Dhaka ০৯:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ৩০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কবরস্থানের গাছ নিয়ে সংঘর্ষে আহত ২০

12 / 100 SEO Score

 

কুষ্টিয়ার খোকসায় একটি কবরস্থানের গাছ বিক্রি ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সকালে উপজেলার গোপগ্রাম ইউনিয়নের সাতপাখিয়া এলাকায় এই সংঘর্ষ ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১৬ বিঘা জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত শতবর্ষী সাতপাখিয়া কবরস্থান। সেখানে থাকা কোটি টাকা মূল্যের মেহগনি গাছের কর্তৃত্ব নিয়ে সাতপাখিয়া ও বরইচাড়া গ্রামের মাতুব্বরদের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে।

বর্তমানে সাতপাখিয়া গ্রামবাসীর নিয়ন্ত্রণে একটি কমিটি থাকলেও বরইচাড়া গ্রামের পক্ষ থেকে আলাদা একটি কমিটি গঠনের দাবি তোলা হয়।সাতপাখিয়া গ্রামের বর্তমান কমিটি কবরস্থানের মাটি ভরাটের জন্য ১০টি মেহগনি গাছ বিক্রি করে কাজ শুরু করলে উত্তেজনার সূত্রপাত হয়।

শুক্রবার সকালে গোপগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি মাসুদ আহসান শিবলীর নেতৃত্বে বরইচাড়া গ্রামের কয়েকশ লোক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়ে কাজ বন্ধ করে দেয়। এ সময় সাতপাখিয়া গ্রামের বাসিন্দারা মাইকে ঘোষণা দিয়ে প্রতিপক্ষকে প্রতিহতের ডাক দিলে উভয় পক্ষ রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।

প্রায় পৌনে এক ঘণ্টাব্যাপী চলা এই ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় ২০ জন আহত হন। হামলাকারীরা কবরস্থানের দেয়ালে থাকা বর্তমান কমিটির নামও মুছে দেয়।কবর স্থানের মাটির শ্রমিক শুরুর আলী বলেন, তারা প্রায় ২০জন শ্রমিক কবর স্থানে কাজ করছিলেন।

হঠাৎ করে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও গোপগ্রাম ইউনিয়ন বিএপির সাবেক সভাপতি মাসুদ আহসান শিবলীর নেতৃত্বে প্রায় ২শ লোক তাদের ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীদের প্রত্যেকের হাতে দেশীয় ধারালো অস্ত্র ছিল। শ্রমিকরা পালিয়ে নিজেদের রক্ষা করেন।

সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও গোপগ্রাম ইউনিয়ন বিএপির সাবেক সভাপতি মাসুদ আহসান শিবলী বলেন, তাদের পূর্ব পুরুষরা সাতপাখিয়া কবরস্থানের জমি দান করেন। কিন্তু প্রতিপক্ষ সেটা মানতে নারাজ। সাতপাখিয়া গ্রামের কয়েকজন সাবেক মেম্বার তাদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে চুরি করে গাছ বিক্রি করেছে।

বরইচাড়া গ্রামের লোকজন গাছকাটা বন্ধ করতে গিয়েছিল। এ সময় প্রতিপক্ষ তাদের ওপর হামলা করে। হামলা আহত বরইচারা গ্রামের বিল্লাল হোসেনসহ (৪০) দুইজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার্ড করা হয়েছে।

সাতপাখিয়া কবরস্থানের সভাপতি আবু মুসা বলেন, কবর স্থানে প্রতিপক্ষ বরইচাড়া গ্রামবাসীদের কোনো অবদান নেই। তারপরেও তারা মৃতদেহ দাফন করে। অনেকবার তাদের বাধা দেওয়া হয়েছে।

কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক ১০টি মেহগনির গাছ বিক্রি করা হয়েছে। সে টাকা দিয়ে কবর স্থানের মাটি ভরাট কাজ করা হচ্ছে। প্রতিপক্ষ বিনা উসকানিতে কমিটির নিয়োজিত শ্রমিকদের ওপর হামলা করে। দেয়াল লিখন মুছে দেয়। তাদের হামলায় কমিটির প্রায় ১০ জন আহত হয়েছেন।

খোকসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোশারফ হোসেন বলেন, বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত আছে। এখন পর্যন্ত কেউ কোনো অভিযোগ করেনি। অভিযোগ দিলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

