Dhaka ০৫:২৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নিজের সীমা ভেঙে ‘দম’-এ নিশো: এক মানুষের বাঁচার লড়াইয়ের গল্প

10 / 100 SEO Score

ঈদে মুক্তি পাওয়া সিনেমা ‘দম’ নিয়ে দর্শকদের আগ্রহের কেন্দ্রে রয়েছেন জনপ্রিয় অভিনেতা আফরান নিশো। পরিচালক রেদওয়ান রনির নির্মাণে এই সিনেমায় তিনি অভিনয় করেছেন শাহজাহান নূর চরিত্রে, যা তার ক্যারিয়ারে একেবারেই ভিন্ন অভিজ্ঞতা এনে দিয়েছে।সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে এই সিনেমা ও নিজের প্রস্তুতি নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেছেন তিনি।সাক্ষাৎকারে নিশো বলেন, ‘দম’ শুধুমাত্র একটি সারভাইভাল গল্প নয় বরং এটি বহুস্তরের এক মানবিক সংগ্রামের কাহিনী। তার ভাষায়, সিনেমার কেন্দ্রীয় চরিত্র শাহজাহান নূর একজন সাধারণ মানুষ, যার জীবন সীমিত সুযোগ, চাপ ও অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে এগোয়। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি তাকে এমন এক জায়গায় নিয়ে যায়, যেখানে বেঁচে থাকাটাই হয়ে ওঠে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এই লড়াই শুধু শারীরিক নয় বরং মানসিক, সামাজিক ও নৈতিক দিক থেকেও গভীর।

এই চরিত্রের জন্য প্রস্তুতি নিতে গিয়ে নিজেকে ভেঙে নতুনভাবে গড়ে তুলতে হয়েছে বলে জানান নিশো। তিনি বলেন, শাহজাহান নূর আমার জন্য শুধু একটা চরিত্র ছিল না। এটি ছিল এক ধরনের জার্নি। এই চরিত্রের জন্য আমাকে মানসিক ও শারীরিকভাবে অনেকটা ঝুঁকি নিতে হয়েছে। আগে আমার ওজন ছিল ৮৪ কেজির মতো। ‘দম’-এর জন্য পরিচালক যখন বললেন ৭৫-এ নামাতে হবে, পরে একটা সময় ৯৬-এও গিয়েছিল। তখন বুঝেছিলাম এটি সহজ হবে না। তারপরও মনে হয়েছে, যদি এই গল্পটা ঠিকভাবে বলতে চাই, তাহলে আমাকে এই পরিবর্তনের ভেতর দিয়েই যেতে হবে। এটি ছিল প্রতিদিন নিজের সঙ্গে নিজের লড়াই। নিয়মিত ডায়েট, কঠোর ওয়ার্কআউট এবং ব্যক্তিগত জীবনযাত্রায় নানা পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে আমি এই প্রস্তুতি সম্পন্ন করি। সিনেমাটি মুক্তির পর দর্শকদের প্রতিক্রিয়াও ইতিবাচক বলে জানিয়েছেন এই অভিনেতা। নিশো বলেন, আমি বিভিন্ন হলে গিয়ে দর্শকদের সঙ্গে সরাসরি দেখা করেছি, কথা বলেছি। তাদের রেসপন্সটা খুবই আন্তরিক ছিল। অনেকেই গল্প নিয়ে কথা বলেছেন। বিশেষ করে সারভাইভাল আর মানুষের ভেতরের লড়াইয়ের জায়গাটা দর্শকদের ছুঁয়ে গেছে। আমার অভিনয় নিয়েও তারা ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন, যা একজন অভিনেতা হিসেবে অবশ্যই খুব অনুপ্রেরণার। নির্মাণশৈলী নিয়েও প্রশংসা শুনেছি।চ্যালেঞ্জিং এই সিনেমায় কাজ করার সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে নিশো বলেন, গল্পের শক্তি এবং পরিচালক রেদওয়ান রনির প্রতি আস্থা আমাকে কাজটি করতে অনুপ্রাণিত করেছে। দীর্ঘদিন পর নতুন কাজ নিয়ে ফেরা এই নির্মাতার প্রতি তার বিশ্বাস ছিল বলেও জানান তিনি।

