Dhaka ০৮:০৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ছিনতাইয়ের আতঙ্কে নিরাপত্তাহীনতায় রাজধানীবাসী

নিজস্ব প্রতিবেদক
10 / 100 SEO Score

 

***চলন্ত রিকশায় ব্যাগ টানে প্রাণহানি
*** দিনদুপুরেও থামছে না ছিনতাই
*** ২২ ঘটনায় ১৭টিতেই অস্ত্রের ব্যবহার
*** মামলা না হওয়ায় মিলছে না প্রকৃত হিসাব

ব্যাগে হ্যাঁচকা টান থেকে অস্ত্রের মুখে ছিনিয়ে নেওয়া, দিন-রাতের ব্যবধান মুছে রাজধানীর সড়কে বাড়ছে ছিনতাইয়ের ঝুঁকি। চলন্ত রিকশা-অটোরিকশায় থাকা যাত্রী থেকে শুরু করে নগদ টাকা বহনকারী ব্যক্তি কেউই যেন পুরোপুরি নিরাপদ নন।

চোখের চিকিৎসার জন্য স্বামীর সঙ্গে বগুড়া থেকে ঢাকায় এসেছিলেন ৫৭ বছর বয়সী শিক্ষক রনজিলা পারভীন। গত ২৯ আগস্ট ভোরে সংসদ ভবন এলাকায় রিকশায় যাওয়ার সময় মোটরসাইকেলে থাকা দুই ছিনতাইকারী তাঁর হাতে থাকা ব্যাগে টান দেয়। হঠাৎ রিকশা থেকে সড়কে পড়ে গুরুতর আহত হন তিনি। হাসপাতালে নেওয়া হলেও তাঁকে বাঁচানো যায়নি।

রনজিলার মতো একই কৌশলে গত ছয় মাসে ঢাকায় আরও কয়েকজন নারী ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছেন। চলন্ত রিকশা বা অটোরিকশা থেকে ব্যাগ টেনে নেওয়ার ঘটনায় অন্তত তিন নারীর মৃত্যু হয়েছে। তিনটি ঘটনাতেই ছিনতাইকারীরা পাশ বা পেছন থেকে ব্যাগ ধরে টান দেওয়ার পর ভুক্তভোগীরা সড়কে পড়ে গুরুতর আহত হন।

ছিনতাই শুধু রাতের অন্ধকারে নয়: রাজধানীতে ছিনতাইয়ের সময় ও ধরনেও পরিবর্তন এসেছে। আগে ভোর, গভীর রাত বা নির্জন সড়ককে ছিনতাইকারীদের জন্য বেশি ঝুঁকিপূর্ণ সময় হিসেবে ধরা হলেও সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো বলছে, দিনদুপুরেও নিরাপদ নয় রাজধানীর পথঘাট।

১ মার্চ থেকে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত আলোচিত ২২টি গুরুতর ছিনতাইয়ের ঘটনা বিশ্লেষণ করে ২৬ জন ভুক্তভোগীর তথ্য পাওয়া গেছে। তাঁদের মধ্যে ২০ জন পুরুষ ও ছয়জন নারী। এই ঘটনাগুলোর চারটিতে প্রাণহানি হয়েছে, যার তিনটিতেই ভুক্তভোগী ছিলেন নারী।

সময় বিশ্লেষণেও পাওয়া গেছে উদ্বেগজনক চিত্র। ২২টি ঘটনার মধ্যে ভোররাত থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত ঘটেছে সাতটি এবং সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত আটটি। অর্থাৎ এই দুই সময়ে ঘটেছে মোট ১৫টি, প্রায় ৬৮ শতাংশ ঘটনা। তবে দিনের অন্য সময়ও বাদ যাচ্ছে না । সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে ঘটেছে সাতটি ছিনতাই।

চলন্ত যানই হয়ে উঠছে ঝুঁকির জায়গা: ছিনতাইয়ের ঝুঁকি শুধু নির্জন রাস্তায় সীমাবদ্ধ নেই। বিশ্লেষণ করা ঘটনাগুলোর অন্তত সাতটিতে ভুক্তভোগীরা রিকশা, অটোরিকশা কিংবা অন্য যানবাহনে ছিলেন। দুটি ঘটনায় চলন্ত ট্রেনের যাত্রীরা আক্রান্ত হন। আবার দুজন নারী গন্তব্যে পৌঁছে রিকশা থেকে নামার পরপরই ছিনতাইকারীদের কবলে পড়েন। অর্থাৎ, যাতায়াতের সময়টিই অনেকের জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে উঠছে।

