Dhaka ০২:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সুন্দরবনে শান্তি ফেরাতে র‌্যাবের অভিযান

জেলা প্রতিনিধি
8 / 100 SEO Score

 

সুন্দরবনে শান্তি ফেরাতে সন্ত্রাসী ও বনদস্যুদের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করেছে র‌্যাব। বাহিনীর মহাপরিচালক আহসান হাবিব পলাশ বলেছেন, অস্ত্রধারী ও সন্ত্রাসীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে অপরাধীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় ও অর্থের জোগানদাতাদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

তিনি বলেন, সুন্দরবনে শান্তি ফিরিয়ে আনাই আমাদের লক্ষ। আমরা সন্ত্রাসী, অপরাধীদের সম্পর্কে খোঁজ রাখছি। অপরাধীদের অর্থযোগান দাতা, আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতাদের কেউই পার পবেন না।

বুধবার (২ সেপ্টম্বর) খুলনা র‌্যাব-৬-এর সদর দপ্তরে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। সুন্দরবনের ৫৯ জন বনদস্যুর আত্মসমর্পণ, ৫৯টি অস্ত্র উদ্ধার, খুলনাসহ সারা দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে এই প্রেস ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়।

র‌্যাবের মহাপরিচালক বলেন, ২০১৬ সাল থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত আত্মসমর্পণকারী ৩২৮ জন দস্যুর মধ্যে ৩০ জন পুনরায় অস্বাভাবিক জীবনে ফিরে গেছেন। এরমধ্যে উপস্থিত আত্মসমর্পনকারী ৮ জন রয়েছেন।

তিনি বলেন, সামাজিক, রাজনৈতিক কারণ, হয়রানি হওয়ার ভয় ইত্যাদি কারণে তারা অপরাধ কর্মকাণ্ডে ফিরে যান। এ ছাড়া কিছু মানুষের অপরাধ প্রবণতা থাকে। তবে সার্বিকভাবে র‌্যাবের সাফল্য উল্লেখযোগ্য। যারা আত্মসমর্পণ করেছেন বা করবেন, তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে গতবারের থেকে আরও কার্যকর ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। যারা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসবে তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

আহসান হাবিব পলাশ বলেন, খুলনার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নের বিষয়ে কাজ করছি। ইতোমধ্যেই সরকারের কাছ থেকে বিশেষ নির্দেশনা পেয়েছি।

আত্মসমর্পণ করা ৫৯ জনের মধ্যে বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর ১৬ জন, আনারুল বাহিনীর ১৩ জন, আফজাল ওরফে দুলাভাই বাহিনীর ১৫ জন, আফতার বাহিনীর আটজন এবং মিজান বাহিনীর সাতজন রয়েছেন।

সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিপুল অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করেছে র‌্যাব। উদ্ধার করা হয়েছে ৫৯টি আগ্নেয়াস্ত্র, ৫৪১ রাউন্ড তাজা গুলি, ১৪টি খালি কার্তুজ ও সাতটি ওয়াকি-টকি।

উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে চারটি শটগান, ৪৭টি ওয়ান শুটার গান, চারটি পাইপগান, তিনটি এয়ারগান এবং একটি পয়েন্ট ২২ বোর রাইফেল।

র‌্যাব সূত্র জানায়, সুন্দরবনের জলদস্যু ও বনদস্যু দমনে র‌্যাব, কোস্টগার্ড, স্থানীয় প্রশাসন, নৌপুলিশ ও বন বিভাগের সমন্বয়ে ‘অপারেশন রি-স্টার্ট, পিস ইন সুন্দরবন’ নামে বিশেষ অভিযান চলছে। গত ২ মার্চ থেকে ধারাবাহিকভাবে এ অভিযান চালানো হচ্ছে।

র‌্যাব মহাপরিচালক আরও জানান, সুন্দরবনে বর্তমানে চার থেকে পাঁচটি দস্যু বাহিনী সক্রিয় রয়েছে। এসব বাহিনীর সদস্যদের অপরাধের পথ ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরানোর চেষ্টা চলছে।

