Dhaka ০৮:০২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সব ধর্মের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে দেশ গড়ার অঙ্গীকার প্রধানমন্ত্রীর সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড: গ্রেপ্তারের আগে ফেসবুকে যে আক্ষেপের কথা লিখেছিলেন নজরুল ইসলামে যাদের সঙ্গে বিবাহ বন্ধন হারাম মণ্ডপ পরিদর্শনে সৈয়দপুর পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী আর্জেন্টিনার কাছে হার: রেফারির সমালোচনা করায় মিশরের কোচসহ তিনজন নিষিদ্ধ ইসরায়েলে নির্বাচনে নেতানিয়াহুর ভাগ্য নির্ধারণ করবে মুসলিম ভোটাররা টুপটুপ কর্তৃপক্ষের চরম অবহেলায় প্রাণ হারায় ১০ পর্যটক : পুলিশ ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে ওঠার সমীকরণ, কী করতে হবে বাংলাদেশকে আসামে দুই দিনে উচ্ছেদ ১১০০ বাঙালি মুসলিম পরিবার, গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো ১০টি মসজিদ নাটোরে বাস-ট্রাক সংঘর্ষ: নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৪

ইসলামে যাদের সঙ্গে বিবাহ বন্ধন হারাম

নিজস্ব প্রতিবেদক
8 / 100 SEO Score

 

ইসলামি শরিয়তে বিবাহ একটি পবিত্র ইবাদত এবং সুশৃঙ্খল সমাজব্যবস্থার মূল ভিত্তি। নবী করিম (সা.) সামর্থ্যবান যুবসমাজকে দ্রুত বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার তাগিদ দিয়েছেন, কারণ এটি দৃষ্টিকে সংযত রাখে এবং লজ্জাস্থানের হেফাজত করে। তবে এই পবিত্র সম্পর্কের ক্ষেত্রে বংশের পবিত্রতা ও সামাজিক শৃঙ্খলা রক্ষার্থে শরিয়ত সুনির্দিষ্ট কিছু সীমারেখা নির্ধারণ করেছে। পবিত্র কুরআন ও হাদিসের নির্দেশনা অনুযায়ী, নির্দিষ্ট কিছু নারীর সঙ্গে বিবাহ চিরতরে বা সাময়িকভাবে হারাম।

চিরতরে বিবাহ নিষিদ্ধ ১৪ শ্রেণির নারী
সুরা আন-নিসার ২২ ও ২৩ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা বংশগত (নসবী), বৈবাহিক (সোহবত) ও দুধ সম্পর্কের ভিত্তিতে ১৪ শ্রেণির নারীর তালিকা সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন, যাদের সঙ্গে বিবাহ বন্ধন স্থাপন চিরতরে নিষিদ্ধ।

বংশগত সম্পর্কের ভিত্তিতে নিষিদ্ধ নারীদের মধ্যে রয়েছে—মা, দাদী ও নানী (ঊর্ধ্বতন সব স্তর); মেয়ে, পৌত্রী ও দৌহিত্রী (নিম্নতন সব স্তর); সহোদর, বৈমাত্রেয় ও বৈপিত্রেয় সব বোন; বাবা ও দাদার ফুফু; মা ও নানীর খালা; ভাইয়ের মেয়ে অর্থাৎ ভাতিজী এবং বোনের মেয়ে অর্থাৎ ভাগিনী।

দুধ সম্পর্কের ভিত্তিতে নিষিদ্ধ—শৈশবে স্তন্যপান করানো দুধ মা এবং একই দুধ মায়ের সন্তান অর্থাৎ দুধ বোন (তাঁর মেয়ে, ভাতিজি ও ভাগিনিও এর অন্তর্ভুক্ত)।

বৈবাহিক সম্পর্কের ভিত্তিতে নিষিদ্ধ—সৎ মা অর্থাৎ বাবার বর্তমান বা সাবেক স্ত্রী (দাদা ও নানার স্ত্রীসহ); শাশুড়ি অর্থাৎ স্ত্রীর মা ও তাঁর ঊর্ধ্বতন বংশের নারী; সৎ মেয়ে অর্থাৎ সহবাসকৃত স্ত্রীর পূর্ব ঔরসজাত কন্যা; এবং পুত্রবধূ অর্থাৎ পুত্র বা পৌত্র-দৌহিত্রের স্ত্রী। এ ছাড়া কোনো নারী বিবাহাধীনে থাকাকালীন তাঁর বোন, ফুফু, খালা, ভাতিজি বা ভাগিনিকে একসঙ্গে বিবাহ করাও হারাম।

পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে—’আর তোমরা বিবাহ করো না সেই নারীদিগকে, যাদেরকে তোমাদের পিতারা বিবাহ করেছিল; তবে যা অতীতে হয়ে গেছে। নিশ্চয়ই এটি অশ্লীলতা, ঘৃণাভাজন ও মন্দ রীতি। তোমাদের ওপর হারাম করা হয়েছে তোমাদের মাতা, কন্যা, বোন, ফুফু, খালা, ভাতিজি, ভাগিনি, সেই দুধ-মাতা যারা তোমাদের স্তন্যপান করিয়েছে, দুধ-বোন, তোমাদের স্ত্রীদের মাতা এবং তোমরা যাদের সঙ্গে সহবাস করেছ সেই স্ত্রীদের কন্যা যারা তোমাদের কোলে প্রতিপালিত হয়…’ (সুরা আন-নিসা: ২২-২৩)।

উল্লিখিত ১৪ শ্রেণির বাইরেও ফিকহশাস্ত্রের আলোকে কিছু বিশেষ পরিস্থিতিতে বিবাহ হারাম বা অবৈধ। এর মধ্যে রয়েছে—একসঙ্গে চারজনের অধিক স্ত্রী রাখা; এমন দুই নিকটাত্মীয় নারীকে একত্রে বিবাহ করা যাদের একজন পুরুষ হলে অন্যজনকে বিবাহ বৈধ হতো না (যেমন ফুফু ও ভাতিজি); ইদ্দতকাল পূর্ণ হওয়ার আগে তালাকপ্রাপ্তা বা বিধবা নারীকে বিবাহ করা; মুসলিম পুরুষের জন্য আহলে কিতাব (ইহুদি-খ্রিস্টান) ব্যতীত অন্য ধর্মের নারীকে বিবাহ করা; তিন তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রীকে হালালা ছাড়া পুনর্বিবাহ করা; অন্যের বিবাহিতা স্ত্রীকে বিবাহ করা; এবং যে নারীর সঙ্গে ব্যভিচার হয়েছে তার মা, নানি, মেয়ে বা নাতনিকে বিবাহ করা।

ইসলামি শরিয়তে এই বিধানগুলো রক্ত ও বৈবাহিক সম্পর্কের পবিত্রতা রক্ষা, বংশমর্যাদা সংরক্ষণ এবং মানব সভ্যতার নৈতিক ভিত্তি সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে নির্ধারিত। একজন সচেতন মুসলিমের জন্য বিবাহ সংক্রান্ত এই শরয়ি সীমারেখা জানা ও মেনে চলা অপরিহার্য ধর্মীয় দায়িত্ব।

 

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

2 × 1 =

About Author Information

ইসলামে যাদের সঙ্গে বিবাহ বন্ধন হারাম

Update Time : ০৭:১০:৪০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬
8 / 100 SEO Score

 

ইসলামি শরিয়তে বিবাহ একটি পবিত্র ইবাদত এবং সুশৃঙ্খল সমাজব্যবস্থার মূল ভিত্তি। নবী করিম (সা.) সামর্থ্যবান যুবসমাজকে দ্রুত বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার তাগিদ দিয়েছেন, কারণ এটি দৃষ্টিকে সংযত রাখে এবং লজ্জাস্থানের হেফাজত করে। তবে এই পবিত্র সম্পর্কের ক্ষেত্রে বংশের পবিত্রতা ও সামাজিক শৃঙ্খলা রক্ষার্থে শরিয়ত সুনির্দিষ্ট কিছু সীমারেখা নির্ধারণ করেছে। পবিত্র কুরআন ও হাদিসের নির্দেশনা অনুযায়ী, নির্দিষ্ট কিছু নারীর সঙ্গে বিবাহ চিরতরে বা সাময়িকভাবে হারাম।

চিরতরে বিবাহ নিষিদ্ধ ১৪ শ্রেণির নারী
সুরা আন-নিসার ২২ ও ২৩ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা বংশগত (নসবী), বৈবাহিক (সোহবত) ও দুধ সম্পর্কের ভিত্তিতে ১৪ শ্রেণির নারীর তালিকা সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন, যাদের সঙ্গে বিবাহ বন্ধন স্থাপন চিরতরে নিষিদ্ধ।