সকালের দিকে রিকশা-অটোরিকশার যাত্রী এবং ব্যবসায়িক কাজে নগদ টাকা বহনকারীদের লক্ষ্য করার প্রবণতা দেখা গেছে। আর সন্ধ্যা ও রাতে পথরোধ করে ছুরি-চাপাতি দেখানো কিংবা আঘাত করে টাকা ও মুঠোফোন ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা বেশি।

২২ ঘটনায় ১৭টিতেই অস্ত্র: ছিনতাইয়ের ভয়াবহতার আরেকটি দিক উঠে এসেছে অস্ত্র ব্যবহারের তথ্যে। বিশ্লেষণ করা ২২টি ঘটনার মধ্যে ১৭টিতেই—প্রায় ৭৭ শতাংশ ঘটনায় ধারালো বা আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার কিংবা প্রদর্শনের তথ্য পাওয়া গেছে। এসব ঘটনায় ছুরি, চাপাতি, ব্লেড, দেশীয় ধারালো অস্ত্র ও পিস্তল ব্যবহারের কথা এসেছে।

অনেক ঘটনায় একা নয়, দলবদ্ধভাবে ছিনতাইকারীরা হামলা করেছে। অধিকাংশ ঘটনায় দুই থেকে চারজন জড়িত থাকলেও কোনো কোনো ঘটনায় ছয়-সাতজনের উপস্থিতিও পাওয়া গেছে। গত ৯ আগস্ট উত্তরায় একটি পেট্রলপাম্পের ১ কোটি ২১ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় তিনটি মোটরসাইকেলে ছয়-সাতজন এসেছিল।

প্রকৃত ছিনতাইয়ের হিসাব কত: ছিনতাইয়ের প্রকৃত চিত্র নিয়ে তৈরি হয়েছে আরেক সমস্যা। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত রাজধানীতে দস্যুতার মামলা হয়েছে ১৪৯টি এবং ডাকাতির মামলা ১৮টি। কিন্তু এই পরিসংখ্যান থেকে প্রকৃত ছিনতাইয়ের সংখ্যা জানা যায় না। কারণ অনেক ভুক্তভোগী থানায় মামলা করতে যান না। আবার থানায় গিয়ে মামলা না নিয়ে শুধু সাধারণ ডায়েরি (জিডি) নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

গত ছয় মাসে ছিনতাইয়ের শিকার সাতজনের সঙ্গে কথা বলার তথ্য অনুযায়ী, তাঁদের কেউই মামলা করেননি। চারজন থানায় যানইনি, আর তিনজন থানায় যাওয়ার পর জিডি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন।

এতে ছিনতাইয়ের সরকারি পরিসংখ্যান নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে। অস্ত্রের মুখে কেড়ে নেওয়া মুঠোফোন যদি ‘হারানো ফোন’ হিসেবে নথিভুক্ত হয়, তাহলে সেটি ছিনতাইয়ের হিসাবের বাইরে থেকে যায়। ফলে রাজধানীতে প্রকৃতপক্ষে কত ছিনতাই হচ্ছে, তার স্পষ্ট চিত্র পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

পুলিশের বক্তব্য: ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মোহাম্মদ ওসমান গণি বলেছেন, কোনো ভুক্তভোগী এজাহার নিয়ে থানায় এলে অবশ্যই মামলা নেওয়া হবে। তাঁর ভাষ্য, মামলা না নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

ডিএমপির পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, ছিনতাইকারীরা নির্দিষ্ট সময় ও জায়গা বেছে অপরাধ করছে। বিশেষ করে বাস থেকে নেমে গন্তব্যে যাওয়ার পথে তুলনামূলক ফাঁকা জায়গায় তারা সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করে। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন পয়েন্টে ৮৮টি চেকপোস্ট এবং প্রতিটি থানায় তিন থেকে পাঁচটি নিয়মিত টহল দল রয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।

তবে সরকারের পক্ষ থেকে সামগ্রিকভাবে চুরি-ছিনতাইয়ের মতো অপরাধের মামলা কমেছে বলে দাবি করা হয়েছে। সরকারের প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে অপরাধের দায় সরকার এড়িয়ে যাচ্ছে না এবং পুলিশের আত্মবিশ্বাস পুরোপুরি ফেরেনি।

রাজধানীর রাস্তায় মানুষের চলাচল থেমে নেই। থামেনি ছিনতাইয়ের ঘটনাও। পার্থক্য শুধু—একটি ব্যাগ, একটি মুঠোফোন কিংবা কিছু টাকা কেড়ে নেওয়ার ঘটনা কখন যে একটি পরিবারের প্রিয় মানুষটিকে কেড়ে নেয়, তার নিশ্চয়তা নেই। রনজিলা পারভীনের মতো প্রাণহানির ঘটনাগুলো সেই আশঙ্কাকেই আরও স্পষ্ট করে তুলছে।

