Dhaka ০২:৩৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দাদা-দাদির কবরের পাশেই চিরনিদ্রায় শায়িত হলো ছোট্ট রামিসা

নিজস্ব প্রতিবেদক
4 / 100 SEO Score

 

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে ধর্ষণের পর নির্মম হত্যার শিকার আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখানে দাফন করা হয়েছে তার দাদা-দাদির কবরের পাশে।

বুধবার (২০ মে) রাত সাড়ে ৯টার দিকে জানাজা শেষে উপজেলার ইছাপুরা ইউনিয়নের মধ্য শিয়ালদী গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে তাকে সমাহিত করা হয়।

এর আগে রাত ৮টার দিকে অ্যাম্বুলেন্সে করে রামিসার মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়। স্বজন ও এলাকাবাসীর কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।

রামিসা মধ্য শিয়ালদী গ্রামের হান্নান মোল্লার মেয়ে। সে একটি স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল।

জানাজায় আত্মীয়-স্বজন, স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। এ সময় কবরস্থানে শিশুটির পরিবারের আহাজারিতে উপস্থিত অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

এদিকে এ ঘটনায় জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে মুন্সিগঞ্জ শহরে মশাল মিছিল ও বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ।

রামিসা হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার সোহেল রানা বুধবার আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। একই মামলায় তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) আবুল কালাম আজাদ এসব তথ্য জানিয়েছেন।

মামলার তথ্য অনুযায়ী, গত সোমবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সে বাসা থেকে বের হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, স্বপ্না আক্তার কৌশলে তাকে নিজেদের ফ্ল্যাটে নিয়ে যান।

আবেদনে আরও বলা হয়, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্কুলে নিয়ে যাওয়ার জন্য শিশুটিকে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে অভিযুক্তদের ফ্ল্যাটের সামনে শিশুটির জুতা দেখতে পান তারা। পরে ডাকাডাকিতে সাড়া না পেয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকেন স্বজন ও প্রতিবেশীরা। ওই ফ্ল্যাটে শিশুটির মরদেহ খণ্ডিত অবস্থায় পাওয়া যায়। ওই ফ্ল্যাট থেকে স্বপ্না আক্তারকে আটক করা হয়। তবে ঘটনার পর একটি কক্ষের জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যান সোহেল রানা। পরে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার সামনে থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এ ঘটনায় রামিসার বাবা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় বলা হয়েছে, শিশুটিকে যখন সোহেল রানাদের ফ্ল্যাটে নেওয়া হয়েছিল, সে সময় সেখানে তৃতীয় একজন ব্যক্তি ছিলেন। শিশুটির স্বজনসহ অন্যরা দরজা ভেঙে ওই ফ্ল্যাটে ঢোকার আগে তিনি সেখান থেকে চলে যান। এ ঘটনায় গ্রেফতারকৃতরা আদালতে হাজির হয়ে নিজেদের অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।

নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসী এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

 

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

দাদা-দাদির কবরের পাশেই চিরনিদ্রায় শায়িত হলো ছোট্ট রামিসা

Update Time : ০৫:২২:৫৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬
4 / 100 SEO Score

 

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে ধর্ষণের পর নির্মম হত্যার শিকার আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখানে দাফন করা হয়েছে তার দাদা-দাদির কবরের পাশে।

বুধবার (২০ মে) রাত সাড়ে ৯টার দিকে জানাজা শেষে উপজেলার ইছাপুরা ইউনিয়নের মধ্য শিয়ালদী গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে তাকে সমাহিত করা হয়।

এর আগে রাত ৮টার দিকে অ্যাম্বুলেন্সে করে রামিসার মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়। স্বজন ও এলাকাবাসীর কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।

রামিসা মধ্য শিয়ালদী গ্রামের হান্নান মোল্লার মেয়ে। সে একটি স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল।

জানাজায় আত্মীয়-স্বজন, স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। এ সময় কবরস্থানে শিশুটির পরিবারের আহাজারিতে উপস্থিত অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

এদিকে এ ঘটনায় জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে মুন্সিগঞ্জ শহরে মশাল মিছিল ও বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ।

রামিসা হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার সোহেল রানা বুধবার আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। একই মামলায় তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) আবুল কালাম আজাদ এসব তথ্য জানিয়েছেন।

মামলার তথ্য অনুযায়ী, গত সোমবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সে বাসা থেকে বের হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, স্বপ্না আক্তার কৌশলে তাকে নিজেদের ফ্ল্যাটে নিয়ে যান।

আবেদনে আরও বলা হয়, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্কুলে নিয়ে যাওয়ার জন্য শিশুটিকে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে অভিযুক্তদের ফ্ল্যাটের সামনে শিশুটির জুতা দেখতে পান তারা। পরে ডাকাডাকিতে সাড়া না পেয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকেন স্বজন ও প্রতিবেশীরা। ওই ফ্ল্যাটে শিশুটির মরদেহ খণ্ডিত অবস্থায় পাওয়া যায়। ওই ফ্ল্যাট থেকে স্বপ্না আক্তারকে আটক করা হয়। তবে ঘটনার পর একটি কক্ষের জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যান সোহেল রানা। পরে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার সামনে থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এ ঘটনায় রামিসার বাবা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় বলা হয়েছে, শিশুটিকে যখন সোহেল রানাদের ফ্ল্যাটে নেওয়া হয়েছিল, সে সময় সেখানে তৃতীয় একজন ব্যক্তি ছিলেন। শিশুটির স্বজনসহ অন্যরা দরজা ভেঙে ওই ফ্ল্যাটে ঢোকার আগে তিনি সেখান থেকে চলে যান। এ ঘটনায় গ্রেফতারকৃতরা আদালতে হাজির হয়ে নিজেদের অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।

নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসী এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।