Dhaka ০৮:০৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মুমিনের কয়েকটি ভুল নষ্ট করে দিতে পারে সকল নেক আমল

10 / 100 SEO Score

 

ইসলামে গোপনে ইবাদত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। গোপনে দান-সদকা করা, মানুষের মধ্যে মীমাংসা করে দেওয়া, কারও মন ভালো করে দেওয়া, কারও অনুপস্থিতিতে তার জন্য দোয়া করা কিংবা নীরবে নেক আমল করা, এসব আমল একজন মুমিনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তবে শুধু নেক আমল করাই যথেষ্ট নয়; সেই আমলকে নষ্ট বা দুর্বল করে দিতে পারে এমন বিষয় থেকেও সতর্ক থাকা জরুরি।

বছরের পর বছর ইবাদত করার পরও অন্তর বা জিহ্বার কোনো একটি রোগের কারণে মানুষের আমল নষ্ট হতে পারে কিংবা তার সওয়াব কমে যেতে পারে। এ কারণে মুসলিম মনীষীরা আমল করার পাশাপাশি তা সংরক্ষণের ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন।

গোপন ইবাদত নষ্ট বা দুর্বল করে দিতে পারে এমন কয়েকটি বিষয় হলো—

১. গোপন রিয়া বা লোকদেখানো

রিয়া সবচেয়ে বিপজ্জনক অন্তরের রোগগুলোর একটি। অনেক সময় মানুষ নিজেও বুঝতে পারে না যে তার আমলের মধ্যে রিয়া ঢুকে পড়েছে। কেউ আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য আমল শুরু করলেও পরে মানুষ তার আমলের কথা জানতে পেরে আনন্দিত হতে পারে, প্রশংসা না পেলে কষ্ট পেতে পারে কিংবা মানুষ না থাকলে কিছু নেক আমল ছেড়ে দিতে পারে।

আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যে ব্যক্তি তার রবের সাক্ষাতের আশা করে, সে যেন সৎকর্ম করে এবং তার রবের ইবাদতে কাউকে শরিক না করে।’
—সুরা আল-কাহফ, আয়াত ১১০

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আমি তোমাদের ব্যাপারে সবচেয়ে বেশি যে বিষয়টির আশঙ্কা করি তা হলো ছোট শিরক।’ সাহাবিরা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘রিয়া।’
—মুসনাদে আহমদ, হাদিস ২৩৬৩০

২. নিজের আমল নিয়ে অহংকার করা

নেক আমল করতে করতে কেউ নিজের প্রতি মুগ্ধ হয়ে যেতে পারে এবং অন্যদের তুলনায় নিজেকে উত্তম মনে করতে পারে। এটিও অত্যন্ত বিপজ্জনক। কারণ একজন মুমিনের আমল যত বাড়বে, তার বিনয়ও তত বাড়া উচিত।

আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘অতএব তোমরা নিজেদের পবিত্র বলে দাবি কোরো না। কে তাকওয়াবান, তিনি তা ভালো জানেন।’
—সুরা আন-নাজম, আয়াত ৩২

৩. উপকার করে খোঁটা দেওয়া

কেউ গোপনে দান করল, কিন্তু পরে সেই দানের কথা বারবার স্মরণ করিয়ে দিল। আবার কেউ আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখার পর সেই উপকারের কথা বলে অহংকার করল—এ ধরনের আচরণ আমলের ক্ষতি করতে পারে।

আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘হে মুমিনরা! খোঁটা ও কষ্ট দিয়ে তোমরা তোমাদের দান-সদকা নষ্ট কোরো না।’
—সুরা আল-বাকারাহ, আয়াত ২৬৪

৪. ছোট নেক আমলকে তুচ্ছ মনে করা

শয়তানের একটি বড় ফাঁদ হলো মানুষকে বোঝানো যে ছোট আমলের কোনো মূল্য নেই। ফলে হাসিমুখে কথা বলা, সামান্য জিকির করা, কারও জন্য দোয়া করা, রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে দেওয়া কিংবা সামান্য সদকাকেও মানুষ অবহেলা করতে পারে।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘অর্ধেক খেজুর দান করে হলেও জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচো; যদি তা-ও না পাও, তবে একটি ভালো কথা বলো।’
—বুখারি, হাদিস ৬৫৪০

