Dhaka ০৮:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাষ্ট্রের হুমকির নেপথ্যে ইরানের জ্বালানি খনি দখল

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৭:২৬:০৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৪ Time View
12 / 100 SEO Score

যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে আলোচনায় আগ্রহী হলে পারমাণবিক চুক্তির জন্য সমঝোতায় পৌঁছাতে ইরান প্রস্তুত আছে। তেহরানের একজন মন্ত্রী ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে এই মন্তব্য করেছেন।

এ ছাড়া রোববার ইরানের একজন কূটনীতিক স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে এমন একটি পারমাণবিক চুক্তি করতে চায় তেহরান, যা দুই পক্ষের জন্যই অর্থনৈতিক সুফল বয়ে আনবে।

অন্যদিকে মার্কিন কর্মকর্তারা বারবার বলে আসছেন, যুক্তরাষ্ট্র নয় বরং ইরানই আলোচনার প্রক্রিয়া থামিয়ে রেখেছে। বিবিসি জানিয়েছে, তেহরান–ওয়াশিংটন দ্বিতীয় দফার আলোচনা কয়েক দিনের মধ্যেই হওয়ার কথা রয়েছে।

দেশ দুইটির মধ্যে কয়েক দশক ধরে চলা বিরোধের সমাধান এবং নতুন করে সামরিক সংঘাত এড়াতে চলতি মাসের শুরুতে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনা আবার শুরু হয়। তবে আলোচনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে দ্বিতীয় বিমানবাহী রণতরী পাঠিয়েছে।

বার্তাসংস্থা রয়টার্সের রিপোর্টে বলা হয়েছে, ইরানের সঙ্গে আলোচনা সফল না হলে দেশটিতে সামরিক অভিযান চালাবে মার্কিন বাহিনী। কয়েক সপ্তাহ ধরে এই অভিযান চালানোর জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। সেইসঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে হাজার হাজার মার্কিন সেনা পাঠানো হচ্ছে। এ ছাড়া বাড়ানো হচ্ছে অস্ত্রের ভাণ্ডার।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ব্রাতিস্লাভায় এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট করেছেন যে তিনি কূটনীতি ও আলোচনার মাধ্যমে সমাধানকে অগ্রাধিকার দেন। তবে একইসঙ্গে তিনি এটাও পরিষ্কার করেছেন যে এমন সমাধান নাও হতে পারে।

রুবিও দাবি করেছেন যে তেহরানের সঙ্গে কেউ সফল কোনো চুক্তি কখনো করতে পারেনি, কিন্তু আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের এসব মন্তব্যের জেরে ইরানও পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়েছে। দেশটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ইরানে যেকোনো ধরনের হামলা পুরোপুরি যুদ্ধ হিসেবে গণ্য হবে, সেই সঙ্গে এর জবাব জবাব দেওয়া হবে। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলো হামলার লক্ষ্যবস্তু হিসেবে রাখা হয়েছে বলে জানায় তেহরান।

‘ট্রাম্পের প্রস্তাবে রাজি হবে না ইরান’, যুদ্ধ অনিবার্য? ‘ট্রাম্পের প্রস্তাবে রাজি হবে না ইরান’, যুদ্ধ অনিবার্য?
ইরানের আধা সরকারি বার্তাসংস্থা ফার্স দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক কূটনীতি বিভাগের উপপরিচালক হামিদ ঘানবারির বরাত দিয়ে বলেছে, চুক্তি টেকসই করতে হলে এমন খাত রাখতে হবে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রও লাভবান হবে এবং দ্রুত ও বেশি অর্থনৈতিক সুফল পাওয়া যাবে।

তিনি বলেছেন, তেল ও গ্যাসক্ষেত্র, খনিতে বিনিয়োগ এবং এমনকি উড়োজাহাজ ক্রয়–সংক্রান্ত সাধারণ স্বার্থ আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ঘানবারির মতে, ২০১৫ সালে বিশ্বশক্তির সঙ্গে ইরানের পারমাণবিক চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক স্বার্থ সুরক্ষিত করতে পারেনি।

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার বিনিময়ে ওই চুক্তিতে দেশটির ওপর কার্যকর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার কথা বলা আছে। ২০১৮ সালে নিজের প্রথম মেয়াদে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রকে ইরান পারমাণবিক চুক্তি থেকে সরিয়ে নেন। সেই সময় তিনি তেহরানের ওপর কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা পুনঃপ্রয়োগ করেন।

‘এখনই ইরান ছাড়ুন’—মার্কিন নাগরিকদের বার্তা যুক্তরাষ্ট্রের ‘এখনই ইরান ছাড়ুন’—মার্কিন নাগরিকদের বার্তা যুক্তরাষ্ট্রের
তেহরানে ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী মাজিদ তাখত-রাভানচি বিবিসিকে বলেছেন, বল এখন আমেরিকার কোর্টে যে, তারা চুক্তি চায় কি-না। তারা আন্তরিক হলে আমি নিশ্চিত আমরা সমঝোতার দিকেই এগিয়ে যাবো।

