Dhaka ০৭:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

ইরানের জ্বালানি তেল ও খারগ দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নিতে চাই: ট্রাম্প

12 / 100 SEO Score

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের জ্বালানি তেল এবং দেশটির প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র খারগ দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার প্রকাশ্য ইচ্ছা ঘোষণা করেছেন। প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এই মন্তব্য করেন।

ট্রাম্প স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন এখন ইরানের তেলের ওপর পূর্ণ কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে চায় এবং এই লক্ষ্য অর্জনে খারগ দ্বীপে মার্কিন বাহিনীর অবস্থান নেওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। এই কৌশলকে তিনি লাতিন আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলার ওপর প্রযুক্ত মার্কিন নীতির সঙ্গে তুলনা করেছেন, যেখানে চলতি বছরের জানুয়ারিতে সামরিক অভিযানের মাধ্যমে দেশটির জ্বালানি খাতের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপের চেষ্টা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প অত্যন্ত সরাসরি ভাষায় বলেন, ইরানের জ্বালানি তেলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়াই এখন তার সবচেয়ে পছন্দের কাজ। তিনি এই পদক্ষেপের সমালোচনা করা ব্যক্তিদের ‘বোকা’ হিসেবে অভিহিত করে নিজের অবস্থান দৃঢ়ভাবে তুলে ধরেন। খারগ দ্বীপের গুরুত্ব উল্লেখ করে প্রেসিডেন্ট জানান, সেখানে মার্কিন সামরিক বাহিনীকে কিছু সময়ের জন্য অবস্থান করতে হতে পারে।

দ্বীপটির প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে দাবি করেন যে, ইরানের সেখানে কার্যকর কোনো সুরক্ষা নেই এবং মার্কিন বাহিনী খুব সহজেই এর নিয়ন্ত্রণ নিতে সক্ষম হবে। ট্রাম্পের এই বক্তব্য ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ওয়াশিংটন এখন কেবল আকাশপথের হামলায় সীমাবদ্ধ না থেকে ইরানের অর্থনৈতিক হৃৎপিণ্ড দখলের পরিকল্পনা করছে।

উল্লেখ্য, গত জানুয়ারিতে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে সামরিক অভিযান চালিয়ে প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে সস্ত্রীক আটক করে নিউ ইয়র্কে নিয়ে আসে মার্কিন বাহিনী। সেই সময় থেকেই ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী সরকারের তদারকিতে থাকা তেলের খনিগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে ওয়াশিংটন।

ট্রাম্প এখন সেই একই মডেল ইরানে প্রয়োগ করতে চাইছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের মোট তেল রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশ যেখান থেকে পরিচালিত হয়, সেই খারগ দ্বীপ দখল করা সম্ভব হলে তেহরান অর্থনৈতিকভাবে পুরোপুরি পঙ্গু হয়ে পড়বে। তবে এই ধরনের পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইন ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের এই ‘তেল দখল’ নীতি নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে। এর আগে তিনি ইরানের পারমাণবিক ও সামরিক স্থাপনা ধ্বংসের কথা বললেও, এখন সরাসরি সম্পদ নিয়ন্ত্রণের কথা বলছেন।

আল জাজিরা ও বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্পের হাতে অনেকগুলো সামরিক ও অর্থনৈতিক বিকল্প রয়েছে এবং তিনি পরিস্থিতি অনুযায়ী যেকোনোটি বেছে নিতে পারেন। তবে খারগ দ্বীপের মতো একটি সুরক্ষিত এলাকায় স্থল অভিযান চালানো বা সেখানে দীর্ঘমেয়াদী অবস্থান নেওয়া মার্কিন বাহিনীর জন্য কতটা নিরাপদ হবে, তা নিয়ে সমর বিশেষজ্ঞদের মধ্যে ব্যাপক বিতর্ক রয়েছে। আপাতত ট্রাম্প প্রশাসন তেলের বাজার ও ইরানের অর্থপ্রবাহ পুরোপুরি বন্ধ করার লক্ষ্যেই এগোচ্ছে।

সূত্র: আল জাজিরা

 