তাই কোনো নেক আমলকেই ছোট করে দেখা উচিত নয়।

৫. দ্রুত ফল না পেয়ে অধৈর্য হয়ে যাওয়া

কেউ দোয়া করে দ্রুত ফল না পেয়ে বলতে পারে, ‘আমি দোয়া করেছি, কিন্তু কোনো ফল পেলাম না।’ আবার কেউ মানুষের মধ্যে মীমাংসা করার পর দ্রুত পরিবর্তন না দেখে হতাশ হয়ে যেতে পারে।

এ ধরনের হতাশা শয়তানের একটি ফাঁদ হতে পারে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের কারো দোয়া কবুল হতে থাকে, যতক্ষণ না সে তাড়াহুড়া করে বলে—আমি দোয়া করেছি, কিন্তু আমার দোয়া কবুল হয়নি।’
—বুখারি, হাদিস ৬৩৪০

৬. গুনাহের পর ইবাদত ছেড়ে দেওয়া

কেউ গুনাহ করে ফেলার পর ভাবতে পারে—‘আমি তো গুনাহগার, আমার আর তাহাজ্জুদ পড়ার অধিকার নেই। আমি কীভাবে দোয়া করব বা কোরআন পড়ব?’

এটি শয়তানের বড় প্রতারণা। বরং গুনাহের পর আরও বেশি তাওবা ও নেক আমলের দিকে ফিরে আসা উচিত।

আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘বলুন, হে আমার সেই বান্দারা, যারা নিজেদের ওপর জুলুম করেছ, তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না।’
—সুরা আয-যুমার, আয়াত ৫৩

৭. ইবাদতের কারণে অন্যকে তুচ্ছ মনে করা

কেউ নিজের গোপন ইবাদত ঠিক রাখলেও ধীরে ধীরে গুনাহগার মানুষদের তুচ্ছতাচ্ছিল্য করতে শুরু করতে পারে। এটি ইসলামের শিক্ষা নয়।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘কোনো ব্যক্তির মন্দ হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে সে তার মুসলিম ভাইকে তুচ্ছ মনে করে।’
—ইবনে মাজাহ, হাদিস ৪২১৩

৮. অন্যের আমল নিয়ে ব্যস্ত থাকা

অন্যের ইবাদত কতটুকু, কে কত গুনাহ করে বা কে কী ভুল করছে—এসব হিসাব করতে গিয়ে কেউ নিজের অন্তর ও আমলের সংশোধনের কথা ভুলে যেতে পারে।

আল্লাহ বলেন, ‘বরং মানুষ নিজেই নিজের সম্পর্কে খুব ভালোভাবে অবগত।’
—সুরা আল-কিয়ামাহ, আয়াত ১৪

৯. আমল কবুল হয়েছে কি না—এ নিয়ে দোয়া না করা

নেক আমল করার পরও তা কবুল হয়েছে কি না, সে বিষয়ে মুমিনের আল্লাহর কাছে দোয়া করা উচিত। মুসলিম মনীষীরা আমল করার পরও আমল কবুল হওয়া নিয়ে ভয় করতেন।

ইবরাহিম ও ইসমাঈল (আ.) কাবা নির্মাণের সময়ও আল্লাহর কাছে দোয়া করেছিলেন—

‘হে আমাদের রব! আমাদের পক্ষ থেকে কবুল করুন। নিশ্চয়ই আপনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।’
—সুরা আল-বাকারাহ, আয়াত ১২৭

তারা যখন আল্লাহর ঘর নির্মাণের মতো মহান কাজ করেও আমল কবুল হওয়ার জন্য দোয়া করেছেন, তখন আমাদের মতো দুর্বল মানুষের আরও বেশি করে নিজের আমল কবুলের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করা উচিত।

নেক আমল করা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি সেই আমলকে রিয়া, অহংকার, খোঁটা, হতাশা ও অন্যকে তুচ্ছ করার মতো বিষয় থেকে হেফাজত করাও জরুরি।

 

Tag :