সিনেমাটির শুটিং অভিজ্ঞতা তুলে ধরে সাক্ষাৎকারে নিশো বলেন, কাজাখস্তানের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় প্রচণ্ড ঠান্ডার মধ্যে শুটিং করা ছিল আমার ক্যারিয়ারের অন্যতম কঠিন অভিজ্ঞতা। এতদিন যত কাজ করেছি, এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি আগে কখনও হইনি। সেখানকার ঠান্ডাটা ছিল সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তাপমাত্রা হয়তো মাইনাস ৮ ডিগ্রির মতো ছিল, কিন্তু অনুভূত হতো মাইনাস ১৫-এর কাছাকাছি। সেই প্রচণ্ড ঠান্ডার মধ্যে শুটিং করা, সংলাপ বলা, শরীর ঠিক রাখা–সবকিছুই কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছিল। তারপরও প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যেও পুরো টিম একসঙ্গে কাজটি সম্পন্ন করেছে, যা আমার কাছে একটি বড় অর্জন।নিজের আগের কাজের তুলনায় ‘দম’-কে ভিন্নধর্মী উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই সিনেমার ক্যানভাস বড় এবং এতে চরিত্রের ভেতরের যাত্রা ও ভৌগোলিক পরিবেশকে বিস্তৃতভাবে তুলে ধরা হয়েছে। ‘দম’ শুধু আরেকটা সিনেমা না। এটা আমার জন্য একেবারে নতুন ধরনের অভিজ্ঞতা, যেখানে একজন অভিনেতা হিসেবে আমাকে নিজের সীমার বাইরে গিয়ে কাজ করতে হয়েছে।

Tag :

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

নিজের সীমা ভেঙে ‘দম’-এ নিশো: এক মানুষের বাঁচার লড়াইয়ের গল্প

Update Time : ১০:২৫:১৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬
10 / 100 SEO Score

ঈদে মুক্তি পাওয়া সিনেমা ‘দম’ নিয়ে দর্শকদের আগ্রহের কেন্দ্রে রয়েছেন জনপ্রিয় অভিনেতা আফরান নিশো। পরিচালক রেদওয়ান রনির নির্মাণে এই সিনেমায় তিনি অভিনয় করেছেন শাহজাহান নূর চরিত্রে, যা তার ক্যারিয়ারে একেবারেই ভিন্ন অভিজ্ঞতা এনে দিয়েছে।সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে এই সিনেমা ও নিজের প্রস্তুতি নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেছেন তিনি।সাক্ষাৎকারে নিশো বলেন, ‘দম’ শুধুমাত্র একটি সারভাইভাল গল্প নয় বরং এটি বহুস্তরের এক মানবিক সংগ্রামের কাহিনী। তার ভাষায়, সিনেমার কেন্দ্রীয় চরিত্র শাহজাহান নূর একজন সাধারণ মানুষ, যার জীবন সীমিত সুযোগ, চাপ ও অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে এগোয়। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি তাকে এমন এক জায়গায় নিয়ে যায়, যেখানে বেঁচে থাকাটাই হয়ে ওঠে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এই লড়াই শুধু শারীরিক নয় বরং মানসিক, সামাজিক ও নৈতিক দিক থেকেও গভীর।

