Dhaka ০৪:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬, ৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরানের ৬ নৌকা ধ্বংসের দাবি মার্কিন বাহিনীর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
12 / 100 SEO Score

 

হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা আরও তীব্র হয়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, তারা ইরানের ছয়টি ছোট নৌযান ধ্বংস করেছে এবং একাধিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করেছে। এর আগে মার্কিন যুদ্ধজাহাজে হামলার দাবি করে ইরান। এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

মার্কিন বাহিনীর দাবি, যুক্তরাষ্ট্র নতুন নৌ অভিযান শুরুর পর তেহরান হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল পুনরায় চালুর প্রচেষ্টায় বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে এই সংঘাতের ঘটনা ঘটে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নামে এ অভিযান শুরু করেন। এর লক্ষ্য হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ইরানের হাত থেকে পুনরুদ্ধার করা। এর আগে ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাত শুরুর পর ইরান কার্যত প্রণালিটি বন্ধ করে দেয়।

যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে কি না, এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার। তিনি বলেন, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) মার্কিন অভিযানে বাধা দিতে সক্রিয় রয়েছে।

কুপারের ভাষ্য অনুযায়ী, আইআরজিসি একাধিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও ছোট নৌকা পাঠিয়ে মার্কিন সুরক্ষায় থাকা জাহাজগুলোর ওপর হামলার চেষ্টা চালায়। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপে এসব হুমকি প্রতিহত করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি আরও জানান, এ অভিযানে প্রায় ১৫ হাজার মার্কিন সেনা, নৌবাহিনীর ডেস্ট্রয়ার, শতাধিক স্থল ও সমুদ্রভিত্তিক উড়োজাহাজ এবং পানির নিচের সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন করা হয়েছে। মাঠপর্যায়ের কমান্ডারদের বাণিজ্যিক জাহাজ সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের কর্তৃত্ব দেওয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

সোমবার হরমুজ প্রণালিতে একটি দক্ষিণ কোরীয় জাহাজ বিস্ফোরণের শিকার হয়। তবে ট্রাম্প জানান, জাহাজটি মার্কিন অভিযানের অংশ ছিল না। তিনি আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র সাতটি ইরানি দ্রুতগতির নৌকা ডুবিয়েছে।

অন্যদিকে, ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস যুক্তরাষ্ট্রের দাবি প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে, গত কয়েক ঘণ্টায় কোনো বাণিজ্যিক জাহাজ প্রণালি অতিক্রম করেনি। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমও ইরানি নৌযান ধ্বংসের খবর অস্বীকার করেছে।

হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে মার্কিন অভিযানে একাধিক ধাপ নেওয়া হয়েছে। প্রথমে সমুদ্রে পাতা মাইন অপসারণ করে নিরাপদ পথ তৈরি করা হয়। এরপর সেই পথ নিরাপদ প্রমাণে যুক্তরাষ্ট্রের পতাকাবাহী দুটি বাণিজ্যিক জাহাজ প্রণালি অতিক্রম করানো হয়।

বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালিতে সংঘাতের প্রভাব পড়ছে আন্তর্জাতিক বাজারে। যুদ্ধের আগে বৈশ্বিক তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হতো।

কুপার বলেন, ইরানের হুমকির কারণে ৮৭টি দেশের জাহাজ উপসাগরে আটকে পড়েছে। তবুও যুক্তরাষ্ট্র জাহাজ চলাচল পুনরায় শুরু করতে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি জানান, গত ১২ ঘণ্টায় ডজনখানেক জাহাজ ও শিপিং কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং কিছু অগ্রগতিও দেখা যাচ্ছে।

তবে পরিস্থিতি এখনো অনিশ্চিত রয়ে গেছে। ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধও বহাল রয়েছে, যার ফলে জাহাজ চলাচল আরও জটিল হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

ডিবি/এল

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

ইরানের ৬ নৌকা ধ্বংসের দাবি মার্কিন বাহিনীর

Update Time : ০৫:০৬:৫৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬
12 / 100 SEO Score

 

হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা আরও তীব্র হয়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, তারা ইরানের ছয়টি ছোট নৌযান ধ্বংস করেছে এবং একাধিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করেছে। এর আগে মার্কিন যুদ্ধজাহাজে হামলার দাবি করে ইরান। এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

মার্কিন বাহিনীর দাবি, যুক্তরাষ্ট্র নতুন নৌ অভিযান শুরুর পর তেহরান হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল পুনরায় চালুর প্রচেষ্টায় বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে এই সংঘাতের ঘটনা ঘটে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নামে এ অভিযান শুরু করেন। এর লক্ষ্য হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ইরানের হাত থেকে পুনরুদ্ধার করা। এর আগে ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাত শুরুর পর ইরান কার্যত প্রণালিটি বন্ধ করে দেয়।

যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে কি না, এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার। তিনি বলেন, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) মার্কিন অভিযানে বাধা দিতে সক্রিয় রয়েছে।

কুপারের ভাষ্য অনুযায়ী, আইআরজিসি একাধিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও ছোট নৌকা পাঠিয়ে মার্কিন সুরক্ষায় থাকা জাহাজগুলোর ওপর হামলার চেষ্টা চালায়। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপে এসব হুমকি প্রতিহত করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি আরও জানান, এ অভিযানে প্রায় ১৫ হাজার মার্কিন সেনা, নৌবাহিনীর ডেস্ট্রয়ার, শতাধিক স্থল ও সমুদ্রভিত্তিক উড়োজাহাজ এবং পানির নিচের সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন করা হয়েছে। মাঠপর্যায়ের কমান্ডারদের বাণিজ্যিক জাহাজ সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের কর্তৃত্ব দেওয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

সোমবার হরমুজ প্রণালিতে একটি দক্ষিণ কোরীয় জাহাজ বিস্ফোরণের শিকার হয়। তবে ট্রাম্প জানান, জাহাজটি মার্কিন অভিযানের অংশ ছিল না। তিনি আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র সাতটি ইরানি দ্রুতগতির নৌকা ডুবিয়েছে।

অন্যদিকে, ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস যুক্তরাষ্ট্রের দাবি প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে, গত কয়েক ঘণ্টায় কোনো বাণিজ্যিক জাহাজ প্রণালি অতিক্রম করেনি। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমও ইরানি নৌযান ধ্বংসের খবর অস্বীকার করেছে।

হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে মার্কিন অভিযানে একাধিক ধাপ নেওয়া হয়েছে। প্রথমে সমুদ্রে পাতা মাইন অপসারণ করে নিরাপদ পথ তৈরি করা হয়। এরপর সেই পথ নিরাপদ প্রমাণে যুক্তরাষ্ট্রের পতাকাবাহী দুটি বাণিজ্যিক জাহাজ প্রণালি অতিক্রম করানো হয়।

বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালিতে সংঘাতের প্রভাব পড়ছে আন্তর্জাতিক বাজারে। যুদ্ধের আগে বৈশ্বিক তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হতো।

কুপার বলেন, ইরানের হুমকির কারণে ৮৭টি দেশের জাহাজ উপসাগরে আটকে পড়েছে। তবুও যুক্তরাষ্ট্র জাহাজ চলাচল পুনরায় শুরু করতে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি জানান, গত ১২ ঘণ্টায় ডজনখানেক জাহাজ ও শিপিং কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং কিছু অগ্রগতিও দেখা যাচ্ছে।

তবে পরিস্থিতি এখনো অনিশ্চিত রয়ে গেছে। ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধও বহাল রয়েছে, যার ফলে জাহাজ চলাচল আরও জটিল হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

ডিবি/এল