ইরানের সরকার বিরোধী বিক্ষোভ দমনে প্রাণঘাতী দমন-পীড়নের প্রতিবাদে ও বিক্ষোভকারীদের প্রতি সংহতি জানাতে যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে বড় ধরনের বিক্ষোভ হয়েছে। রবিবার যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে এ বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।
ফরাসি বার্তাসংস্থা এএফপির সাংবাদিকরা জানায়, বিশ্বের সবচেয়ে বড় ইরানি প্রবাসী জনগোষ্ঠীর আবাসস্থল লস অ্যাঞ্জেলেসে কয়েক হাজার মানুষ মিছিল করেন। নিউইয়র্কেও কয়েকশ’ মানুষ সমাবেশে অংশ নেন।
বিক্ষোভকারীদের হাতে ছিল নানা প্ল্যাকার্ড। সেখানে লেখা ছিল— ‘নতুন হলোকাস্ট’, ‘চলমান গণহত্যা’ ও ইরানি সরকারের ‘সন্ত্রাস’ বন্ধের আহ্বান।
লস অ্যাঞ্জেলেসে আয়োজিত সমাবেশে অংশ নেওয়া পেরি ফারাজ বলেন, আমার হৃদয় ভারাক্রান্ত। আমি এতটাই ক্ষুব্ধ যে ভাষা হারিয়ে ফেলেছি।
৬২ বছর বয়সী এই পে-রোল ম্যানেজার ২০০৬ সালে ইরান ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় নেন। তিনি জানান, চলতি সপ্তাহেই জানতে পেরেছেন, ইরানে চলমান বিক্ষোভে তার এক ছোট চাচাতো ভাই নিহত হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘তার বয়স ১০ বছরও পূর্ণ করেনি। বিষয়টি ভয়াবহ।’

আলি পারভানেহ বলেন, ‘রাজতন্ত্র টিকে থাকলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতো। ইরান আজ অনেক ভালো অবস্থায় থাকত।’
তবে পাহলভির সমর্থন মূলত বিদেশে সীমাবদ্ধ। ইরানের ভেতরে তার রাজনৈতিক প্রভাব তেমন নেই। ওয়াশিংটনের নির্বাসনে থাকা সাবেক শাহের ছেলে চলতি সপ্তাহে বলেছেন, তিনি ইরানে ফিরে যেতে প্রস্তুত। তবে অধিকাংশ ইরানি তা চান কি না, তা বোঝা যাচ্ছে না।
ইরানের বিরোধী রাজনীতি এখনো বিভক্ত। একই সঙ্গে শাহ আমলের বামপন্থী বিরোধীদের ওপর চালানো কঠোর দমন-পীড়নের স্মৃতিও অনেকের কাছে তাজা।
লস অ্যাঞ্জেলেসের ওয়েস্টউড এলাকাটি ‘ তেহরানজেলেস’ নামেও পরিচিত। রেস্তোরাঁটির মালিক রুজবেহ ফারাহানিপুর বলেন, প্রবাসীদের উচিত ইরানিদের পাশে দাঁড়ানো, তবে তাদের ভবিষ্যৎ নিজেরাই নির্ধারণ করার অধিকার খর্ব না করা।
Reporter Name 



