বংশগত সম্পর্কের ভিত্তিতে নিষিদ্ধ নারীদের মধ্যে রয়েছে—মা, দাদী ও নানী (ঊর্ধ্বতন সব স্তর); মেয়ে, পৌত্রী ও দৌহিত্রী (নিম্নতন সব স্তর); সহোদর, বৈমাত্রেয় ও বৈপিত্রেয় সব বোন; বাবা ও দাদার ফুফু; মা ও নানীর খালা; ভাইয়ের মেয়ে অর্থাৎ ভাতিজী এবং বোনের মেয়ে অর্থাৎ ভাগিনী।

দুধ সম্পর্কের ভিত্তিতে নিষিদ্ধ—শৈশবে স্তন্যপান করানো দুধ মা এবং একই দুধ মায়ের সন্তান অর্থাৎ দুধ বোন (তাঁর মেয়ে, ভাতিজি ও ভাগিনিও এর অন্তর্ভুক্ত)।

বৈবাহিক সম্পর্কের ভিত্তিতে নিষিদ্ধ—সৎ মা অর্থাৎ বাবার বর্তমান বা সাবেক স্ত্রী (দাদা ও নানার স্ত্রীসহ); শাশুড়ি অর্থাৎ স্ত্রীর মা ও তাঁর ঊর্ধ্বতন বংশের নারী; সৎ মেয়ে অর্থাৎ সহবাসকৃত স্ত্রীর পূর্ব ঔরসজাত কন্যা; এবং পুত্রবধূ অর্থাৎ পুত্র বা পৌত্র-দৌহিত্রের স্ত্রী। এ ছাড়া কোনো নারী বিবাহাধীনে থাকাকালীন তাঁর বোন, ফুফু, খালা, ভাতিজি বা ভাগিনিকে একসঙ্গে বিবাহ করাও হারাম।

পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে—’আর তোমরা বিবাহ করো না সেই নারীদিগকে, যাদেরকে তোমাদের পিতারা বিবাহ করেছিল; তবে যা অতীতে হয়ে গেছে। নিশ্চয়ই এটি অশ্লীলতা, ঘৃণাভাজন ও মন্দ রীতি। তোমাদের ওপর হারাম করা হয়েছে তোমাদের মাতা, কন্যা, বোন, ফুফু, খালা, ভাতিজি, ভাগিনি, সেই দুধ-মাতা যারা তোমাদের স্তন্যপান করিয়েছে, দুধ-বোন, তোমাদের স্ত্রীদের মাতা এবং তোমরা যাদের সঙ্গে সহবাস করেছ সেই স্ত্রীদের কন্যা যারা তোমাদের কোলে প্রতিপালিত হয়…’ (সুরা আন-নিসা: ২২-২৩)।

উল্লিখিত ১৪ শ্রেণির বাইরেও ফিকহশাস্ত্রের আলোকে কিছু বিশেষ পরিস্থিতিতে বিবাহ হারাম বা অবৈধ। এর মধ্যে রয়েছে—একসঙ্গে চারজনের অধিক স্ত্রী রাখা; এমন দুই নিকটাত্মীয় নারীকে একত্রে বিবাহ করা যাদের একজন পুরুষ হলে অন্যজনকে বিবাহ বৈধ হতো না (যেমন ফুফু ও ভাতিজি); ইদ্দতকাল পূর্ণ হওয়ার আগে তালাকপ্রাপ্তা বা বিধবা নারীকে বিবাহ করা; মুসলিম পুরুষের জন্য আহলে কিতাব (ইহুদি-খ্রিস্টান) ব্যতীত অন্য ধর্মের নারীকে বিবাহ করা; তিন তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রীকে হালালা ছাড়া পুনর্বিবাহ করা; অন্যের বিবাহিতা স্ত্রীকে বিবাহ করা; এবং যে নারীর সঙ্গে ব্যভিচার হয়েছে তার মা, নানি, মেয়ে বা নাতনিকে বিবাহ করা।

ইসলামি শরিয়তে এই বিধানগুলো রক্ত ও বৈবাহিক সম্পর্কের পবিত্রতা রক্ষা, বংশমর্যাদা সংরক্ষণ এবং মানব সভ্যতার নৈতিক ভিত্তি সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে নির্ধারিত। একজন সচেতন মুসলিমের জন্য বিবাহ সংক্রান্ত এই শরয়ি সীমারেখা জানা ও মেনে চলা অপরিহার্য ধর্মীয় দায়িত্ব।