Dhaka ১১:১৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দাম বাড়তেই ‘ম্যাজিক’, বাজারে ফিরলো উধাও সয়াবিন

12 / 100 SEO Score

 

বাজারে সয়াবিন তেলের সরবরাহ কমতে থাকে গত মাস কয়েক মাস আগ থেকে। এক মাস ধরে এই সংকট আরও তীব্র হয়। ব্রান্ডের পাশাপাশি ননব্যান্ডের সয়াবিন তেলেরও যেন নাগাল পাওয়া যাচ্ছিল না। দাম বাড়ানোর পর সেই তেল রাতারাতি বাজারে ফিরতে শুরু করেছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র চোখে পড়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন সুপার শপেও দেখা মিলেছে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সয়াবিন তেলের।

রাজধানীর বনশ্রীর মেরাদিয়া বাজার। বনশ্রীসহ পার্শ্ববর্তী আফতাবনগর এমনকি খিলগাঁও থেকেও বাজার করার জন্য লোকজন এখানে আসেন। এই বাজারে অবস্থিত মায়ের দোয়া মুদি স্টোর। সেখানে আজ সয়াবিনের তেল দেখা যায়। অথচ দু-দিন আগেও এই দোকানে তেল ছিল না।

এ প্রসঙ্গে দোকান মালিক আনোয়ার হোসেন বলেন, আজ থেকে বাজারে আসছে ব্র্যান্ডের সয়াবিন তেল। এক, দুই ও পাঁচ লিটার– সবই এখান পর্যান্ত আসছে।

তিনি বলেন, বেশকিছু দিন ধরে সরবরাহ ছিল না। আমরা ননব্র্যান্ডের কিছু তেল বিক্রি করেছি। এখন যেহেতু ব্র্যান্ডের তেল আসছে কাস্টমাররাও নিচ্ছেন।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দাম বাড়ার পর বাজারে তেল আসছে এটা ঠিক। কিন্তু আমরা স্টক করে রাখিনি। এটা বড় ব্যবসায়ীরদের বিষয়।

একই বাজারের মায়ের দোয়া ভ্যারাইটি স্টোরে গিয়েও চোখে পড়ে বোতলজাত সয়াবিন তেল। দোকান মালিক মাহমুদল হাসান জানান, আজ সকালে তেল এসেছে। এতদিন আমরা পাইনি। ননব্র্যান্ড বিক্রি করতে হয়েছে। তারপরও সেগুলোও ঠিকমত পাওয়া যায়নি। গতকাল দাম বাড়ার পর আজ তেল আসা শুরু হয়। হয়তো দাম বাড়বে বলেই এটা স্টকে রাখাছিল।

এক প্রশ্নের জবাবে মাহমুদুল বলেন, এখানে আসলে আমাদের বলার কিছু নাই। আমরা যদি না পাই তবে কীকরে বিক্রি করবো। আর এগুলো আমাদের স্টক করার ক্ষমতাও নাই।

বনশ্রী এফ-জি এভিনিউ রোডের রাসেল ভ্যারাইটি স্টোরের মালিক রাসেল বলেন, আমরাও আজ তেল পেয়েছি। এক, দুই এবং পাঁচ লিটার সব ধরনেরই আছে।

তিনি বলেন, এখন আমরা যে তেল পেয়েছি সেগুলোর বাড়তি দাম। আমাদের বিক্রি করতে হবে ২০৫ করে প্রতি লিটার। এছাড়া আমাদের করার কিছু নাই।

মেরাদিয়া বাজারে সয়াবিন তেল কিনতে আসা কানিজ ফাতিমা বলেন, ঈদের পর বাজার থেকে সয়াবিন তেল হারিয়ে যায়। এক ধরনের পেলাম, রান্নার সময় দেখি তরকারির ওপরে তেল ভাসে। আসলে ওগুলো পামওয়েল, সয়াবিন বলে বিক্রি করছিল।

তিনি বলেন, কী ম্যাজিক! দাম বাড়লো গতকাল আর এক রাতেই বাজার ভর্তি সয়াবিন তেল। সবগুলো ব্র্যান্ডের। আসলে ব্যবসায়ীদের কাছে আমরা যে বন্দি সেটি প্রমাণিত হলো।