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

five × three =

About Author Information

সুন্দরবনে শান্তি ফেরাতে র‌্যাবের অভিযান

Update Time : ০২:৪৯:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
8 / 100 SEO Score

 

সুন্দরবনে শান্তি ফেরাতে সন্ত্রাসী ও বনদস্যুদের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করেছে র‌্যাব। বাহিনীর মহাপরিচালক আহসান হাবিব পলাশ বলেছেন, অস্ত্রধারী ও সন্ত্রাসীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে অপরাধীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় ও অর্থের জোগানদাতাদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

তিনি বলেন, সুন্দরবনে শান্তি ফিরিয়ে আনাই আমাদের লক্ষ। আমরা সন্ত্রাসী, অপরাধীদের সম্পর্কে খোঁজ রাখছি। অপরাধীদের অর্থযোগান দাতা, আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতাদের কেউই পার পবেন না।

বুধবার (২ সেপ্টম্বর) খুলনা র‌্যাব-৬-এর সদর দপ্তরে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। সুন্দরবনের ৫৯ জন বনদস্যুর আত্মসমর্পণ, ৫৯টি অস্ত্র উদ্ধার, খুলনাসহ সারা দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে এই প্রেস ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়।

র‌্যাবের মহাপরিচালক বলেন, ২০১৬ সাল থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত আত্মসমর্পণকারী ৩২৮ জন দস্যুর মধ্যে ৩০ জন পুনরায় অস্বাভাবিক জীবনে ফিরে গেছেন। এরমধ্যে উপস্থিত আত্মসমর্পনকারী ৮ জন রয়েছেন।

তিনি বলেন, সামাজিক, রাজনৈতিক কারণ, হয়রানি হওয়ার ভয় ইত্যাদি কারণে তারা অপরাধ কর্মকাণ্ডে ফিরে যান। এ ছাড়া কিছু মানুষের অপরাধ প্রবণতা থাকে। তবে সার্বিকভাবে র‌্যাবের সাফল্য উল্লেখযোগ্য। যারা আত্মসমর্পণ করেছেন বা করবেন, তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে গতবারের থেকে আরও কার্যকর ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। যারা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসবে তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

আহসান হাবিব পলাশ বলেন, খুলনার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নের বিষয়ে কাজ করছি। ইতোমধ্যেই সরকারের কাছ থেকে বিশেষ নির্দেশনা পেয়েছি।

আত্মসমর্পণ করা ৫৯ জনের মধ্যে বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর ১৬ জন, আনারুল বাহিনীর ১৩ জন, আফজাল ওরফে দুলাভাই বাহিনীর ১৫ জন, আফতার বাহিনীর আটজন এবং মিজান বাহিনীর সাতজন রয়েছেন।

সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিপুল অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করেছে র‌্যাব। উদ্ধার করা হয়েছে ৫৯টি আগ্নেয়াস্ত্র, ৫৪১ রাউন্ড তাজা গুলি, ১৪টি খালি কার্তুজ ও সাতটি ওয়াকি-টকি।

উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে চারটি শটগান, ৪৭টি ওয়ান শুটার গান, চারটি পাইপগান, তিনটি এয়ারগান এবং একটি পয়েন্ট ২২ বোর রাইফেল।

র‌্যাব সূত্র জানায়, সুন্দরবনের জলদস্যু ও বনদস্যু দমনে র‌্যাব, কোস্টগার্ড, স্থানীয় প্রশাসন, নৌপুলিশ ও বন বিভাগের সমন্বয়ে ‘অপারেশন রি-স্টার্ট, পিস ইন সুন্দরবন’ নামে বিশেষ অভিযান চলছে। গত ২ মার্চ থেকে ধারাবাহিকভাবে এ অভিযান চালানো হচ্ছে।

র‌্যাব মহাপরিচালক আরও জানান, সুন্দরবনে বর্তমানে চার থেকে পাঁচটি দস্যু বাহিনী সক্রিয় রয়েছে। এসব বাহিনীর সদস্যদের অপরাধের পথ ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরানোর চেষ্টা চলছে।