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

2 × one =

About Author Information

মুমিনের কয়েকটি ভুল নষ্ট করে দিতে পারে সকল নেক আমল

Update Time : ০৫:২৯:২৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬
10 / 100 SEO Score

 

ইসলামে গোপনে ইবাদত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। গোপনে দান-সদকা করা, মানুষের মধ্যে মীমাংসা করে দেওয়া, কারও মন ভালো করে দেওয়া, কারও অনুপস্থিতিতে তার জন্য দোয়া করা কিংবা নীরবে নেক আমল করা, এসব আমল একজন মুমিনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তবে শুধু নেক আমল করাই যথেষ্ট নয়; সেই আমলকে নষ্ট বা দুর্বল করে দিতে পারে এমন বিষয় থেকেও সতর্ক থাকা জরুরি।

বছরের পর বছর ইবাদত করার পরও অন্তর বা জিহ্বার কোনো একটি রোগের কারণে মানুষের আমল নষ্ট হতে পারে কিংবা তার সওয়াব কমে যেতে পারে। এ কারণে মুসলিম মনীষীরা আমল করার পাশাপাশি তা সংরক্ষণের ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন।

গোপন ইবাদত নষ্ট বা দুর্বল করে দিতে পারে এমন কয়েকটি বিষয় হলো—

১. গোপন রিয়া বা লোকদেখানো

রিয়া সবচেয়ে বিপজ্জনক অন্তরের রোগগুলোর একটি। অনেক সময় মানুষ নিজেও বুঝতে পারে না যে তার আমলের মধ্যে রিয়া ঢুকে পড়েছে। কেউ আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য আমল শুরু করলেও পরে মানুষ তার আমলের কথা জানতে পেরে আনন্দিত হতে পারে, প্রশংসা না পেলে কষ্ট পেতে পারে কিংবা মানুষ না থাকলে কিছু নেক আমল ছেড়ে দিতে পারে।

আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যে ব্যক্তি তার রবের সাক্ষাতের আশা করে, সে যেন সৎকর্ম করে এবং তার রবের ইবাদতে কাউকে শরিক না করে।’
—সুরা আল-কাহফ, আয়াত ১১০

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আমি তোমাদের ব্যাপারে সবচেয়ে বেশি যে বিষয়টির আশঙ্কা করি তা হলো ছোট শিরক।’ সাহাবিরা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘রিয়া।’
—মুসনাদে আহমদ, হাদিস ২৩৬৩০

২. নিজের আমল নিয়ে অহংকার করা

নেক আমল করতে করতে কেউ নিজের প্রতি মুগ্ধ হয়ে যেতে পারে এবং অন্যদের তুলনায় নিজেকে উত্তম মনে করতে পারে। এটিও অত্যন্ত বিপজ্জনক। কারণ একজন মুমিনের আমল যত বাড়বে, তার বিনয়ও তত বাড়া উচিত।

আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘অতএব তোমরা নিজেদের পবিত্র বলে দাবি কোরো না। কে তাকওয়াবান, তিনি তা ভালো জানেন।’
—সুরা আন-নাজম, আয়াত ৩২

৩. উপকার করে খোঁটা দেওয়া

কেউ গোপনে দান করল, কিন্তু পরে সেই দানের কথা বারবার স্মরণ করিয়ে দিল। আবার কেউ আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখার পর সেই উপকারের কথা বলে অহংকার করল—এ ধরনের আচরণ আমলের ক্ষতি করতে পারে।

আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘হে মুমিনরা! খোঁটা ও কষ্ট দিয়ে তোমরা তোমাদের দান-সদকা নষ্ট কোরো না।’
—সুরা আল-বাকারাহ, আয়াত ২৬৪

৪. ছোট নেক আমলকে তুচ্ছ মনে করা

শয়তানের একটি বড় ফাঁদ হলো মানুষকে বোঝানো যে ছোট আমলের কোনো মূল্য নেই। ফলে হাসিমুখে কথা বলা, সামান্য জিকির করা, কারও জন্য দোয়া করা, রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে দেওয়া কিংবা সামান্য সদকাকেও মানুষ অবহেলা করতে পারে।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘অর্ধেক খেজুর দান করে হলেও জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচো; যদি তা-ও না পাও, তবে একটি ভালো কথা বলো।’
—বুখারি, হাদিস ৬৫৪০