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

nineteen − 15 =

About Author Information

ছিনতাইয়ের আতঙ্কে নিরাপত্তাহীনতায় রাজধানীবাসী

Update Time : ০৭:১১:৪৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
10 / 100 SEO Score

 

***চলন্ত রিকশায় ব্যাগ টানে প্রাণহানি
*** দিনদুপুরেও থামছে না ছিনতাই
*** ২২ ঘটনায় ১৭টিতেই অস্ত্রের ব্যবহার
*** মামলা না হওয়ায় মিলছে না প্রকৃত হিসাব

ব্যাগে হ্যাঁচকা টান থেকে অস্ত্রের মুখে ছিনিয়ে নেওয়া, দিন-রাতের ব্যবধান মুছে রাজধানীর সড়কে বাড়ছে ছিনতাইয়ের ঝুঁকি। চলন্ত রিকশা-অটোরিকশায় থাকা যাত্রী থেকে শুরু করে নগদ টাকা বহনকারী ব্যক্তি কেউই যেন পুরোপুরি নিরাপদ নন।

চোখের চিকিৎসার জন্য স্বামীর সঙ্গে বগুড়া থেকে ঢাকায় এসেছিলেন ৫৭ বছর বয়সী শিক্ষক রনজিলা পারভীন। গত ২৯ আগস্ট ভোরে সংসদ ভবন এলাকায় রিকশায় যাওয়ার সময় মোটরসাইকেলে থাকা দুই ছিনতাইকারী তাঁর হাতে থাকা ব্যাগে টান দেয়। হঠাৎ রিকশা থেকে সড়কে পড়ে গুরুতর আহত হন তিনি। হাসপাতালে নেওয়া হলেও তাঁকে বাঁচানো যায়নি।

রনজিলার মতো একই কৌশলে গত ছয় মাসে ঢাকায় আরও কয়েকজন নারী ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছেন। চলন্ত রিকশা বা অটোরিকশা থেকে ব্যাগ টেনে নেওয়ার ঘটনায় অন্তত তিন নারীর মৃত্যু হয়েছে। তিনটি ঘটনাতেই ছিনতাইকারীরা পাশ বা পেছন থেকে ব্যাগ ধরে টান দেওয়ার পর ভুক্তভোগীরা সড়কে পড়ে গুরুতর আহত হন।

ছিনতাই শুধু রাতের অন্ধকারে নয়: রাজধানীতে ছিনতাইয়ের সময় ও ধরনেও পরিবর্তন এসেছে। আগে ভোর, গভীর রাত বা নির্জন সড়ককে ছিনতাইকারীদের জন্য বেশি ঝুঁকিপূর্ণ সময় হিসেবে ধরা হলেও সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো বলছে, দিনদুপুরেও নিরাপদ নয় রাজধানীর পথঘাট।

১ মার্চ থেকে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত আলোচিত ২২টি গুরুতর ছিনতাইয়ের ঘটনা বিশ্লেষণ করে ২৬ জন ভুক্তভোগীর তথ্য পাওয়া গেছে। তাঁদের মধ্যে ২০ জন পুরুষ ও ছয়জন নারী। এই ঘটনাগুলোর চারটিতে প্রাণহানি হয়েছে, যার তিনটিতেই ভুক্তভোগী ছিলেন নারী।

সময় বিশ্লেষণেও পাওয়া গেছে উদ্বেগজনক চিত্র। ২২টি ঘটনার মধ্যে ভোররাত থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত ঘটেছে সাতটি এবং সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত আটটি। অর্থাৎ এই দুই সময়ে ঘটেছে মোট ১৫টি, প্রায় ৬৮ শতাংশ ঘটনা। তবে দিনের অন্য সময়ও বাদ যাচ্ছে না । সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে ঘটেছে সাতটি ছিনতাই।

চলন্ত যানই হয়ে উঠছে ঝুঁকির জায়গা: ছিনতাইয়ের ঝুঁকি শুধু নির্জন রাস্তায় সীমাবদ্ধ নেই। বিশ্লেষণ করা ঘটনাগুলোর অন্তত সাতটিতে ভুক্তভোগীরা রিকশা, অটোরিকশা কিংবা অন্য যানবাহনে ছিলেন। দুটি ঘটনায় চলন্ত ট্রেনের যাত্রীরা আক্রান্ত হন। আবার দুজন নারী গন্তব্যে পৌঁছে রিকশা থেকে নামার পরপরই ছিনতাইকারীদের কবলে পড়েন। অর্থাৎ, যাতায়াতের সময়টিই অনেকের জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে উঠছে।

