পশ্চিম শেওড়াপাড়ায় গৃহবধূ হত্যা: স্বামীর ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন
রাজধানীর পশ্চিম শেওড়াপাড়ায় গৃহবধূ সুইটি আক্তার (২৫) হত্যার প্রতিবাদে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে তার পরিবার ও স্বজনরা।
রবিবার (১২ এপ্রিল) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এ মানববন্ধন থেকে অভিযুক্ত স্বামী সুজন মিয়ার (৩৬) ফাঁসির দাবি জানানো হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতনের পর পরিকল্পিতভাবে সুইটি আক্তারকে হত্যা করা হয়েছে এবং ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে চালানোর চেষ্টা করা হয়েছে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক বছর আগে কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলার বাহেরচর গ্রামের বাসিন্দা সুইটি আক্তারের সঙ্গে হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার ইটাখোলা গ্রামের সুজন মিয়ার ইসলামী শরিয়া মোতাবেক বিয়ে হয়। বিয়ের পর তারা ঢাকার পশ্চিম শেওড়াপাড়ার ১১৯ নম্বর বাসায় বসবাস শুরু করেন।
অভিযোগ রয়েছে, সুইটি ফ্রিল্যান্সিং ও টিউশনি করে ভালো আয় করলেও তার স্বামী সুজন মিয়া জোরপূর্বক সেই অর্থ নিয়ে নিতেন। আরও অর্থের জন্য নিয়মিত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো।
একপর্যায়ে সুইটি জানতে পারেন, তার উপার্জিত অর্থ অন্য এক বিবাহিত নারীর পেছনে ব্যয় করা হচ্ছে—যার প্রমাণ হিসেবে ভিডিও ও অডিও থাকার দাবি পরিবারের।
পরিবার জানায়, গত ৮ এপ্রিল রাত আনুমানিক ১১টার পর সুইটির ওপর অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়। একপর্যায়ে তাকে হত্যা করে ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে সাজানোর চেষ্টা করা হয়।
পরদিন ৯ এপ্রিল ভোর ৫টা ১০ মিনিটে সুজন মিয়া এক অজ্ঞাত ব্যক্তিকে সঙ্গে নিয়ে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে সুইটির মরদেহ রেখে চলে যান। পরে তিনি ফোনে সুইটির বড় ভাই আরিফকে জানান, সুইটি আত্মহত্যা করেছেন।
খবর পেয়ে স্বজনরা দ্রুত হাসপাতালে গিয়ে মরদেহ শনাক্ত করেন এবং শের-ই-বাংলা নগর থানা ও মিরপুর মডেল থানাকে বিষয়টি অবহিত করেন। অভিযোগ রয়েছে, শের-ই-বাংলা নগর থানা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও মিরপুর মডেল থানার পুলিশ দেরিতে আসে এবং যথাযথ সহযোগিতা করেনি।
এছাড়া মিরপুর মডেল থানার এসআই কাঞ্চন নাহারের বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ তুলেছে পরিবার। তাদের দাবি, তিনি ঘটনাস্থলে এসে স্বজনদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন, মরদেহ সঠিকভাবে পরীক্ষা না করেই তড়িঘড়ি সুরতহাল সম্পন্ন করেন এবং ইচ্ছাকৃতভাবে রিপোর্ট দেরিতে পাঠিয়ে ময়নাতদন্তে বিলম্ব ঘটান।
এমনকি ঘটনাটিকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়। ভিকটিমের বড় ভাইকে জোরপূর্বক এজাহারে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগও ওঠে।
সুইটির ছোট ফুপু নুসরাত বলেন, “এটি একটি নৃশংস হত্যাকাণ্ড। কিন্তু পুলিশের একাংশ আসামিপক্ষের পক্ষে কাজ করে ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে।”
মানববন্ধন থেকে সুজন মিয়া ও তার সহযোগীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান ভুক্তভোগীর পরিবার।




















