Dhaka ০৯:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ৩০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সোনালি মুরগি, তেল-চিনির দাম বাড়তি

10 / 100 SEO Score

 

নিত্যপণ্যের বাজারে একের পর এক পণ্যের দাম বাড়ায় বিপাকে পড়েছেন ভোক্তারা। বিশেষ করে সীমিত ও নিম্ন আয়ের মানুষ সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন। রাজধানীর বাজারে গত কয়েক দিনের ব্যবধানে সয়াবিন তেল থেকে শুরু করে চিনি, মসুর ডাল, সোনালি মুরগি সবকিছুর দামই বাড়তি। এমনকি সবজির দামও চড়া।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর কাওরান বাজার, নিউমার্কেট ও তুরাগ এলাকার নতুন বাজারে খোঁজ নিয়ে বিভিন্ন পণ্যের দামের এ চিত্র পাওয়া যায়।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, ঈদের পর মুরগির দাম কমার কথা থাকলেও এবার বেড়েছে। আর সয়াবিন তেলের বাজার গত প্রায় দুই মাস ধরেই বাড়তি। এরসঙ্গে যুক্ত হয়েছে অন্যান্য পণ্য। বাজারে খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, খুচরা পর্যায়ে প্রতি কেজি সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৪১০ থেকে ৪২০ টাকায়। যা এক মাস আগেও ২৯০ থেকে ৩২০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। বেড়েছে দেশি মুরগির দামও। প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৬৭০ থেকে ৭০০ টাকায়।

টাঙ্গাইলের ভূয়াপুর এলাকার এক খামারি জানান, মুরগির বাচ্চা ও খাদ্যের দাম বাড়ায় উত্পাদন খরচ অনেক বেড়ে গেছে। এছাড়া, ক্রমাগত লোকসানে অনেক খামার বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে চাহিদা অনুযায়ী মুরগির উত্পাদন কম। তিনি বলেন, গত রমজানের আগে রোগের কারণে তার খামারের প্রায় সব মুরগি মারা গেছে। যার কারণে প্রান্তিক খামারিরা এখন ভালো নেই। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বাজারে। সরকারের কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, গত এক মাসের ব্যবধানে বাজারে সোনালি মুরগির দাম বেড়েছে প্রায় ২৭ শতাংশ। তবে সোনালি ও দেশি মুরগির দাম বাড়লেও ব্রয়লার মুরগির দাম বাড়েনি। ঈদের পর দাম আরো কমেছে। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ১০ টাকা কমে ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৯০ থেকে ২০০ টাকার মধ্যে।

বাজারে এখন যে পণ্যগুলো ভোক্তাদের বেশি ভোগাচ্ছে, তার অন্যতম সয়াবিন। প্রায় দুই মাস ধরেই বাজারে সয়াবিন তেলের সরবরাহ সংকট চলছে। বিক্রেতারা বলেছেন, গত রমজানের ঈদের আগে থেকেই বাজারে সয়াবিন তেলের সরবরাহে ঘাটতি ছিল। ফলে তখন থেকেই সয়াবিন, পামঅয়েলের দাম উর্ধ্বমুখী । এখন ঈদের পরও সরবরাহ সমস্যা মেটেনি। তারা বলেছেন, কোম্পানিগুলো ঘোষণা দিয়ে দাম না বাড়ালেও ডিলারদের কাছ থেকে চাহিদামতো তেল পাওয়া যাচ্ছে না। সরকারের বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশও (টিসিবি) তাদের বাজারদরের প্রতিবেদনে সয়াবিন, পামঅয়েলের দাম বাড়ার তথ্য জানিয়েছে। সংস্থাটির তথ্য বলছে, গত সোমবার থেকে প্রতি লিটারে ৪ টাকা বেড়ে খোলা পামঅয়েল ১৬৪ থেকে ১৬৮ টাকা ও খোলা সুপার পাম সয়াবিনে ২ টাকা বেড়ে ১৬৫ থেকে ১৭২ টাকা বিক্রি হচ্ছে। আর এক লিটারের বোতলজাত সয়াবিনে ৫ টাকা বেড়ে ১৯৫ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ভোক্তাদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) বলেছে, বাজারে একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী সরবরাহ সংকট তৈরি করে সয়াবিন তেলের দাম বাড়িয়েছে।

 

