Dhaka ০৯:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ৩০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ভাড়া বৃদ্ধি ও জ্বালানিসংকটে জাহাজের ভাড়া বেড়েছে ২০ শতাংশ

12 / 100 SEO Score

 

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং জাহাজ ভাড়া বাড়ার কারণে ইতিমধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্যে নানামুখী সংকট দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না আনলে সামনে আরও বড় সংকটের আশঙ্কা রয়েছে। শিপিং খাত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানাচ্ছে, সমুদ্রগামী মাদার ভেসেলের ভাড়া প্রায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।

একই সঙ্গে চট্টগ্রাম থেকে সিঙ্গাপুর, সাংহাই ও লস অ্যাঞ্জেলসগামী ফিডার জাহাজের কনটেইনার ভাড়া বক্সপ্রতি সর্বনিম্ন ৭০০ থেকে সর্বোচ্চ ৯৫০ ডলার পর্যন্ত বেড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যগামী রুটে ভাড়া দ্বিগুণের বেশি হলেও সময়মতো পরিবহন নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। এছাড়া বিভিন্ন শিপিং কোম্পানি নির্ধারিত ভাড়ার পাশাপাশি ‘ইমারজেন্সি বাংকার সারচার্জ’ আরোপ করেছে।

উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙ্গরে গভীর ড্রাফটের মাদার ভেসেল নোঙর করার পর সেখান থেকে লাইটার জাহাজের মাধ্যমে পণ্য খালাস করা হয়। তবে জেটিতে জায়গার অভাব কিংবা বৈরী আবহাওয়ার কারণে অনেক সময় এসব জাহাজকে অপেক্ষা করতে হয়। বর্তমানে সবচেয়ে বড় সমস্যা দেখা দিয়েছে লাইটার জাহাজ পরিচালনায় জ্বালানিসংকটকে কেন্দ্র করে। প্রতিদিন প্রায় আড়াই লাখ লিটার ডিজেলের চাহিদা থাকলেও মিলছে মাত্র ৬০ হাজার লিটার, যা মোট চাহিদার এক-চতুর্থাংশ। ফলে মাদার ভেসেল থেকে পণ্য খালাসে অন্তত পাঁচ দিন বিলম্ব হচ্ছে।

এই বিলম্বের কারণে প্রতিদিন প্রতি মাদার ভেসেলকে প্রায় ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ডেমারেজ (ক্ষতিপূরণ) গুনতে হচ্ছে। যদিও এই অতিরিক্ত ব্যয় ব্যবসায়ীরাই বহন করছেন, শেষ পর্যন্ত এর প্রভাব পড়বে ভোক্তা পর্যায়ে, এমন আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের।

এ পরিস্থিতিতে আমদানি ও রপ্তানি উভয় খাতেই ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছে দেশের তৈরি পোশাক শিল্প। ব্যবসায়ীরা বলছেন, কোভিড-১৯ পরবর্তী সময়ে বিশ্ব বাণিজ্য যেমন চাপের মুখে পড়েছিল, বর্তমান পরিস্থিতিও তেমনই নতুন সংকট তৈরি করছে। অন্যদিকে, জাহাজ মালিকরা বলছেন, তারা সরাসরি ভাড়া বাড়াননি। তবে ডিজেলসংকটের কারণে পর্যাপ্ত লাইটার জাহাজ সরবরাহ সম্ভব না হওয়ায় মাদার ভেসেল থেকে পণ্য খালাসে বিলম্ব হচ্ছে এবং তাতেই ডেমারেজ খরচ বাড়ছে।

শিপিং খাত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বাড়তি ভাড়া এবং দীর্ঘ সময় জাহাজ অলস দাঁড়িয়ে থাকার কারণে সৃষ্ট ক্ষতি শেষ পর্যন্ত পণ্যের দামের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ভোক্তার ওপর চাপ তৈরি করবে। এ অবস্থায় ব্যবসায়ীরা দ্রুত পর্যাপ্ত ডিজেল সরবরাহ নিশ্চিত করে মাদার ভেসেল থেকে লাইটার জাহাজে পণ্য খালাসের গতি বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যথায় দেশের বাজারে পণ্যের দাম আরও বাড়ার পাশাপাশি সরবরাহ সংকটও তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

 