তাই কোনো নেক আমলকেই ছোট করে দেখা উচিত নয়।

৫. দ্রুত ফল না পেয়ে অধৈর্য হয়ে যাওয়া

কেউ দোয়া করে দ্রুত ফল না পেয়ে বলতে পারে, ‘আমি দোয়া করেছি, কিন্তু কোনো ফল পেলাম না।’ আবার কেউ মানুষের মধ্যে মীমাংসা করার পর দ্রুত পরিবর্তন না দেখে হতাশ হয়ে যেতে পারে।

এ ধরনের হতাশা শয়তানের একটি ফাঁদ হতে পারে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের কারো দোয়া কবুল হতে থাকে, যতক্ষণ না সে তাড়াহুড়া করে বলে—আমি দোয়া করেছি, কিন্তু আমার দোয়া কবুল হয়নি।’
—বুখারি, হাদিস ৬৩৪০

৬. গুনাহের পর ইবাদত ছেড়ে দেওয়া

কেউ গুনাহ করে ফেলার পর ভাবতে পারে—‘আমি তো গুনাহগার, আমার আর তাহাজ্জুদ পড়ার অধিকার নেই। আমি কীভাবে দোয়া করব বা কোরআন পড়ব?’

এটি শয়তানের বড় প্রতারণা। বরং গুনাহের পর আরও বেশি তাওবা ও নেক আমলের দিকে ফিরে আসা উচিত।

আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘বলুন, হে আমার সেই বান্দারা, যারা নিজেদের ওপর জুলুম করেছ, তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না।’
—সুরা আয-যুমার, আয়াত ৫৩

৭. ইবাদতের কারণে অন্যকে তুচ্ছ মনে করা

কেউ নিজের গোপন ইবাদত ঠিক রাখলেও ধীরে ধীরে গুনাহগার মানুষদের তুচ্ছতাচ্ছিল্য করতে শুরু করতে পারে। এটি ইসলামের শিক্ষা নয়।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘কোনো ব্যক্তির মন্দ হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে সে তার মুসলিম ভাইকে তুচ্ছ মনে করে।’
—ইবনে মাজাহ, হাদিস ৪২১৩

৮. অন্যের আমল নিয়ে ব্যস্ত থাকা

অন্যের ইবাদত কতটুকু, কে কত গুনাহ করে বা কে কী ভুল করছে—এসব হিসাব করতে গিয়ে কেউ নিজের অন্তর ও আমলের সংশোধনের কথা ভুলে যেতে পারে।

আল্লাহ বলেন, ‘বরং মানুষ নিজেই নিজের সম্পর্কে খুব ভালোভাবে অবগত।’
—সুরা আল-কিয়ামাহ, আয়াত ১৪

৯. আমল কবুল হয়েছে কি না—এ নিয়ে দোয়া না করা

নেক আমল করার পরও তা কবুল হয়েছে কি না, সে বিষয়ে মুমিনের আল্লাহর কাছে দোয়া করা উচিত। মুসলিম মনীষীরা আমল করার পরও আমল কবুল হওয়া নিয়ে ভয় করতেন।

ইবরাহিম ও ইসমাঈল (আ.) কাবা নির্মাণের সময়ও আল্লাহর কাছে দোয়া করেছিলেন—

‘হে আমাদের রব! আমাদের পক্ষ থেকে কবুল করুন। নিশ্চয়ই আপনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।’
—সুরা আল-বাকারাহ, আয়াত ১২৭

তারা যখন আল্লাহর ঘর নির্মাণের মতো মহান কাজ করেও আমল কবুল হওয়ার জন্য দোয়া করেছেন, তখন আমাদের মতো দুর্বল মানুষের আরও বেশি করে নিজের আমল কবুলের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করা উচিত।

নেক আমল করা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি সেই আমলকে রিয়া, অহংকার, খোঁটা, হতাশা ও অন্যকে তুচ্ছ করার মতো বিষয় থেকে হেফাজত করাও জরুরি।