বগুড়া জেলার শাজাহানপুর উপজেলায় বাণিজ্যিক কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন স্নাতকোত্তর পাস তরুণ কৃষক আব্দুল্লাহ। চাকুরির পেছনে না ছুটে নিজের মাত্র ২৮ শতক জমিতে ভারত সুন্দরী জাতের বড়ই চাষ করে মাত্র ৯ মাসেই অর্জন করেছেন প্রায় ১০ গুণ মুনাফা। তার এই সাফল্যে এলাকায় ব্যাপক সাড়া পড়েছে ও বাণিজ্যিক কৃষিতে আগ্রহ বাড়ছে অন্যান্য কৃষকদের মাঝেও। জানা গেছে, প্রাথমিক ভাবে বিভিন্ন জাতের সবজি চাষ করলেও গত বছরের এপ্রিল মাসে পিকেএসএফ-এর আর্থিক ও কারিগরি সহযোগিতায় জাতীয় পর্যায়ের বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা গ্রাম উন্নয়ন কর্ম (গাক)-এর মাধ্যমে প্রথমবারের মতো ২০০টি বড়ইয়ের চারা রোপণ করেন আব্দুল্লাহ।
প্রায় ৫০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করে ৯ মাসের মধ্যেই তিনি বড়ই বিক্রি করেছেন প্রায় তিন লাখ টাকার। বর্তমানে তার জমিতে আরও আনুমানিক দুই লাখ টাকার বড়ই রয়েছে, যা কিনতে ঢাকা, রংপুর ও গাইবান্ধা জেলার পাইকাররা সরাসরি বাগানে আসছেন। আব্দুল্লাহ জানান, বাণিজ্যিক কৃষি সম্পর্কে সঠিক ধারণা না থাকায় অনেক কৃষক ঝুঁকি নিতে চান না। তবে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা গাক’র কর্মকর্তারা যেভাবে সার্বিক সহযোগিতা করেছেন, সেটিই তাকে সবচেয়ে বেশি অনুপ্রাণিত করেছে।
পরীক্ষা মূলক ভাবে ভারত সুন্দরীর পাশাপাশি তিনি বলসুন্দরী ও কাশ্মীরি জাতের বড়ইয়ের চারাও রোপণ করেছেন। ভবিষ্যতে তিনি বড়ই চাষের পরিধি আরও বাড়ানোর স্বপ্ন দেখছেন। তার সফল বড়ই বাগান দেখতে প্রতিদিনই আশপাশের কৃষকেরা ভিড় করছেন। গাক’র কৃষি কর্মকর্তা মাসুদ রানা বলেন, পিকেএসএফ’র আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় তারা তৃণমূল পর্যায়ে সাধারণ কৃষকদের উচ্চমূল্যের ফল উৎপাদন ও বাণিজ্যিক কৃষিতে উদ্বুদ্ধ করে যাচ্ছেন। শাজাহানপুর উপজেলার শাহনগর শাখার বড়পাথার গ্রামের সদস্য আব্দুল কাফির জমিতে বড়ই চাষের এই সাফল্য একদিকে কৃষকের ভাগ্য বদলেছে, অন্যদিকে খুলে দিয়েছে বাণিজ্যিক কৃষির নতুন দুয়ার। এ বিষয়ে শাজাহানপুর উপজেলার অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা দীপ্তি রানী রায় বলেন, পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত ও অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা আনতে বাণিজ্যিক কৃষি সম্প্রসারণে কৃষি বিভাগ কাজ করে যাচ্ছে। এর মাধ্যমে বেকারত্ব হ্রাসের পাশাপাশি নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হবে।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে শাহজাহানপুরের কৃষকেরা দেশের সবজি চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছেন। তবে সঠিক পরিকল্পনা ও আধুনিক জ্ঞানের অভাবে অনেক সময় তারা আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। এমন পরিস্থিতিতে গাক’র উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়।সংশ্লিষ্টরা জানান, খোরপোষ কৃষি থেকে বেরিয়ে বাণিজ্যিক কৃষির দিকে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে আব্দুল্লাহর মতো শিক্ষিত তরুণ কৃষকেরা হয়ে উঠছেন অনুপ্রেরণা।
এই ইতিবাচক উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে একদিন বগুড়া জেলাসহ উত্তরাঞ্চলের কৃষি হবে আরও সমৃদ্ধশালী ও প্রতিটি কৃষক পরিবারে আসবে স্বচ্ছলতা-এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয়দের।
এ কে খান 



