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

ইরানের জ্বালানি তেল ও খারগ দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নিতে চাই: ট্রাম্প

Update Time : ০৫:০৯:১৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬
12 / 100 SEO Score

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের জ্বালানি তেল এবং দেশটির প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র খারগ দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার প্রকাশ্য ইচ্ছা ঘোষণা করেছেন। প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এই মন্তব্য করেন।

ট্রাম্প স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন এখন ইরানের তেলের ওপর পূর্ণ কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে চায় এবং এই লক্ষ্য অর্জনে খারগ দ্বীপে মার্কিন বাহিনীর অবস্থান নেওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। এই কৌশলকে তিনি লাতিন আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলার ওপর প্রযুক্ত মার্কিন নীতির সঙ্গে তুলনা করেছেন, যেখানে চলতি বছরের জানুয়ারিতে সামরিক অভিযানের মাধ্যমে দেশটির জ্বালানি খাতের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপের চেষ্টা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প অত্যন্ত সরাসরি ভাষায় বলেন, ইরানের জ্বালানি তেলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়াই এখন তার সবচেয়ে পছন্দের কাজ। তিনি এই পদক্ষেপের সমালোচনা করা ব্যক্তিদের ‘বোকা’ হিসেবে অভিহিত করে নিজের অবস্থান দৃঢ়ভাবে তুলে ধরেন। খারগ দ্বীপের গুরুত্ব উল্লেখ করে প্রেসিডেন্ট জানান, সেখানে মার্কিন সামরিক বাহিনীকে কিছু সময়ের জন্য অবস্থান করতে হতে পারে।

দ্বীপটির প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে দাবি করেন যে, ইরানের সেখানে কার্যকর কোনো সুরক্ষা নেই এবং মার্কিন বাহিনী খুব সহজেই এর নিয়ন্ত্রণ নিতে সক্ষম হবে। ট্রাম্পের এই বক্তব্য ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ওয়াশিংটন এখন কেবল আকাশপথের হামলায় সীমাবদ্ধ না থেকে ইরানের অর্থনৈতিক হৃৎপিণ্ড দখলের পরিকল্পনা করছে।

উল্লেখ্য, গত জানুয়ারিতে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে সামরিক অভিযান চালিয়ে প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে সস্ত্রীক আটক করে নিউ ইয়র্কে নিয়ে আসে মার্কিন বাহিনী। সেই সময় থেকেই ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী সরকারের তদারকিতে থাকা তেলের খনিগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে ওয়াশিংটন।

ট্রাম্প এখন সেই একই মডেল ইরানে প্রয়োগ করতে চাইছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের মোট তেল রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশ যেখান থেকে পরিচালিত হয়, সেই খারগ দ্বীপ দখল করা সম্ভব হলে তেহরান অর্থনৈতিকভাবে পুরোপুরি পঙ্গু হয়ে পড়বে। তবে এই ধরনের পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইন ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের এই ‘তেল দখল’ নীতি নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে। এর আগে তিনি ইরানের পারমাণবিক ও সামরিক স্থাপনা ধ্বংসের কথা বললেও, এখন সরাসরি সম্পদ নিয়ন্ত্রণের কথা বলছেন।

আল জাজিরা ও বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্পের হাতে অনেকগুলো সামরিক ও অর্থনৈতিক বিকল্প রয়েছে এবং তিনি পরিস্থিতি অনুযায়ী যেকোনোটি বেছে নিতে পারেন। তবে খারগ দ্বীপের মতো একটি সুরক্ষিত এলাকায় স্থল অভিযান চালানো বা সেখানে দীর্ঘমেয়াদী অবস্থান নেওয়া মার্কিন বাহিনীর জন্য কতটা নিরাপদ হবে, তা নিয়ে সমর বিশেষজ্ঞদের মধ্যে ব্যাপক বিতর্ক রয়েছে। আপাতত ট্রাম্প প্রশাসন তেলের বাজার ও ইরানের অর্থপ্রবাহ পুরোপুরি বন্ধ করার লক্ষ্যেই এগোচ্ছে।

সূত্র: আল জাজিরা