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

ভাড়া বৃদ্ধি ও জ্বালানিসংকটে জাহাজের ভাড়া বেড়েছে ২০ শতাংশ

Update Time : ০৫:২৯:১১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬
12 / 100 SEO Score

 

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং জাহাজ ভাড়া বাড়ার কারণে ইতিমধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্যে নানামুখী সংকট দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না আনলে সামনে আরও বড় সংকটের আশঙ্কা রয়েছে। শিপিং খাত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানাচ্ছে, সমুদ্রগামী মাদার ভেসেলের ভাড়া প্রায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।

একই সঙ্গে চট্টগ্রাম থেকে সিঙ্গাপুর, সাংহাই ও লস অ্যাঞ্জেলসগামী ফিডার জাহাজের কনটেইনার ভাড়া বক্সপ্রতি সর্বনিম্ন ৭০০ থেকে সর্বোচ্চ ৯৫০ ডলার পর্যন্ত বেড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যগামী রুটে ভাড়া দ্বিগুণের বেশি হলেও সময়মতো পরিবহন নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। এছাড়া বিভিন্ন শিপিং কোম্পানি নির্ধারিত ভাড়ার পাশাপাশি ‘ইমারজেন্সি বাংকার সারচার্জ’ আরোপ করেছে।

উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙ্গরে গভীর ড্রাফটের মাদার ভেসেল নোঙর করার পর সেখান থেকে লাইটার জাহাজের মাধ্যমে পণ্য খালাস করা হয়। তবে জেটিতে জায়গার অভাব কিংবা বৈরী আবহাওয়ার কারণে অনেক সময় এসব জাহাজকে অপেক্ষা করতে হয়। বর্তমানে সবচেয়ে বড় সমস্যা দেখা দিয়েছে লাইটার জাহাজ পরিচালনায় জ্বালানিসংকটকে কেন্দ্র করে। প্রতিদিন প্রায় আড়াই লাখ লিটার ডিজেলের চাহিদা থাকলেও মিলছে মাত্র ৬০ হাজার লিটার, যা মোট চাহিদার এক-চতুর্থাংশ। ফলে মাদার ভেসেল থেকে পণ্য খালাসে অন্তত পাঁচ দিন বিলম্ব হচ্ছে।

এই বিলম্বের কারণে প্রতিদিন প্রতি মাদার ভেসেলকে প্রায় ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ডেমারেজ (ক্ষতিপূরণ) গুনতে হচ্ছে। যদিও এই অতিরিক্ত ব্যয় ব্যবসায়ীরাই বহন করছেন, শেষ পর্যন্ত এর প্রভাব পড়বে ভোক্তা পর্যায়ে, এমন আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের।

এ পরিস্থিতিতে আমদানি ও রপ্তানি উভয় খাতেই ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছে দেশের তৈরি পোশাক শিল্প। ব্যবসায়ীরা বলছেন, কোভিড-১৯ পরবর্তী সময়ে বিশ্ব বাণিজ্য যেমন চাপের মুখে পড়েছিল, বর্তমান পরিস্থিতিও তেমনই নতুন সংকট তৈরি করছে। অন্যদিকে, জাহাজ মালিকরা বলছেন, তারা সরাসরি ভাড়া বাড়াননি। তবে ডিজেলসংকটের কারণে পর্যাপ্ত লাইটার জাহাজ সরবরাহ সম্ভব না হওয়ায় মাদার ভেসেল থেকে পণ্য খালাসে বিলম্ব হচ্ছে এবং তাতেই ডেমারেজ খরচ বাড়ছে।

শিপিং খাত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বাড়তি ভাড়া এবং দীর্ঘ সময় জাহাজ অলস দাঁড়িয়ে থাকার কারণে সৃষ্ট ক্ষতি শেষ পর্যন্ত পণ্যের দামের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ভোক্তার ওপর চাপ তৈরি করবে। এ অবস্থায় ব্যবসায়ীরা দ্রুত পর্যাপ্ত ডিজেল সরবরাহ নিশ্চিত করে মাদার ভেসেল থেকে লাইটার জাহাজে পণ্য খালাসের গতি বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যথায় দেশের বাজারে পণ্যের দাম আরও বাড়ার পাশাপাশি সরবরাহ সংকটও তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।