Dhaka ০৯:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ৩০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ওয়াই-টাইপ সেতু নির্মাণে ঐক্যবদ্ধ পাবনাবাসীর মানববন্ধন

নিজেস্ব প্রতিবেদক
13 / 100 SEO Score

উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মধ্যে দ্রুত, নিরাপদ ও সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনের লক্ষ্যে আরিচা-টুরিয়া-কাজিরহাট সংযোগে ওয়াই-টাইপ সেতু নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন আমরা সুজানগরবাসী ফাউন্ডেশন-এর উদ্যোগে আজ শুক্রবার (১০এপ্রিল) সকাল ১০টায় রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা, পরিবহন খাত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং সচেতন নাগরিকদের অংশগ্রহণ করেন।

তাদের মতে, দীর্ঘদিনের অবহেলিত এই অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দেশের দুই অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আরিচা-পাটুরিয়া-কাজিরহাট রুটে একটি আধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ওয়াই-টাইপ সেতু নির্মাণ এখন সময়ের দাবি।

বর্তমানে এই অঞ্চলের লাখো মানুষ যাতায়াতের জন্য ফেরির ওপর নির্ভরশীল, যা প্রতিনিয়ত দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে নদীর স্রোত, ঘন কুয়াশা ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে ফেরি চলাচল ব্যাহত হয়।

তাদের দাবি, এই পরিস্থিতি সময় ও অর্থের অপচয়ের পাশাপাশি দেশের উত্তরাঞ্চলের উন্নয়নকেও দীর্ঘদিন ধরে বাধাগ্রস্ত করছে। একটি স্থায়ী সেতু নির্মিত হলে যোগাযোগ সহজ হওয়ার পাশাপাশি জাতীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

মানববন্ধনের মাধ্যমে পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—সেতু নির্মাণের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা, দ্রুত জরিপ ও সম্ভাব্যতা সমীক্ষা সম্পন্ন করা, আন্তর্জাতিক মানের নকশা প্রণয়ন, সরাসরি সড়ক যোগাযোগ নিশ্চিত করা এবং ফেরিনির্ভর দুর্ভোগ থেকে মুক্তির কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ।

সংগঠনের নেতারা জানান, এই সেতু নির্মিত হলে কৃষিপণ্য দ্রুত পরিবহন সম্ভব হবে, কৃষকরা ন্যায্য মূল্য পাবেন এবং শিল্প-বাণিজ্য খাতেও গতি আসবে। পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও আঞ্চলিক বৈষম্য কমাতেও ভূমিকা রাখবে প্রকল্পটি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বড় অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়ন দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে সহায়ক। সড়ক যোগাযোগ উন্নত হলে উৎপাদনশীলতা বাড়বে, পরিবহন ব্যয় কমবে এবং বিনিয়োগ আকৃষ্ট হবে।

পাবনাবাসীর প্রত্যাশা, সম্মিলিত জনচাপ ও সচেতনতার মাধ্যমে বহুদিনের এ স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নেবে এবং দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

ওয়াই-টাইপ সেতু নির্মাণে ঐক্যবদ্ধ পাবনাবাসীর মানববন্ধন

Update Time : ০২:৪৪:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬
13 / 100 SEO Score

উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মধ্যে দ্রুত, নিরাপদ ও সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনের লক্ষ্যে আরিচা-টুরিয়া-কাজিরহাট সংযোগে ওয়াই-টাইপ সেতু নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন আমরা সুজানগরবাসী ফাউন্ডেশন-এর উদ্যোগে আজ শুক্রবার (১০এপ্রিল) সকাল ১০টায় রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা, পরিবহন খাত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং সচেতন নাগরিকদের অংশগ্রহণ করেন।

তাদের মতে, দীর্ঘদিনের অবহেলিত এই অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দেশের দুই অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আরিচা-পাটুরিয়া-কাজিরহাট রুটে একটি আধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ওয়াই-টাইপ সেতু নির্মাণ এখন সময়ের দাবি।

বর্তমানে এই অঞ্চলের লাখো মানুষ যাতায়াতের জন্য ফেরির ওপর নির্ভরশীল, যা প্রতিনিয়ত দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে নদীর স্রোত, ঘন কুয়াশা ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে ফেরি চলাচল ব্যাহত হয়।

তাদের দাবি, এই পরিস্থিতি সময় ও অর্থের অপচয়ের পাশাপাশি দেশের উত্তরাঞ্চলের উন্নয়নকেও দীর্ঘদিন ধরে বাধাগ্রস্ত করছে। একটি স্থায়ী সেতু নির্মিত হলে যোগাযোগ সহজ হওয়ার পাশাপাশি জাতীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

মানববন্ধনের মাধ্যমে পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—সেতু নির্মাণের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা, দ্রুত জরিপ ও সম্ভাব্যতা সমীক্ষা সম্পন্ন করা, আন্তর্জাতিক মানের নকশা প্রণয়ন, সরাসরি সড়ক যোগাযোগ নিশ্চিত করা এবং ফেরিনির্ভর দুর্ভোগ থেকে মুক্তির কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ।

সংগঠনের নেতারা জানান, এই সেতু নির্মিত হলে কৃষিপণ্য দ্রুত পরিবহন সম্ভব হবে, কৃষকরা ন্যায্য মূল্য পাবেন এবং শিল্প-বাণিজ্য খাতেও গতি আসবে। পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও আঞ্চলিক বৈষম্য কমাতেও ভূমিকা রাখবে প্রকল্পটি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বড় অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়ন দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে সহায়ক। সড়ক যোগাযোগ উন্নত হলে উৎপাদনশীলতা বাড়বে, পরিবহন ব্যয় কমবে এবং বিনিয়োগ আকৃষ্ট হবে।

পাবনাবাসীর প্রত্যাশা, সম্মিলিত জনচাপ ও সচেতনতার মাধ্যমে বহুদিনের এ স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নেবে এবং দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।