Dhaka ০৬:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ট্রাম্পের শুল্কযুদ্ধ মোকাবেলায় কি করবে ইউরোপ?

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৯:৩১:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬
  • ২৪ Time View

আর্কটিক দ্বীপ গ্রিনল্যান্ড কেনার উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক ঘোষণায় উত্তাল হয়ে উঠেছে আটলান্টিক পাড়ের ভূ-রাজনীতি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট এই প্রস্তাবে সায় না দিলে ইউরোপের আটটি দেশের ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন। সেই হুমকি কেন্দ্র করে বড় ধরনের বাণিজ্য যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

গত বছর স্কটল্যান্ডে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেনের সঙ্গে ট্রাম্পের যে বাণিজ্য চুক্তি হয়েছিল, তা এখন খাদের কিনারায়। ওই চুক্তিতে ইউরোপীয় পণ্যের ওপর শুল্ক ১৫ শতাংশে সীমিত রাখা হয়েছিল। কিন্তু গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ডেনমার্ক, জার্মানি, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্যসহ আট দেশের ওপর পহেলা ফেব্রুয়ারি থেকে ১০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক চালুর ঘোষণা দিয়েছেন ট্রাম্প। আগামী গ্রীষ্মের মধ্যে এই শুল্ক ২৫ শতাংশে পৌঁছাতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেছেন।

ট্রাম্পের এই ‘অর্থনৈতিক ব্ল্যাকমেইল’ মোকাবিলায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) তার সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র ‘অ্যান্টি-কোয়ার্সন ইনস্ট্রুমেন্ট’ বা এসিআই ব্যবহারের কথা গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে।

কূটনৈতিক মহলে যা ‘ট্রেড বাজুকা’ বা বাণিজ্য কামান হিসেবে পরিচিত। এই আইনের অধীনে ইইউ কোনো দেশের অর্থনৈতিক চাপের মুখে পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে শুল্ক আরোপ, বিনিয়োগে নিষেধাজ্ঞা এমনকি ইউরোপীয় একক বাজারে প্রবেশাধিকার বন্ধ করে দিতে পারে।

তবে এটি একটি দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়া, যা কার্যকর হতে প্রায় এক বছর সময় লাগতে পারে। তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট ইতোমধ্যেই গত বছরের জুলাইয়ে স্বাক্ষরিত ইইউ-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তির চূড়ান্ত অনুমোদন স্থগিত করার ইঙ্গিত দিয়েছে।

যদি ৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে কোনো নতুন সমঝোতা না হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৯৩ বিলিয়ন ইউরো মূল্যের পণ্যের ওপর স্থগিত থাকা পুরোনো শুল্কগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর হয়ে যাবে। এতে করে মার্কিন বিমান যন্ত্রাংশ, কৃষিপণ্য ও হুইস্কির বাজারে বড় ধরনের ধস নামার আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে ব্রেক্সিট পরবর্তী সম্পর্কের টানে যুক্তরাজ্যের অবস্থান কিছুটা নমনীয় হলেও প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ের স্টারমার স্পষ্ট করে দিয়েছেন, মিত্রদের বিরুদ্ধে শুল্ক যুদ্ধ কারো জন্যই মঙ্গলজনক হবে না। তিনি এখনই সরাসরি পাল্টা শুল্ক আরোপের পথে না হাঁটলেও বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে অ্যামাজন বা মেটার মতো মার্কিন টেক জায়ান্টদের ওপর ‘ডিজিটাল সার্ভিস ট্যাক্স’ বাড়ানোর বিষয়টি নাকচ করে দেননি।

ইউরোপীয় কমিশনও সতর্ক করে বলেছে, ইইউ দেশগুলোর মধ্যে উৎপাদন প্রক্রিয়ার জটিল চেইনের কারণে নির্দিষ্ট কয়েকটি দেশের ওপর শুল্ক আরোপ করা ট্রাম্পের জন্য প্রযুক্তিগতভাবে কঠিন হবে। শেষ পর্যন্ত এই দ্বন্দ্ব মেটাতে আন্তর্জাতিক আদালতের দ্বারস্থ হওয়া বা মার্কিন সুপ্রিম কোর্টে চলমান আইনি চ্যালেঞ্জের ওপরই সবার নজর এখন।

তবে গ্রিনল্যান্ডের সার্বভৌমত্ব বনাম হোয়াইট হাউসের বাণিজ্যিক আগ্রাসনের এই লড়াই বিশ্ব অর্থনীতির জন্য এক অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ সংকেত দিচ্ছে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

আলোচিত সংবাদ

ট্রাম্পের শুল্কযুদ্ধ মোকাবেলায় কি করবে ইউরোপ?

