Dhaka ১১:১২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরানের উত্তরকে কঠোর ভাষায় প্রত্যাখ্যান করলেন ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
8 / 100 SEO Score

 

যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ শান্তি প্রস্তাবে সাড়া দিয়ে যে জবাব পাঠিয়েছে ইরান— তা পছন্দ হয়নি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। ইরানের জবাবকে ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।

গতকাল রোববার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট করা এক বার্তায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এ প্রসঙ্গে বলেন, “আমার এটা পছন্দ হয়নি— (ইরানের এই জবাব) সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।”

গত সপ্তাহের মঙ্গলবার যুদ্ধের মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের মাধ্যমে ইরানকে একটি সমঝোতা চুক্তির খসড়া পাঠিয়েছিল ইরান। নতুন সেই খসড়ায় যুদ্ধ সমাপ্তির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা প্রদান, হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি সীমিত করা এবং দেশটির ওপর জারি থাকা মার্কিন নিষেধাজ্ঞা গুলো তুলে নিতে একটি বিস্তৃত চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য ৩০ দিনের আলোচনা শুরুর মতো পয়েন্টগুলো উল্লেখ ছিলো।

নতুন এই প্রস্তাবে সাড়া দিয়ে গতকাল রোববার পাকিস্তানের মাধ্যমে লিখিত জবাব দিয়েছে ইরান। ইতোমধ্যে পাকিস্তান সেই প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পৌঁছেও দিয়েছে। ইরান সেই জবাব পাঠানোর কিছু সময় পর ট্রুথ সোশ্যালে এই পোস্ট দেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

জানা গেছে, খসড়া প্রস্তাবে ইরানের পরমাণু প্রকল্প এবং সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ভবিষ্যতের ওপর গুরুত্ব দিয়েছিল ট্রাম্প প্রশাসন। তবে লিখিত জবাবে ইরান এ ইস্যুটি এড়িয়ে সব ফ্রন্ট, বিশেষ করে লেবাননে যুদ্ধ বন্ধ করা, অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল প্রভৃতি ইস্যুকে গুরুত্ব দিয়েছে।

এছাড়া লিখিত জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের হামলার কারণে সৃষ্ঠ অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির আর্থিক ক্ষতিপূরণ এবং হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের সার্বভৌম অধিকারও দাবি করেছে ইরান।

তবে যেসব কারণে ইরানের জবাব ট্রাম্প প্রত্যাখ্যান করেছেন, সেসবের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্ভবত ইউরেনিয়াম ইস্যুটি। ইরানের কাছে ৪০০ কেজি ইউরেনিয়ামের মজুত আছে, যার বিশুদ্ধতার মান ৬০ শতাংশ। ইরান যদি বিশুদ্ধতার মান ৯০ শতাংশে উন্নীত করে— তাহলে অনায়েসেই সেই ইউরেনিয়াম দিয়ে একের পর এক পারমাণবিক বোমা বানানো সম্ভব।

ট্রাম্প চেয়েছিলেন, ইরান যেন তার ইউরেনিয়ামের মজুত হয় ধ্বংস করে— নয়তো যুক্তরাষ্ট্রকে হস্তান্তর করে।

কিন্তু রোববারের জবাবে তেহরান প্রস্তাব দিয়েছে— ইউরেনিয়মের মোট মজুতের কিছু অংশের বিশুদ্ধতার মান কমিয়ে ইরানে রাখা হবে এবং বাকি অংশ তৃতীয় কোনো দেশে স্থানান্তর করা হবে। সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।

গতকাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক বার্তায় ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন,“ইরান কখনও শত্রুর কাছে মাথা নত করবে না এবং অবশ্যই দৃঢ়ভাবে নিজের জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করবে।

সূত্র : রয়টার্স

ডিবি/এল

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

ইরানের উত্তরকে কঠোর ভাষায় প্রত্যাখ্যান করলেন ট্রাম্প

Update Time : ০৪:৩৩:১১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬
8 / 100 SEO Score

 

যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ শান্তি প্রস্তাবে সাড়া দিয়ে যে জবাব পাঠিয়েছে ইরান— তা পছন্দ হয়নি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। ইরানের জবাবকে ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।

গতকাল রোববার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট করা এক বার্তায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এ প্রসঙ্গে বলেন, “আমার এটা পছন্দ হয়নি— (ইরানের এই জবাব) সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।”

গত সপ্তাহের মঙ্গলবার যুদ্ধের মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের মাধ্যমে ইরানকে একটি সমঝোতা চুক্তির খসড়া পাঠিয়েছিল ইরান। নতুন সেই খসড়ায় যুদ্ধ সমাপ্তির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা প্রদান, হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি সীমিত করা এবং দেশটির ওপর জারি থাকা মার্কিন নিষেধাজ্ঞা গুলো তুলে নিতে একটি বিস্তৃত চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য ৩০ দিনের আলোচনা শুরুর মতো পয়েন্টগুলো উল্লেখ ছিলো।

নতুন এই প্রস্তাবে সাড়া দিয়ে গতকাল রোববার পাকিস্তানের মাধ্যমে লিখিত জবাব দিয়েছে ইরান। ইতোমধ্যে পাকিস্তান সেই প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পৌঁছেও দিয়েছে। ইরান সেই জবাব পাঠানোর কিছু সময় পর ট্রুথ সোশ্যালে এই পোস্ট দেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

জানা গেছে, খসড়া প্রস্তাবে ইরানের পরমাণু প্রকল্প এবং সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ভবিষ্যতের ওপর গুরুত্ব দিয়েছিল ট্রাম্প প্রশাসন। তবে লিখিত জবাবে ইরান এ ইস্যুটি এড়িয়ে সব ফ্রন্ট, বিশেষ করে লেবাননে যুদ্ধ বন্ধ করা, অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল প্রভৃতি ইস্যুকে গুরুত্ব দিয়েছে।

এছাড়া লিখিত জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের হামলার কারণে সৃষ্ঠ অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির আর্থিক ক্ষতিপূরণ এবং হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের সার্বভৌম অধিকারও দাবি করেছে ইরান।

তবে যেসব কারণে ইরানের জবাব ট্রাম্প প্রত্যাখ্যান করেছেন, সেসবের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্ভবত ইউরেনিয়াম ইস্যুটি। ইরানের কাছে ৪০০ কেজি ইউরেনিয়ামের মজুত আছে, যার বিশুদ্ধতার মান ৬০ শতাংশ। ইরান যদি বিশুদ্ধতার মান ৯০ শতাংশে উন্নীত করে— তাহলে অনায়েসেই সেই ইউরেনিয়াম দিয়ে একের পর এক পারমাণবিক বোমা বানানো সম্ভব।

ট্রাম্প চেয়েছিলেন, ইরান যেন তার ইউরেনিয়ামের মজুত হয় ধ্বংস করে— নয়তো যুক্তরাষ্ট্রকে হস্তান্তর করে।

কিন্তু রোববারের জবাবে তেহরান প্রস্তাব দিয়েছে— ইউরেনিয়মের মোট মজুতের কিছু অংশের বিশুদ্ধতার মান কমিয়ে ইরানে রাখা হবে এবং বাকি অংশ তৃতীয় কোনো দেশে স্থানান্তর করা হবে। সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।

গতকাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক বার্তায় ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন,“ইরান কখনও শত্রুর কাছে মাথা নত করবে না এবং অবশ্যই দৃঢ়ভাবে নিজের জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করবে।

সূত্র : রয়টার্স

ডিবি/এল