অ্যাক্রেডিটেশনে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাচ্ছে বাংলাদেশ
এ বছরের প্রতিপাদ্য ছিল ‘Innovation, Trust and Sustainability: The Power of Accreditation’ (উদ্ভাবন, আস্থা ও টেকসই উন্নয়ন: অ্যাক্রেডিটেশনের শক্তি)। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিল্প, বাণিজ্য এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন বোর্ডের চেয়ারম্যান ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ওবায়দুর রহমান।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন বিএবি’র মহাপরিচালক মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। দিবসটির প্রতিপাদ্যের ওপর মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (এমআইএসটি)-এর সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. তোহিদ উর রহমান।
সভাপতির বক্তব্যে মো. ওবায়দুর রহমান বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে দেশের অবস্থান সুদৃঢ় করতে এবং ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণে অ্যাক্রেডিটেশনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, পণ্য ও সেবার গুণগত মান নিশ্চিত না হলে বাজারে আস্থা তৈরি করা সম্ভব নয়, আর সেই আস্থা প্রতিষ্ঠার অন্যতম কার্যকর মাধ্যম হলো অ্যাক্রেডিটেশন। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে বিএবি দেশের মান অবকাঠামো শক্তিশালী করতে কাজ করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
স্বাগত বক্তব্যে মহাপরিচালক মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম বলেন, চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের যুগে প্রযুক্তিগত রূপান্তর, জটিল বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পণ্য ও সেবার প্রতি আস্থা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। অ্যাক্রেডিটেশন এ ক্ষেত্রে একটি শক্তিশালী অনুঘটক হিসেবে কাজ করে।
তিনি আরও জানান, ‘বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন আইন, ২০০৬’-এর আওতায় প্রতিষ্ঠিত বিএবি জাতীয় মান অবকাঠামো উন্নয়ন ও শক্তিশালীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী অ্যাক্রেডিটেশন সেবা প্রদানের মাধ্যমে দেশের পণ্য ও সেবার মানোন্নয়ন নিশ্চিত হচ্ছে, যা ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ ব্র্যান্ডের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা ও রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধি করছে।
বিএবি ইতোমধ্যে এশিয়া প্যাসিফিক অ্যাক্রেডিটেশন কো-অপারেশন (APAC) এবং গ্লোবাল অ্যাক্রেডিটেশন কো-অপারেশনের সদস্যপদ অর্জনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। ফলে বিএবি কর্তৃক অ্যাক্রেডিটেড প্রতিষ্ঠানগুলোর সনদ আন্তর্জাতিক বাজারে অধিক গ্রহণযোগ্যতা পাচ্ছে এবং বৈদেশিক বাণিজ্য সম্প্রসারণে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, খাদ্য নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা, শিল্পপণ্য ও সেবার গুণগত মান নিশ্চিতকরণ, পরিবেশ সংরক্ষণ, কৃষি ও মৎস্য খাতের উন্নয়ন, তথ্যপ্রযুক্তি ও সাইবার নিরাপত্তা, ভোক্তা সুরক্ষা এবং টেকসই শিল্পায়নের ক্ষেত্রে অ্যাক্রেডিটেশনের গুরুত্ব দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। একটি নিরাপদ, অন্তর্ভুক্তিমূলক, টেকসই ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন অর্থনীতি গড়ে তুলতে অ্যাক্রেডিটেশনকে জাতীয় অগ্রাধিকারের বিষয় হিসেবে গুরুত্ব দেওয়ার ওপর জোর দেন তারা।
অনুষ্ঠানের শেষে অংশগ্রহণকারীরা দেশের অ্যাক্রেডিটেশন ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, গতিশীল ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এবং বিশ্ব অ্যাক্রেডিটেশন দিবস-২০২৬-এর কর্মসূচির সফলতা কামনা করেন।

