সকালের দিকে রিকশা-অটোরিকশার যাত্রী এবং ব্যবসায়িক কাজে নগদ টাকা বহনকারীদের লক্ষ্য করার প্রবণতা দেখা গেছে। আর সন্ধ্যা ও রাতে পথরোধ করে ছুরি-চাপাতি দেখানো কিংবা আঘাত করে টাকা ও মুঠোফোন ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা বেশি।

২২ ঘটনায় ১৭টিতেই অস্ত্র: ছিনতাইয়ের ভয়াবহতার আরেকটি দিক উঠে এসেছে অস্ত্র ব্যবহারের তথ্যে। বিশ্লেষণ করা ২২টি ঘটনার মধ্যে ১৭টিতেই—প্রায় ৭৭ শতাংশ ঘটনায় ধারালো বা আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার কিংবা প্রদর্শনের তথ্য পাওয়া গেছে। এসব ঘটনায় ছুরি, চাপাতি, ব্লেড, দেশীয় ধারালো অস্ত্র ও পিস্তল ব্যবহারের কথা এসেছে।

অনেক ঘটনায় একা নয়, দলবদ্ধভাবে ছিনতাইকারীরা হামলা করেছে। অধিকাংশ ঘটনায় দুই থেকে চারজন জড়িত থাকলেও কোনো কোনো ঘটনায় ছয়-সাতজনের উপস্থিতিও পাওয়া গেছে। গত ৯ আগস্ট উত্তরায় একটি পেট্রলপাম্পের ১ কোটি ২১ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় তিনটি মোটরসাইকেলে ছয়-সাতজন এসেছিল।

প্রকৃত ছিনতাইয়ের হিসাব কত: ছিনতাইয়ের প্রকৃত চিত্র নিয়ে তৈরি হয়েছে আরেক সমস্যা। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত রাজধানীতে দস্যুতার মামলা হয়েছে ১৪৯টি এবং ডাকাতির মামলা ১৮টি। কিন্তু এই পরিসংখ্যান থেকে প্রকৃত ছিনতাইয়ের সংখ্যা জানা যায় না। কারণ অনেক ভুক্তভোগী থানায় মামলা করতে যান না। আবার থানায় গিয়ে মামলা না নিয়ে শুধু সাধারণ ডায়েরি (জিডি) নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

গত ছয় মাসে ছিনতাইয়ের শিকার সাতজনের সঙ্গে কথা বলার তথ্য অনুযায়ী, তাঁদের কেউই মামলা করেননি। চারজন থানায় যানইনি, আর তিনজন থানায় যাওয়ার পর জিডি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন।

এতে ছিনতাইয়ের সরকারি পরিসংখ্যান নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে। অস্ত্রের মুখে কেড়ে নেওয়া মুঠোফোন যদি ‘হারানো ফোন’ হিসেবে নথিভুক্ত হয়, তাহলে সেটি ছিনতাইয়ের হিসাবের বাইরে থেকে যায়। ফলে রাজধানীতে প্রকৃতপক্ষে কত ছিনতাই হচ্ছে, তার স্পষ্ট চিত্র পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

পুলিশের বক্তব্য: ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মোহাম্মদ ওসমান গণি বলেছেন, কোনো ভুক্তভোগী এজাহার নিয়ে থানায় এলে অবশ্যই মামলা নেওয়া হবে। তাঁর ভাষ্য, মামলা না নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

ডিএমপির পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, ছিনতাইকারীরা নির্দিষ্ট সময় ও জায়গা বেছে অপরাধ করছে। বিশেষ করে বাস থেকে নেমে গন্তব্যে যাওয়ার পথে তুলনামূলক ফাঁকা জায়গায় তারা সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করে। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন পয়েন্টে ৮৮টি চেকপোস্ট এবং প্রতিটি থানায় তিন থেকে পাঁচটি নিয়মিত টহল দল রয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।

তবে সরকারের পক্ষ থেকে সামগ্রিকভাবে চুরি-ছিনতাইয়ের মতো অপরাধের মামলা কমেছে বলে দাবি করা হয়েছে। সরকারের প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে অপরাধের দায় সরকার এড়িয়ে যাচ্ছে না এবং পুলিশের আত্মবিশ্বাস পুরোপুরি ফেরেনি।

রাজধানীর রাস্তায় মানুষের চলাচল থেমে নেই। থামেনি ছিনতাইয়ের ঘটনাও। পার্থক্য শুধু—একটি ব্যাগ, একটি মুঠোফোন কিংবা কিছু টাকা কেড়ে নেওয়ার ঘটনা কখন যে একটি পরিবারের প্রিয় মানুষটিকে কেড়ে নেয়, তার নিশ্চয়তা নেই। রনজিলা পারভীনের মতো প্রাণহানির ঘটনাগুলো সেই আশঙ্কাকেই আরও স্পষ্ট করে তুলছে।