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সোনালি মুরগি, তেল-চিনির দাম বাড়তি

Update Time : ০৫:৫৮:০৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬
10 / 100 SEO Score

 

নিত্যপণ্যের বাজারে একের পর এক পণ্যের দাম বাড়ায় বিপাকে পড়েছেন ভোক্তারা। বিশেষ করে সীমিত ও নিম্ন আয়ের মানুষ সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন। রাজধানীর বাজারে গত কয়েক দিনের ব্যবধানে সয়াবিন তেল থেকে শুরু করে চিনি, মসুর ডাল, সোনালি মুরগি সবকিছুর দামই বাড়তি। এমনকি সবজির দামও চড়া।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর কাওরান বাজার, নিউমার্কেট ও তুরাগ এলাকার নতুন বাজারে খোঁজ নিয়ে বিভিন্ন পণ্যের দামের এ চিত্র পাওয়া যায়।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, ঈদের পর মুরগির দাম কমার কথা থাকলেও এবার বেড়েছে। আর সয়াবিন তেলের বাজার গত প্রায় দুই মাস ধরেই বাড়তি। এরসঙ্গে যুক্ত হয়েছে অন্যান্য পণ্য। বাজারে খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, খুচরা পর্যায়ে প্রতি কেজি সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৪১০ থেকে ৪২০ টাকায়। যা এক মাস আগেও ২৯০ থেকে ৩২০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। বেড়েছে দেশি মুরগির দামও। প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৬৭০ থেকে ৭০০ টাকায়।

টাঙ্গাইলের ভূয়াপুর এলাকার এক খামারি জানান, মুরগির বাচ্চা ও খাদ্যের দাম বাড়ায় উত্পাদন খরচ অনেক বেড়ে গেছে। এছাড়া, ক্রমাগত লোকসানে অনেক খামার বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে চাহিদা অনুযায়ী মুরগির উত্পাদন কম। তিনি বলেন, গত রমজানের আগে রোগের কারণে তার খামারের প্রায় সব মুরগি মারা গেছে। যার কারণে প্রান্তিক খামারিরা এখন ভালো নেই। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বাজারে। সরকারের কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, গত এক মাসের ব্যবধানে বাজারে সোনালি মুরগির দাম বেড়েছে প্রায় ২৭ শতাংশ। তবে সোনালি ও দেশি মুরগির দাম বাড়লেও ব্রয়লার মুরগির দাম বাড়েনি। ঈদের পর দাম আরো কমেছে। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ১০ টাকা কমে ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৯০ থেকে ২০০ টাকার মধ্যে।

বাজারে এখন যে পণ্যগুলো ভোক্তাদের বেশি ভোগাচ্ছে, তার অন্যতম সয়াবিন। প্রায় দুই মাস ধরেই বাজারে সয়াবিন তেলের সরবরাহ সংকট চলছে। বিক্রেতারা বলেছেন, গত রমজানের ঈদের আগে থেকেই বাজারে সয়াবিন তেলের সরবরাহে ঘাটতি ছিল। ফলে তখন থেকেই সয়াবিন, পামঅয়েলের দাম উর্ধ্বমুখী । এখন ঈদের পরও সরবরাহ সমস্যা মেটেনি। তারা বলেছেন, কোম্পানিগুলো ঘোষণা দিয়ে দাম না বাড়ালেও ডিলারদের কাছ থেকে চাহিদামতো তেল পাওয়া যাচ্ছে না। সরকারের বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশও (টিসিবি) তাদের বাজারদরের প্রতিবেদনে সয়াবিন, পামঅয়েলের দাম বাড়ার তথ্য জানিয়েছে। সংস্থাটির তথ্য বলছে, গত সোমবার থেকে প্রতি লিটারে ৪ টাকা বেড়ে খোলা পামঅয়েল ১৬৪ থেকে ১৬৮ টাকা ও খোলা সুপার পাম সয়াবিনে ২ টাকা বেড়ে ১৬৫ থেকে ১৭২ টাকা বিক্রি হচ্ছে। আর এক লিটারের বোতলজাত সয়াবিনে ৫ টাকা বেড়ে ১৯৫ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ভোক্তাদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) বলেছে, বাজারে একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী সরবরাহ সংকট তৈরি করে সয়াবিন তেলের দাম বাড়িয়েছে।