কবরস্থানের গাছ নিয়ে সংঘর্ষে আহত ২০

Update Time : ০২:১২:৫৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬
12 / 100 SEO Score

 

কুষ্টিয়ার খোকসায় একটি কবরস্থানের গাছ বিক্রি ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সকালে উপজেলার গোপগ্রাম ইউনিয়নের সাতপাখিয়া এলাকায় এই সংঘর্ষ ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১৬ বিঘা জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত শতবর্ষী সাতপাখিয়া কবরস্থান। সেখানে থাকা কোটি টাকা মূল্যের মেহগনি গাছের কর্তৃত্ব নিয়ে সাতপাখিয়া ও বরইচাড়া গ্রামের মাতুব্বরদের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে।

বর্তমানে সাতপাখিয়া গ্রামবাসীর নিয়ন্ত্রণে একটি কমিটি থাকলেও বরইচাড়া গ্রামের পক্ষ থেকে আলাদা একটি কমিটি গঠনের দাবি তোলা হয়।সাতপাখিয়া গ্রামের বর্তমান কমিটি কবরস্থানের মাটি ভরাটের জন্য ১০টি মেহগনি গাছ বিক্রি করে কাজ শুরু করলে উত্তেজনার সূত্রপাত হয়।

শুক্রবার সকালে গোপগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি মাসুদ আহসান শিবলীর নেতৃত্বে বরইচাড়া গ্রামের কয়েকশ লোক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়ে কাজ বন্ধ করে দেয়। এ সময় সাতপাখিয়া গ্রামের বাসিন্দারা মাইকে ঘোষণা দিয়ে প্রতিপক্ষকে প্রতিহতের ডাক দিলে উভয় পক্ষ রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।

প্রায় পৌনে এক ঘণ্টাব্যাপী চলা এই ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় ২০ জন আহত হন। হামলাকারীরা কবরস্থানের দেয়ালে থাকা বর্তমান কমিটির নামও মুছে দেয়।কবর স্থানের মাটির শ্রমিক শুরুর আলী বলেন, তারা প্রায় ২০জন শ্রমিক কবর স্থানে কাজ করছিলেন।

হঠাৎ করে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও গোপগ্রাম ইউনিয়ন বিএপির সাবেক সভাপতি মাসুদ আহসান শিবলীর নেতৃত্বে প্রায় ২শ লোক তাদের ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীদের প্রত্যেকের হাতে দেশীয় ধারালো অস্ত্র ছিল। শ্রমিকরা পালিয়ে নিজেদের রক্ষা করেন।

সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও গোপগ্রাম ইউনিয়ন বিএপির সাবেক সভাপতি মাসুদ আহসান শিবলী বলেন, তাদের পূর্ব পুরুষরা সাতপাখিয়া কবরস্থানের জমি দান করেন। কিন্তু প্রতিপক্ষ সেটা মানতে নারাজ। সাতপাখিয়া গ্রামের কয়েকজন সাবেক মেম্বার তাদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে চুরি করে গাছ বিক্রি করেছে।

বরইচাড়া গ্রামের লোকজন গাছকাটা বন্ধ করতে গিয়েছিল। এ সময় প্রতিপক্ষ তাদের ওপর হামলা করে। হামলা আহত বরইচারা গ্রামের বিল্লাল হোসেনসহ (৪০) দুইজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার্ড করা হয়েছে।

সাতপাখিয়া কবরস্থানের সভাপতি আবু মুসা বলেন, কবর স্থানে প্রতিপক্ষ বরইচাড়া গ্রামবাসীদের কোনো অবদান নেই। তারপরেও তারা মৃতদেহ দাফন করে। অনেকবার তাদের বাধা দেওয়া হয়েছে।

কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক ১০টি মেহগনির গাছ বিক্রি করা হয়েছে। সে টাকা দিয়ে কবর স্থানের মাটি ভরাট কাজ করা হচ্ছে। প্রতিপক্ষ বিনা উসকানিতে কমিটির নিয়োজিত শ্রমিকদের ওপর হামলা করে। দেয়াল লিখন মুছে দেয়। তাদের হামলায় কমিটির প্রায় ১০ জন আহত হয়েছেন।

খোকসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোশারফ হোসেন বলেন, বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত আছে। এখন পর্যন্ত কেউ কোনো অভিযোগ করেনি। অভিযোগ দিলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।