Dhaka ০৭:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

এগিয়ে আনা হয়েছে দেশব্যাপী হামের টিকাদান কর্মসূচি, শুরু ২০ এপ্রিল

12 / 100 SEO Score

 

দেশে চলমান হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় দেশব্যাপী টিকাদান কর্মসূচি নির্ধারিত সময়ের ১৪ দিন এগিয়ে আনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। আগামী ৩ মে’র পরিবর্তে ২০ এপ্রিল থেকেই সারা দেশে একযোগে এই কর্মসূচি শুরু হবে।

বুধবার (৮ এপ্রিল) সকালে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে ১১তম দিনের নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ কথা বলেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।

সংসদে রুমিন ফারহানা দেশে হামে শিশুমৃত্যুর হার বৃদ্ধি এবং কেন্দ্রীয় গুদামে ১০টি অত্যাবশ্যকীয় টিকার মজুত শূন্য হয়ে যাওয়ার বিষয়টি উত্থাপন করেন। তিনি অভিযোগ করেন, বিসিজি, পেন্টা, পিসিভি ও এমআরসহ ছয়টি টিকার মজুত বর্তমানে শূন্য এবং বাকি দুটি দিয়ে জুন পর্যন্ত চলবে।

জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা শূন্য মজুত থেকে কাজ শুরু করেছি—এটি সত্য। বিগত সরকারের সময় ভ্যাকসিন সরবরাহ ব্যবস্থায় ব্যাঘাত এবং ক্রয় প্রক্রিয়ায় ব্যর্থতার কারণে এ ঘাটতি তৈরি হয়েছিল। তবে আমরা এরই মধ্যে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নিয়েছি। এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (এডিবি) অব্যবহৃত ৬০৪ কোটি টাকা হাম-রুবেলাসহ জরুরি ভ্যাকসিন কেনার জন্য পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে।’

মন্ত্রী জানান, ইউনিসেফের মাধ্যমে আরও ৪১৯ কোটি টাকার ভ্যাকসিন ক্রয় প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এরইমধ্যে ২০০ কোটি টাকার ভ্যাকসিন আনা হয়েছে। সংরক্ষণের সুবিধার্থে সরকার এখন সিংগেল ডোজের পরিবর্তে ১০ ডোজের মাল্টিডোজ ভায়ালে যাচ্ছে।

রুমিন ফারহানার দেওয়া মৃত্যুর পরিসংখ্যান নিয়ে ভিন্নমত পোষণ করে মন্ত্রী বলেন, ‘ভুল তথ্য দিয়ে জাতিকে আতঙ্কিত করা যাবে না। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও ইউনিসেফের যৌথ সমীক্ষা অনুযায়ী নিশ্চিতভাবে হামে মারা গেছে ৪১ জন। সংক্রমণের হটস্পট হিসেবে ঢাকা নয়, বরং বরগুনা, বরিশাল, কক্সবাজার ও নেত্রকোণা অঞ্চল চিহ্নিত হয়েছে। সেসব এলাকায় আমরা জরুরি ভিত্তিতে ৩৪ লাখ ৮৩ হাজার ডোজ টিকা পাঠিয়েছি।’

টিকা সংকটের ভবিষ্যৎ আশঙ্কার জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘গ্যাবি (Gavi)-এর মাধ্যমে আমরা ২ কোটি ১৯ লাখ ডোজ টিকা পেয়েছি। ভ্যাকসিনের মজুত এখন স্থিতিশীল। টিকার কোনো ঘাটতি আর হবে না। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের লুটপাটের কারণে কোল্ড চেইন ব্যবস্থাপনা নষ্ট হয়েছিল, যা আমরা দ্রুত পুনর্গঠন করছি।’

এদিন অধিবেশনের শুরুতেই রুমিন ফারহানা পোর্টার ও স্বাস্থ্যকর্মীদের বকেয়া বেতন এবং মাঠ পর্যায়ের জনবল সংকটের কথা তুলে ধরলে মন্ত্রী জানান, ৫ দিন আগেই পোর্টারদের বেতন দেওয়া শুরু হয়েছে এবং সহকারী স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের পদমর্যাদা বৃদ্ধির বিষয়টি সরকারের বিবেচনায় রয়েছে।

 

