শুটিংয়ের চাপেই জ্ঞান হারান করণ জোহর
শুটিংয়ের তীব্র চাপ, বিশাল আয়োজন আর নিখুঁত দৃশ্যধারণের নিরন্তর ব্যস্ততার মাঝেই হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন পরিচালক করণ জোহর।
২০০১ সালে বলিউড ইতিহাসে এক অন্যতম কালজয়ী সিনেমা ‘কাভি খুশি কাভি গাম’-এর জনপ্রিয় গান ‘বোলে চুড়িয়া’র শুটিং চলাকালীন সেটেই জ্ঞান হারান তিনি।
দীর্ঘ ২৫ বছর পর সেই ঘটনাকে ঘিরে পর্দার পেছনের কঠিন বাস্তবতা তুলে ধরলেন নির্মাতা নিখিল আদভানি।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিখিল আদভানি বলেন, এদিকে পর্দার সামনে অভিনেতা-অভিনেত্রীদের হাসিখুশি দেখালেও পর্দার পেছনের গল্পটা ছিল বেশ কষ্টের।
বিশেষ করে অভিনেত্রী কাজলের জন্য সময়টা ছিল নিদারুণ যন্ত্রণার। নিখিল জানান, সেই সময় ব্যক্তিগত জীবনে কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন কাজল। শুটিং চলাকালীন তার গর্ভপাত হয়েছিল।
এ নির্মাতা বলেন, একদিকে শারীরিক অসুস্থতা ও মানসিক অবসাদ, অন্যদিকে ‘লেহেঙ্গা’ পরে নাচের কঠিন কোরিওগ্রাফি—সব মিলিয়ে কাজলকে চরম ধৈর্যের পরীক্ষা দিতে হয়েছিল।
যদিও পরে এ সিনেমার জন্য তিনি সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার জিতেছিলেন। বাজেটের দিক থেকেও সিনেমাটি ছিল সেই সময়ের তুলনায় অনেক ব্যয়বহুল বলে জানান নিখিল আদভানি।
তিনি বলেন, ‘কাভি খুশি কাভি গাম’ সিনেমার গানটির সেট ছিল বিশাল। করণ চেয়েছিলেন গানটিকে রাজকীয় রূপ দিতে। সেই লক্ষ্যে সেটে বসানো হয়েছিল বিশালাকার সব ঝাড়বাতি।
সঙ্গে ছিল ২০০ পেশাদার নৃত্যশিল্পী এবং ৩০০ জুনিয়র আর্টিস্ট। এই বিশাল আয়োজনের চাপ সামলাতে গিয়েই বিপত্তি ঘটে। শুটিং চলাকালীন হুট করেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন করণ জোহর।
নিখিল আদভানি বলেন, সিনেমার প্রযোজক যশ জোহর যখন বাজেট জানতে চান, তখন নিখিল তিন কোটি রুপির একটি হিসাব দিয়েছিলেন। কিন্তু জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের কারণে সেই বাজেট দ্রুতই ছাড়িয়ে যায়।
পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, রাগে বা হতাশায় একদিন বাজেটের কাগজটিই ছিঁড়ে ফেলেছিলেন যশ জোহর। তবে বড় মনের মানুষ যশ জোহর শেষ পর্যন্ত সিনেমার গুণগত মান নিয়ে কোনো আপস করেননি বলে জানান এ নির্মাতা।
উল্লেখ্য, ‘কাভি খুশি কাভি গাম’ সিনেমায় বলিউড শাহেনশাহ অমিতাভ বচ্চন, বাদশাহ শাহরুখ খান, হৃতিক রোশন ও অভিনেত্রী কারিনা কাপুরের অভিনয় বিশ্বব্যাপী সমাদৃত।
সিনেমাটি প্রায় ১১৯.২৯ কোটি রুপি আয় করেছিল। আর এ সিনেমার সবচেয়ে বড় চমক ছিল শাহরুখ-পুত্র আরিয়ান খানের উপস্থিতি।
সিনেমার শুরুতে রাহুলের (শাহরুখ) ছোটবেলার চরিত্রে তাকেই দেখা গিয়েছিল। এ ছাড়া কৌতুক অভিনেতা জনি লিভার ও তার ছেলে জেসি লিভারকেও প্রথমবারের মতো একসঙ্গে পর্দায় দেখা গিয়েছিল এই সিনেমার মাধ্যমেই।



















