Dhaka ০৯:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ৩০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ঢামেকে মারামারি, ৬ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন

নিজেস্ব প্রতিবেদক
5 / 100 SEO Score

 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শিক্ষার্থী-ইন্টার্ন চিকিৎসকদের মধ্যে মারামারির ঘটনায় ছয় সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এই কমিটিকে আগমী ১১ জুলাইয়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জরুরি বিভাগে চিকিৎসা সেবা চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়।

বুধবার (৮ এপ্রিল) রাত ১০টা ৫ মিনিটের দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে প্রশাসনিক ব্লকে বৈঠক শেষে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান এ তথ্য জানান।

ঘটনার সূত্রপাতের বিষয়ে জানা যায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর এক শিক্ষার্থী অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন। জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত জেনারেল সার্জারি বিভাগের এক চিকিৎসক রোগীকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে অন্যান্য চিকিৎসার পাশাপাশি বাইরে থেকে ‘নেলবান’ নামের একটি ইনজেকশন কিনে আনার পরামর্শ দেন। এটি হাসপাতালে ছিল না। শিক্ষার্থীর সঙ্গে থাকা সহপাঠীরা ইনজেকশনটি কিনতে বাইরে গেলে কোথাও তা খুঁজে পাননি। পরে তারা আবার হাসপাতালে ফিরে এসে চিকিৎসকের কাছে এ বিষয়ে জানতে চান যে, এই ইনজেকশন খুঁজে কোথাও পাওয়া যায়নি।

আরও জানা যায়, এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়, যা একপর্যায়ে হাতাহাতিতে রূপ নেয় বলে জানা গেছে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে হাসপাতাল চত্বরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে হাসপাতালের ভবনের নিচে জরুরি বিভাগের প্রধান প্রবেশপথ ‘কেচি গেট’ বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং জরুরি বিভাগের চিকিৎসা কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়।

ঘটনার পর হাসপাতাল চত্বরে অবস্থান নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। অপরদিকে, হাসপাতালের ভেতরে অবস্থান নেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। মাঝে কেচি গেট তালা মারা।

এ বিষয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এর জরুরি বিভাগের আবাসিক চিকিৎসক ডা. মোস্তাক আহমেদ জানান, যে ইনজেকশনটি প্রেসক্রাইব করা হয়েছে সেটি প্যাসিডিন জাতীয়। তার ধারণা, এ কারণেই হয়তো ওষুধ বিক্রেতারা সেটি দিতে চাননি, যদিও সাধারণত এই ধরনের ইনজেকশন বিভিন্ন জায়গায় পাওয়া যায়। চিকিৎসকদের ওপর হামলার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আপাতত জরুরি বিভাগের চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে।

এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের একটি অংশ জরুরি বিভাগের গেট ভেঙে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তিনি বলেন, চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জরুরি বিভাগের প্রধান গেট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

ঢামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর চিকিৎসাকে কেন্দ্র করে একটি অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় যারা দায়ী তাদের চিহ্নিত করার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ডিনকে প্রধান করে ছয় সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি আগামী শনিবার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেবেন। কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। কমিটিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি ডাইরেক্টর ইন্টার্ন চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে একজন, ঢাবির অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রক্টর দুজন এবং রমনা বিভাগের ডিসি।

জরুরি বিভাগ কি আপনারা চালু করছেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আপনাদের সাথে কথা বলেই জরুরি বিভাগ চালু করা হবে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া পর্যন্ত যেন কোনো ধরনের চিকিৎসায় বন্ধ না হয়, সেটি আমরা নিশ্চিত করব।

পরিচালক আরও বলেন, আপনারা জানেন প্রতিদিন প্রায় জরুরি বিভাগের ১৭০০ রোগী চিকিৎসা নিতে আসে। এই ধরনের ঘটনা কারো কাঙ্ক্ষিত নয়, মাঝেমধ্যে দুই একটি ঘটনা হয়ে যায়। আমরা কেস টু কেস ঘটনার আমরা তদন্ত করি। আমাদের চিকিৎসকরা এখানে নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে। আমরা চিকিৎসকদের সিকিউরড রাখতে পারি না এটা সত্য কথা। আপনারা যেটা বলেছেন সারাদেশেই ডাক্তারদের নিরাপত্তাহীনতা আছে। এর আগে ডাক্তারদের সুরক্ষার জন্য আইন করা হয়েছিল কিন্তু সেটি আর বাস্তবায়ন হয়নি। আমরা মন্ত্রণালয়ে আবার কথা বলব যাতে চিকিৎসকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয়। চিকিৎসক যদি নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে তাহলে চিকিৎসা সেবা দিবে কীভাবে। চিকিৎসকের দায়িত্ব চিকিৎসা দেওয়া কিন্তু রোগীদের ও তাদের সাথে ভালো ব্যবহার করা উচিত। চিকিৎসক এবং রোগীদের যে রিলেশন পারস্পারিকভাবে সেটি উন্নতির দরকার। চিকিৎসক ও রোগীদের সাথে ভালো ব্যবহার করবে এবং রোগীরাও চিকিৎসকের সাথে ভালো ব্যবহার করবে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