এই চরিত্রের জন্য প্রস্তুতি নিতে গিয়ে নিজেকে ভেঙে নতুনভাবে গড়ে তুলতে হয়েছে বলে জানান নিশো। তিনি বলেন, শাহজাহান নূর আমার জন্য শুধু একটা চরিত্র ছিল না। এটি ছিল এক ধরনের জার্নি। এই চরিত্রের জন্য আমাকে মানসিক ও শারীরিকভাবে অনেকটা ঝুঁকি নিতে হয়েছে। আগে আমার ওজন ছিল ৮৪ কেজির মতো। ‘দম’-এর জন্য পরিচালক যখন বললেন ৭৫-এ নামাতে হবে, পরে একটা সময় ৯৬-এও গিয়েছিল। তখন বুঝেছিলাম এটি সহজ হবে না। তারপরও মনে হয়েছে, যদি এই গল্পটা ঠিকভাবে বলতে চাই, তাহলে আমাকে এই পরিবর্তনের ভেতর দিয়েই যেতে হবে। এটি ছিল প্রতিদিন নিজের সঙ্গে নিজের লড়াই। নিয়মিত ডায়েট, কঠোর ওয়ার্কআউট এবং ব্যক্তিগত জীবনযাত্রায় নানা পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে আমি এই প্রস্তুতি সম্পন্ন করি। সিনেমাটি মুক্তির পর দর্শকদের প্রতিক্রিয়াও ইতিবাচক বলে জানিয়েছেন এই অভিনেতা। নিশো বলেন, আমি বিভিন্ন হলে গিয়ে দর্শকদের সঙ্গে সরাসরি দেখা করেছি, কথা বলেছি। তাদের রেসপন্সটা খুবই আন্তরিক ছিল। অনেকেই গল্প নিয়ে কথা বলেছেন। বিশেষ করে সারভাইভাল আর মানুষের ভেতরের লড়াইয়ের জায়গাটা দর্শকদের ছুঁয়ে গেছে। আমার অভিনয় নিয়েও তারা ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন, যা একজন অভিনেতা হিসেবে অবশ্যই খুব অনুপ্রেরণার। নির্মাণশৈলী নিয়েও প্রশংসা শুনেছি।চ্যালেঞ্জিং এই সিনেমায় কাজ করার সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে নিশো বলেন, গল্পের শক্তি এবং পরিচালক রেদওয়ান রনির প্রতি আস্থা আমাকে কাজটি করতে অনুপ্রাণিত করেছে। দীর্ঘদিন পর নতুন কাজ নিয়ে ফেরা এই নির্মাতার প্রতি তার বিশ্বাস ছিল বলেও জানান তিনি।

সিনেমাটির শুটিং অভিজ্ঞতা তুলে ধরে সাক্ষাৎকারে নিশো বলেন, কাজাখস্তানের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় প্রচণ্ড ঠান্ডার মধ্যে শুটিং করা ছিল আমার ক্যারিয়ারের অন্যতম কঠিন অভিজ্ঞতা। এতদিন যত কাজ করেছি, এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি আগে কখনও হইনি। সেখানকার ঠান্ডাটা ছিল সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তাপমাত্রা হয়তো মাইনাস ৮ ডিগ্রির মতো ছিল, কিন্তু অনুভূত হতো মাইনাস ১৫-এর কাছাকাছি। সেই প্রচণ্ড ঠান্ডার মধ্যে শুটিং করা, সংলাপ বলা, শরীর ঠিক রাখা–সবকিছুই কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছিল। তারপরও প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যেও পুরো টিম একসঙ্গে কাজটি সম্পন্ন করেছে, যা আমার কাছে একটি বড় অর্জন।নিজের আগের কাজের তুলনায় ‘দম’-কে ভিন্নধর্মী উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই সিনেমার ক্যানভাস বড় এবং এতে চরিত্রের ভেতরের যাত্রা ও ভৌগোলিক পরিবেশকে বিস্তৃতভাবে তুলে ধরা হয়েছে। ‘দম’ শুধু আরেকটা সিনেমা না। এটা আমার জন্য একেবারে নতুন ধরনের অভিজ্ঞতা, যেখানে একজন অভিনেতা হিসেবে আমাকে নিজের সীমার বাইরে গিয়ে কাজ করতে হয়েছে।