Update Time : ০৯:৩১:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬

আর্কটিক দ্বীপ গ্রিনল্যান্ড কেনার উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক ঘোষণায় উত্তাল হয়ে উঠেছে আটলান্টিক পাড়ের ভূ-রাজনীতি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট এই প্রস্তাবে সায় না দিলে ইউরোপের আটটি দেশের ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন। সেই হুমকি কেন্দ্র করে বড় ধরনের বাণিজ্য যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

গত বছর স্কটল্যান্ডে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেনের সঙ্গে ট্রাম্পের যে বাণিজ্য চুক্তি হয়েছিল, তা এখন খাদের কিনারায়। ওই চুক্তিতে ইউরোপীয় পণ্যের ওপর শুল্ক ১৫ শতাংশে সীমিত রাখা হয়েছিল। কিন্তু গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ডেনমার্ক, জার্মানি, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্যসহ আট দেশের ওপর পহেলা ফেব্রুয়ারি থেকে ১০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক চালুর ঘোষণা দিয়েছেন ট্রাম্প। আগামী গ্রীষ্মের মধ্যে এই শুল্ক ২৫ শতাংশে পৌঁছাতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেছেন।

ট্রাম্পের এই ‘অর্থনৈতিক ব্ল্যাকমেইল’ মোকাবিলায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) তার সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র ‘অ্যান্টি-কোয়ার্সন ইনস্ট্রুমেন্ট’ বা এসিআই ব্যবহারের কথা গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে।

কূটনৈতিক মহলে যা ‘ট্রেড বাজুকা’ বা বাণিজ্য কামান হিসেবে পরিচিত। এই আইনের অধীনে ইইউ কোনো দেশের অর্থনৈতিক চাপের মুখে পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে শুল্ক আরোপ, বিনিয়োগে নিষেধাজ্ঞা এমনকি ইউরোপীয় একক বাজারে প্রবেশাধিকার বন্ধ করে দিতে পারে।

তবে এটি একটি দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়া, যা কার্যকর হতে প্রায় এক বছর সময় লাগতে পারে। তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট ইতোমধ্যেই গত বছরের জুলাইয়ে স্বাক্ষরিত ইইউ-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তির চূড়ান্ত অনুমোদন স্থগিত করার ইঙ্গিত দিয়েছে।

যদি ৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে কোনো নতুন সমঝোতা না হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৯৩ বিলিয়ন ইউরো মূল্যের পণ্যের ওপর স্থগিত থাকা পুরোনো শুল্কগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর হয়ে যাবে। এতে করে মার্কিন বিমান যন্ত্রাংশ, কৃষিপণ্য ও হুইস্কির বাজারে বড় ধরনের ধস নামার আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে ব্রেক্সিট পরবর্তী সম্পর্কের টানে যুক্তরাজ্যের অবস্থান কিছুটা নমনীয় হলেও প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ের স্টারমার স্পষ্ট করে দিয়েছেন, মিত্রদের বিরুদ্ধে শুল্ক যুদ্ধ কারো জন্যই মঙ্গলজনক হবে না। তিনি এখনই সরাসরি পাল্টা শুল্ক আরোপের পথে না হাঁটলেও বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে অ্যামাজন বা মেটার মতো মার্কিন টেক জায়ান্টদের ওপর ‘ডিজিটাল সার্ভিস ট্যাক্স’ বাড়ানোর বিষয়টি নাকচ করে দেননি।

ইউরোপীয় কমিশনও সতর্ক করে বলেছে, ইইউ দেশগুলোর মধ্যে উৎপাদন প্রক্রিয়ার জটিল চেইনের কারণে নির্দিষ্ট কয়েকটি দেশের ওপর শুল্ক আরোপ করা ট্রাম্পের জন্য প্রযুক্তিগতভাবে কঠিন হবে। শেষ পর্যন্ত এই দ্বন্দ্ব মেটাতে আন্তর্জাতিক আদালতের দ্বারস্থ হওয়া বা মার্কিন সুপ্রিম কোর্টে চলমান আইনি চ্যালেঞ্জের ওপরই সবার নজর এখন।

তবে গ্রিনল্যান্ডের সার্বভৌমত্ব বনাম হোয়াইট হাউসের বাণিজ্যিক আগ্রাসনের এই লড়াই বিশ্ব অর্থনীতির জন্য এক অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ সংকেত দিচ্ছে।