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

এগিয়ে আনা হয়েছে দেশব্যাপী হামের টিকাদান কর্মসূচি, শুরু ২০ এপ্রিল

Update Time : ০৮:৪৪:৫৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬
12 / 100 SEO Score

 

দেশে চলমান হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় দেশব্যাপী টিকাদান কর্মসূচি নির্ধারিত সময়ের ১৪ দিন এগিয়ে আনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। আগামী ৩ মে’র পরিবর্তে ২০ এপ্রিল থেকেই সারা দেশে একযোগে এই কর্মসূচি শুরু হবে।

বুধবার (৮ এপ্রিল) সকালে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে ১১তম দিনের নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ কথা বলেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।

সংসদে রুমিন ফারহানা দেশে হামে শিশুমৃত্যুর হার বৃদ্ধি এবং কেন্দ্রীয় গুদামে ১০টি অত্যাবশ্যকীয় টিকার মজুত শূন্য হয়ে যাওয়ার বিষয়টি উত্থাপন করেন। তিনি অভিযোগ করেন, বিসিজি, পেন্টা, পিসিভি ও এমআরসহ ছয়টি টিকার মজুত বর্তমানে শূন্য এবং বাকি দুটি দিয়ে জুন পর্যন্ত চলবে।

জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা শূন্য মজুত থেকে কাজ শুরু করেছি—এটি সত্য। বিগত সরকারের সময় ভ্যাকসিন সরবরাহ ব্যবস্থায় ব্যাঘাত এবং ক্রয় প্রক্রিয়ায় ব্যর্থতার কারণে এ ঘাটতি তৈরি হয়েছিল। তবে আমরা এরই মধ্যে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নিয়েছি। এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (এডিবি) অব্যবহৃত ৬০৪ কোটি টাকা হাম-রুবেলাসহ জরুরি ভ্যাকসিন কেনার জন্য পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে।’

মন্ত্রী জানান, ইউনিসেফের মাধ্যমে আরও ৪১৯ কোটি টাকার ভ্যাকসিন ক্রয় প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এরইমধ্যে ২০০ কোটি টাকার ভ্যাকসিন আনা হয়েছে। সংরক্ষণের সুবিধার্থে সরকার এখন সিংগেল ডোজের পরিবর্তে ১০ ডোজের মাল্টিডোজ ভায়ালে যাচ্ছে।

রুমিন ফারহানার দেওয়া মৃত্যুর পরিসংখ্যান নিয়ে ভিন্নমত পোষণ করে মন্ত্রী বলেন, ‘ভুল তথ্য দিয়ে জাতিকে আতঙ্কিত করা যাবে না। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও ইউনিসেফের যৌথ সমীক্ষা অনুযায়ী নিশ্চিতভাবে হামে মারা গেছে ৪১ জন। সংক্রমণের হটস্পট হিসেবে ঢাকা নয়, বরং বরগুনা, বরিশাল, কক্সবাজার ও নেত্রকোণা অঞ্চল চিহ্নিত হয়েছে। সেসব এলাকায় আমরা জরুরি ভিত্তিতে ৩৪ লাখ ৮৩ হাজার ডোজ টিকা পাঠিয়েছি।’

টিকা সংকটের ভবিষ্যৎ আশঙ্কার জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘গ্যাবি (Gavi)-এর মাধ্যমে আমরা ২ কোটি ১৯ লাখ ডোজ টিকা পেয়েছি। ভ্যাকসিনের মজুত এখন স্থিতিশীল। টিকার কোনো ঘাটতি আর হবে না। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের লুটপাটের কারণে কোল্ড চেইন ব্যবস্থাপনা নষ্ট হয়েছিল, যা আমরা দ্রুত পুনর্গঠন করছি।’

এদিন অধিবেশনের শুরুতেই রুমিন ফারহানা পোর্টার ও স্বাস্থ্যকর্মীদের বকেয়া বেতন এবং মাঠ পর্যায়ের জনবল সংকটের কথা তুলে ধরলে মন্ত্রী জানান, ৫ দিন আগেই পোর্টারদের বেতন দেওয়া শুরু হয়েছে এবং সহকারী স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের পদমর্যাদা বৃদ্ধির বিষয়টি সরকারের বিবেচনায় রয়েছে।