 

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আলোচিত সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্রের হুমকির নেপথ্যে ইরানের জ্বালানি খনি দখল

Update Time : ০৭:২৬:০৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
12 / 100 SEO Score

যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে আলোচনায় আগ্রহী হলে পারমাণবিক চুক্তির জন্য সমঝোতায় পৌঁছাতে ইরান প্রস্তুত আছে। তেহরানের একজন মন্ত্রী ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে এই মন্তব্য করেছেন।

এ ছাড়া রোববার ইরানের একজন কূটনীতিক স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে এমন একটি পারমাণবিক চুক্তি করতে চায় তেহরান, যা দুই পক্ষের জন্যই অর্থনৈতিক সুফল বয়ে আনবে।

অন্যদিকে মার্কিন কর্মকর্তারা বারবার বলে আসছেন, যুক্তরাষ্ট্র নয় বরং ইরানই আলোচনার প্রক্রিয়া থামিয়ে রেখেছে। বিবিসি জানিয়েছে, তেহরান–ওয়াশিংটন দ্বিতীয় দফার আলোচনা কয়েক দিনের মধ্যেই হওয়ার কথা রয়েছে।

দেশ দুইটির মধ্যে কয়েক দশক ধরে চলা বিরোধের সমাধান এবং নতুন করে সামরিক সংঘাত এড়াতে চলতি মাসের শুরুতে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনা আবার শুরু হয়। তবে আলোচনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে দ্বিতীয় বিমানবাহী রণতরী পাঠিয়েছে।

বার্তাসংস্থা রয়টার্সের রিপোর্টে বলা হয়েছে, ইরানের সঙ্গে আলোচনা সফল না হলে দেশটিতে সামরিক অভিযান চালাবে মার্কিন বাহিনী। কয়েক সপ্তাহ ধরে এই অভিযান চালানোর জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। সেইসঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে হাজার হাজার মার্কিন সেনা পাঠানো হচ্ছে। এ ছাড়া বাড়ানো হচ্ছে অস্ত্রের ভাণ্ডার।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ব্রাতিস্লাভায় এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট করেছেন যে তিনি কূটনীতি ও আলোচনার মাধ্যমে সমাধানকে অগ্রাধিকার দেন। তবে একইসঙ্গে তিনি এটাও পরিষ্কার করেছেন যে এমন সমাধান নাও হতে পারে।

রুবিও দাবি করেছেন যে তেহরানের সঙ্গে কেউ সফল কোনো চুক্তি কখনো করতে পারেনি, কিন্তু আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের এসব মন্তব্যের জেরে ইরানও পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়েছে। দেশটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ইরানে যেকোনো ধরনের হামলা পুরোপুরি যুদ্ধ হিসেবে গণ্য হবে, সেই সঙ্গে এর জবাব জবাব দেওয়া হবে। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলো হামলার লক্ষ্যবস্তু হিসেবে রাখা হয়েছে বলে জানায় তেহরান।

‘ট্রাম্পের প্রস্তাবে রাজি হবে না ইরান’, যুদ্ধ অনিবার্য? ‘ট্রাম্পের প্রস্তাবে রাজি হবে না ইরান’, যুদ্ধ অনিবার্য?
ইরানের আধা সরকারি বার্তাসংস্থা ফার্স দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক কূটনীতি বিভাগের উপপরিচালক হামিদ ঘানবারির বরাত দিয়ে বলেছে, চুক্তি টেকসই করতে হলে এমন খাত রাখতে হবে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রও লাভবান হবে এবং দ্রুত ও বেশি অর্থনৈতিক সুফল পাওয়া যাবে।

তিনি বলেছেন, তেল ও গ্যাসক্ষেত্র, খনিতে বিনিয়োগ এবং এমনকি উড়োজাহাজ ক্রয়–সংক্রান্ত সাধারণ স্বার্থ আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ঘানবারির মতে, ২০১৫ সালে বিশ্বশক্তির সঙ্গে ইরানের পারমাণবিক চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক স্বার্থ সুরক্ষিত করতে পারেনি।

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার বিনিময়ে ওই চুক্তিতে দেশটির ওপর কার্যকর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার কথা বলা আছে। ২০১৮ সালে নিজের প্রথম মেয়াদে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রকে ইরান পারমাণবিক চুক্তি থেকে সরিয়ে নেন। সেই সময় তিনি তেহরানের ওপর কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা পুনঃপ্রয়োগ করেন।

‘এখনই ইরান ছাড়ুন’—মার্কিন নাগরিকদের বার্তা যুক্তরাষ্ট্রের ‘এখনই ইরান ছাড়ুন’—মার্কিন নাগরিকদের বার্তা যুক্তরাষ্ট্রের
তেহরানে ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী মাজিদ তাখত-রাভানচি বিবিসিকে বলেছেন, বল এখন আমেরিকার কোর্টে যে, তারা চুক্তি চায় কি-না। তারা আন্তরিক হলে আমি নিশ্চিত আমরা সমঝোতার দিকেই এগিয়ে যাবো।