ঢামেকে মারামারি, ৬ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন

Update Time : ০৫:৫৬:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬
5 / 100 SEO Score

 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শিক্ষার্থী-ইন্টার্ন চিকিৎসকদের মধ্যে মারামারির ঘটনায় ছয় সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এই কমিটিকে আগমী ১১ জুলাইয়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জরুরি বিভাগে চিকিৎসা সেবা চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়।

বুধবার (৮ এপ্রিল) রাত ১০টা ৫ মিনিটের দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে প্রশাসনিক ব্লকে বৈঠক শেষে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান এ তথ্য জানান।

ঘটনার সূত্রপাতের বিষয়ে জানা যায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর এক শিক্ষার্থী অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন। জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত জেনারেল সার্জারি বিভাগের এক চিকিৎসক রোগীকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে অন্যান্য চিকিৎসার পাশাপাশি বাইরে থেকে ‘নেলবান’ নামের একটি ইনজেকশন কিনে আনার পরামর্শ দেন। এটি হাসপাতালে ছিল না। শিক্ষার্থীর সঙ্গে থাকা সহপাঠীরা ইনজেকশনটি কিনতে বাইরে গেলে কোথাও তা খুঁজে পাননি। পরে তারা আবার হাসপাতালে ফিরে এসে চিকিৎসকের কাছে এ বিষয়ে জানতে চান যে, এই ইনজেকশন খুঁজে কোথাও পাওয়া যায়নি।

আরও জানা যায়, এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়, যা একপর্যায়ে হাতাহাতিতে রূপ নেয় বলে জানা গেছে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে হাসপাতাল চত্বরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে হাসপাতালের ভবনের নিচে জরুরি বিভাগের প্রধান প্রবেশপথ ‘কেচি গেট’ বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং জরুরি বিভাগের চিকিৎসা কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়।

ঘটনার পর হাসপাতাল চত্বরে অবস্থান নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। অপরদিকে, হাসপাতালের ভেতরে অবস্থান নেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। মাঝে কেচি গেট তালা মারা।

এ বিষয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এর জরুরি বিভাগের আবাসিক চিকিৎসক ডা. মোস্তাক আহমেদ জানান, যে ইনজেকশনটি প্রেসক্রাইব করা হয়েছে সেটি প্যাসিডিন জাতীয়। তার ধারণা, এ কারণেই হয়তো ওষুধ বিক্রেতারা সেটি দিতে চাননি, যদিও সাধারণত এই ধরনের ইনজেকশন বিভিন্ন জায়গায় পাওয়া যায়। চিকিৎসকদের ওপর হামলার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আপাতত জরুরি বিভাগের চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে।

এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের একটি অংশ জরুরি বিভাগের গেট ভেঙে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তিনি বলেন, চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জরুরি বিভাগের প্রধান গেট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

ঢামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর চিকিৎসাকে কেন্দ্র করে একটি অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় যারা দায়ী তাদের চিহ্নিত করার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ডিনকে প্রধান করে ছয় সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি আগামী শনিবার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেবেন। কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। কমিটিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি ডাইরেক্টর ইন্টার্ন চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে একজন, ঢাবির অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রক্টর দুজন এবং রমনা বিভাগের ডিসি।

জরুরি বিভাগ কি আপনারা চালু করছেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আপনাদের সাথে কথা বলেই জরুরি বিভাগ চালু করা হবে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া পর্যন্ত যেন কোনো ধরনের চিকিৎসায় বন্ধ না হয়, সেটি আমরা নিশ্চিত করব।

পরিচালক আরও বলেন, আপনারা জানেন প্রতিদিন প্রায় জরুরি বিভাগের ১৭০০ রোগী চিকিৎসা নিতে আসে। এই ধরনের ঘটনা কারো কাঙ্ক্ষিত নয়, মাঝেমধ্যে দুই একটি ঘটনা হয়ে যায়। আমরা কেস টু কেস ঘটনার আমরা তদন্ত করি। আমাদের চিকিৎসকরা এখানে নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে। আমরা চিকিৎসকদের সিকিউরড রাখতে পারি না এটা সত্য কথা। আপনারা যেটা বলেছেন সারাদেশেই ডাক্তারদের নিরাপত্তাহীনতা আছে। এর আগে ডাক্তারদের সুরক্ষার জন্য আইন করা হয়েছিল কিন্তু সেটি আর বাস্তবায়ন হয়নি। আমরা মন্ত্রণালয়ে আবার কথা বলব যাতে চিকিৎসকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয়। চিকিৎসক যদি নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে তাহলে চিকিৎসা সেবা দিবে কীভাবে। চিকিৎসকের দায়িত্ব চিকিৎসা দেওয়া কিন্তু রোগীদের ও তাদের সাথে ভালো ব্যবহার করা উচিত। চিকিৎসক এবং রোগীদের যে রিলেশন পারস্পারিকভাবে সেটি উন্নতির দরকার। চিকিৎসক ও রোগীদের সাথে ভালো ব্যবহার করবে এবং রোগীরাও চিকিৎসকের সাথে ভালো ব্যবহার করবে।