংস এগিয়ে নেন তাওহীদ হৃদয়। দুজনের ৯৩ রানের জুটিতে ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ। এই সময় অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম এবং ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ১৩তম ফিফটি পূর্ণ করেন হৃদয়।

ফিফটির পর আরও আক্রমণাত্মক হতে গিয়ে ৮৩ রানে থামেন হৃদয়। তবে তার ইনিংস বাংলাদেশকে বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে দেয়। অন্যদিকে, মোসাদ্দেক ছিলেন শুরু থেকেই ইতিবাচক। মাত্র ৪৩ বলে তুলে নেন নিজের অর্ধশতক। এটি তার ওয়ানডে ক্যারিয়ারের পঞ্চম এবং চলতি সিরিজে দ্বিতীয় ফিফটি। মাঝে শেখ মেহেদী ৯ বলে ৩ রান করে ফিরলেও শেষ দিকে আর বড় ধাক্কা খেতে হয়নি স্বাগতিকদের।

ইনিংসের শেষ দিকে আবারও ব্যাট হাতে মাঠে ফেরেন চোট পাওয়া লিটন দাস। ৪৯তম ওভারের শেষ বলে দুই রান নিয়ে পূরণ করেন বহু প্রতীক্ষিত ফিফটি। এটি তার ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ১৪তম অর্ধশতক, মিরপুরে প্রথম এবং অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষেও প্রথম ফিফটি।

শেষ পর্যন্ত লিটন ৫৮ ও মোসাদ্দেক ৫৬ রানে অপরাজিত থাকেন। তাদের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৫ উইকেটে ২৭৪ রান তোলে বাংলাদেশ। হোয়াইটওয়াশ এড়াতে অস্ট্রেলিয়ার সামনে লক্ষ্য ২৭৫ রান।

অস্ট্রেলিয়ার হয়ে দুটি করে উইকেট নেন জাভিয়ার বার্টলেট ও ম্যাট রেনশো। একটি উইকেট শিকার করেন বেন ডয়ারশুইস।

 

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

বিপর্যয় সামলে ২৭৪ রানের পুঁজি বাংলাদেশের

Update Time : ০৯:৫৮:৩৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬
8 / 100 SEO Score

 

টপঅর্ডারের ব্যাটিং বিপর্যয় যেন বাংলাদেশের নিত্যসঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ওয়ানডেতেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। প্রথম ওভারেই উইকেট হারানোর ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই ৬১ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় স্বাগতিকরা। তবে সেই সংকট থেকে দলকে টেনে তোলেন লিটন দাস, তাওহীদ হৃদয় ও মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। তিনজনের ফিফটিতে ভর করে শেষ পর্যন্ত ৫০ ওভারে ৫ উইকেটে ২৭৪ রান সংগ্রহ করেছে বাংলাদেশ।

মিরপুরে টস জিতে একাদশে একাধিক পরিবর্তন এনে ব্যাটিংয়ে নামে বাংলাদেশ। কিন্তু শুরুটা ছিল হতাশাজনক। দলীয় ২ রানেই ফেরেন সৌম্য সরকার। মাত্র ২ রান করে সাজঘরে ফেরেন এই ওপেনার। ফলে টানা দ্বিতীয় ম্যাচে প্রথম ওভারেই উইকেট হারানোর তিক্ত অভিজ্ঞতা হলো বাংলাদেশের।

সৌম্যর বিদায়ের পর অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তকে নিয়ে ইনিংস গড়ার চেষ্টা করেন তানজিদ হাসান তামিম। দুজন মিলে প্রাথমিক ধাক্কা সামাল দিলেও ইনিংস বড় করতে পারেননি। ম্যাট রেনশোর স্কিড করা বলে স্লগ সুইপ খেলতে গিয়ে ১৯ রানে থামেন তামিম। তার বিদায়ে ভাঙে ৫১ রানের জুটি।

তামিমের পথেই হাঁটেন শান্তও। সুইপ খেলতে গিয়ে উইকেট বিলিয়ে দেন তিনি। ৫০ বলে ২৪ রান করে ফেরেন অধিনায়ক। তাতে মাত্র ৬১ রানেই ৩ উইকেট হারিয়ে বড় বিপদে পড়ে বাংলাদেশ। সেই বিপদের সময়ই হাল ধরেন লিটন দাস ও তাওহীদ হৃদয়। দুজন মিলে গড়ে তোলেন ৯২ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি।

শুরুতে সময় নিয়ে খেললেও ধীরে ধীরে হাত খুলতে শুরু করেন লিটন। অন্য প্রান্তে হৃদয়ও ছিলেন আত্মবিশ্বাসী। সুযোগ পেলেই বাউন্ডারিতে চাপ কমিয়েছেন তিনি। তবে দারুণ ছন্দে থাকা লিটনের ইনিংসে বাধা হয়ে দাঁড়ায় চোট। ব্যক্তিগত ৪৮ রানে পৌঁছে পায়ের পেশিতে টান অনুভব করলে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন তিনি। তখনও তার নামের পাশে যোগ হয়নি বহু প্রতীক্ষিত মিরপুরের প্রথম ওয়ানডে ফিফটি।

ওয়ানডেতে লিটনের অভিষেকও হয়েছিল মিরপুরেই। এর আগে শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে ২৮ ইনিংস খেলেও কোনো ফিফটি পাননি তিনি। পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ড সিরিজে কয়েকটি চল্লিশোর্ধ্ব ইনিংস খেললেও অর্ধশতকের দেখা মেলেনি।

লিটনের অবর্তমানে ক্রিজে এসে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং শুরু করেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। তাকে সঙ্গে নিয়ে ইনিংস এগিয়ে নেন তাওহীদ হৃদয়। দুজনের ৯৩ রানের জুটিতে ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ। এই সময় অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম এবং ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ১৩তম ফিফটি পূর্ণ করেন হৃদয়।

ফিফটির পর আরও আক্রমণাত্মক হতে গিয়ে ৮৩ রানে থামেন হৃদয়। তবে তার ইনিংস বাংলাদেশকে বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে দেয়। অন্যদিকে, মোসাদ্দেক ছিলেন শুরু থেকেই ইতিবাচক। মাত্র ৪৩ বলে তুলে নেন নিজের অর্ধশতক। এটি তার ওয়ানডে ক্যারিয়ারের পঞ্চম এবং চলতি সিরিজে দ্বিতীয় ফিফটি। মাঝে শেখ মেহেদী ৯ বলে ৩ রান করে ফিরলেও শেষ দিকে আর বড় ধাক্কা খেতে হয়নি স্বাগতিকদের।

ইনিংসের শেষ দিকে আবারও ব্যাট হাতে মাঠে ফেরেন চোট পাওয়া লিটন দাস। ৪৯তম ওভারের শেষ বলে দুই রান নিয়ে পূরণ করেন বহু প্রতীক্ষিত ফিফটি। এটি তার ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ১৪তম অর্ধশতক, মিরপুরে প্রথম এবং অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষেও প্রথম ফিফটি।

শেষ পর্যন্ত লিটন ৫৮ ও মোসাদ্দেক ৫৬ রানে অপরাজিত থাকেন। তাদের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৫ উইকেটে ২৭৪ রান তোলে বাংলাদেশ। হোয়াইটওয়াশ এড়াতে অস্ট্রেলিয়ার সামনে লক্ষ্য ২৭৫ রান।

অস্ট্রেলিয়ার হয়ে দুটি করে উইকেট নেন জাভিয়ার বার্টলেট ও ম্যাট রেনশো। একটি উইকেট শিকার করেন বেন ডয়ারশুইস।