ইসমাইল হোসেন নামে আরেক জন বলেন, দাম বাড়ানোর জন্যই মূলত সয়াবিন স্টকে রেখেছিল ব্যবসায়ীরা। এক ধরনের সংকট তৈরি করে দাম বাড়ানোর পর রাতারাতি বাজার স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে।

এদিকে যে সুপারশপে সয়াবিনের দেখা মিলছিল না, সেই সুপারশপেও এখন তেল মিলছে। বনশ্রীর এফ ব্লকের এভিনিউ রোডে ডেইলি শপিংয়ে পুষ্টি, তীর দুই ব্র্যান্ডের সয়াবিনের তেল দেখা যায়।

সুপারশপের এক কর্মী বলেন, আমাদের যে একেবারেই ছিল না তা নয়, তবে সংকট ছিল।

বনশ্রী জি ব্লকের আগোরাতেও সয়াবিনের দেখা পাওয়া যায়। সেখানকার এক কর্মী জানান, বুধবার বিকাল থেকে তাদের কাছে পর্যাপ্ত সয়াবিন রয়েছে। আগে তাদের যে সংকট ছিল, সেটি আর এখন নেই।

এদিকে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকাতে খোঁজ নিয়ে এমন তথ্য পাওয়া গেছে। রামপুরা বাজারের ব্যবসায়ী আরিফ হাওলাদার বলেন, আজ আমরা সয়াবিন পেয়েছি। সারা মাসের সয়াবিনের যে সংকট ছিল তা কেটেছে।

এছাড়া মালিবাগ, মগবাজার, শান্তিনগর, হাতিরপুল ধানমন্ডি, মিরপুর, উত্তরা, বাড্ডা, বসুন্ধারা, পুরান ঢাকাসহ রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে সয়াবিনের সংকট আর নেই বলে জানা গেছে। প্রসঙ্গত, সর্বশেষ প্রতি লিটার সয়াবিন তেলে চার টাকা বাড়িয়ে নতুন মূল্য নির্ধারণ করেছে সরকার। বুধবার (২৯ এপ্রিল) সচিবালয়ে এক বৈঠক শেষে এ ঘোষণা দেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম প্রতি লিটার ১৯৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৯৯ টাকা হয়েছে। একইভাবে খোলা সয়াবিন তেলের দাম ১৭৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৭৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

 

Tag :

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

দাম বাড়তেই ‘ম্যাজিক’, বাজারে ফিরলো উধাও সয়াবিন

Update Time : ১১:০৮:৫৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬
12 / 100 SEO Score

 

বাজারে সয়াবিন তেলের সরবরাহ কমতে থাকে গত মাস কয়েক মাস আগ থেকে। এক মাস ধরে এই সংকট আরও তীব্র হয়। ব্রান্ডের পাশাপাশি ননব্যান্ডের সয়াবিন তেলেরও যেন নাগাল পাওয়া যাচ্ছিল না। দাম বাড়ানোর পর সেই তেল রাতারাতি বাজারে ফিরতে শুরু করেছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র চোখে পড়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন সুপার শপেও দেখা মিলেছে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সয়াবিন তেলের।

রাজধানীর বনশ্রীর মেরাদিয়া বাজার। বনশ্রীসহ পার্শ্ববর্তী আফতাবনগর এমনকি খিলগাঁও থেকেও বাজার করার জন্য লোকজন এখানে আসেন। এই বাজারে অবস্থিত মায়ের দোয়া মুদি স্টোর। সেখানে আজ সয়াবিনের তেল দেখা যায়। অথচ দু-দিন আগেও এই দোকানে তেল ছিল না।

এ প্রসঙ্গে দোকান মালিক আনোয়ার হোসেন বলেন, আজ থেকে বাজারে আসছে ব্র্যান্ডের সয়াবিন তেল। এক, দুই ও পাঁচ লিটার– সবই এখান পর্যান্ত আসছে।

তিনি বলেন, বেশকিছু দিন ধরে সরবরাহ ছিল না। আমরা ননব্র্যান্ডের কিছু তেল বিক্রি করেছি। এখন যেহেতু ব্র্যান্ডের তেল আসছে কাস্টমাররাও নিচ্ছেন।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দাম বাড়ার পর বাজারে তেল আসছে এটা ঠিক। কিন্তু আমরা স্টক করে রাখিনি। এটা বড় ব্যবসায়ীরদের বিষয়।

একই বাজারের মায়ের দোয়া ভ্যারাইটি স্টোরে গিয়েও চোখে পড়ে বোতলজাত সয়াবিন তেল। দোকান মালিক মাহমুদল হাসান জানান, আজ সকালে তেল এসেছে। এতদিন আমরা পাইনি। ননব্র্যান্ড বিক্রি করতে হয়েছে। তারপরও সেগুলোও ঠিকমত পাওয়া যায়নি। গতকাল দাম বাড়ার পর আজ তেল আসা শুরু হয়। হয়তো দাম বাড়বে বলেই এটা স্টকে রাখাছিল।

এক প্রশ্নের জবাবে মাহমুদুল বলেন, এখানে আসলে আমাদের বলার কিছু নাই। আমরা যদি না পাই তবে কীকরে বিক্রি করবো। আর এগুলো আমাদের স্টক করার ক্ষমতাও নাই।

বনশ্রী এফ-জি এভিনিউ রোডের রাসেল ভ্যারাইটি স্টোরের মালিক রাসেল বলেন, আমরাও আজ তেল পেয়েছি। এক, দুই এবং পাঁচ লিটার সব ধরনেরই আছে।

তিনি বলেন, এখন আমরা যে তেল পেয়েছি সেগুলোর বাড়তি দাম। আমাদের বিক্রি করতে হবে ২০৫ করে প্রতি লিটার। এছাড়া আমাদের করার কিছু নাই।

মেরাদিয়া বাজারে সয়াবিন তেল কিনতে আসা কানিজ ফাতিমা বলেন, ঈদের পর বাজার থেকে সয়াবিন তেল হারিয়ে যায়। এক ধরনের পেলাম, রান্নার সময় দেখি তরকারির ওপরে তেল ভাসে। আসলে ওগুলো পামওয়েল, সয়াবিন বলে বিক্রি করছিল।

তিনি বলেন, কী ম্যাজিক! দাম বাড়লো গতকাল আর এক রাতেই বাজার ভর্তি সয়াবিন তেল। সবগুলো ব্র্যান্ডের। আসলে ব্যবসায়ীদের কাছে আমরা যে বন্দি সেটি প্রমাণিত হলো।

ইসমাইল হোসেন নামে আরেক জন বলেন, দাম বাড়ানোর জন্যই মূলত সয়াবিন স্টকে রেখেছিল ব্যবসায়ীরা। এক ধরনের সংকট তৈরি করে দাম বাড়ানোর পর রাতারাতি বাজার স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে।

এদিকে যে সুপারশপে সয়াবিনের দেখা মিলছিল না, সেই সুপারশপেও এখন তেল মিলছে। বনশ্রীর এফ ব্লকের এভিনিউ রোডে ডেইলি শপিংয়ে পুষ্টি, তীর দুই ব্র্যান্ডের সয়াবিনের তেল দেখা যায়।

সুপারশপের এক কর্মী বলেন, আমাদের যে একেবারেই ছিল না তা নয়, তবে সংকট ছিল।

বনশ্রী জি ব্লকের আগোরাতেও সয়াবিনের দেখা পাওয়া যায়। সেখানকার এক কর্মী জানান, বুধবার বিকাল থেকে তাদের কাছে পর্যাপ্ত সয়াবিন রয়েছে। আগে তাদের যে সংকট ছিল, সেটি আর এখন নেই।

এদিকে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকাতে খোঁজ নিয়ে এমন তথ্য পাওয়া গেছে। রামপুরা বাজারের ব্যবসায়ী আরিফ হাওলাদার বলেন, আজ আমরা সয়াবিন পেয়েছি। সারা মাসের সয়াবিনের যে সংকট ছিল তা কেটেছে।

এছাড়া মালিবাগ, মগবাজার, শান্তিনগর, হাতিরপুল ধানমন্ডি, মিরপুর, উত্তরা, বাড্ডা, বসুন্ধারা, পুরান ঢাকাসহ রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে সয়াবিনের সংকট আর নেই বলে জানা গেছে। প্রসঙ্গত, সর্বশেষ প্রতি লিটার সয়াবিন তেলে চার টাকা বাড়িয়ে নতুন মূল্য নির্ধারণ করেছে সরকার। বুধবার (২৯ এপ্রিল) সচিবালয়ে এক বৈঠক শেষে এ ঘোষণা দেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম প্রতি লিটার ১৯৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৯৯ টাকা হয়েছে। একইভাবে খোলা সয়াবিন তেলের দাম ১৭৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৭৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়।