কমনওয়েলথে গ্লাসগো এখন উৎসবমুখর শহর
২৩তম কমনওয়েলথ গেমসকে ঘিরে স্কটল্যান্ডের গ্লাসগো এখন শুধু ক্রীড়াপ্রেমীদের নয়, উৎসবপ্রেমীদেরও প্রাণকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।গেমসের মূল গ্যালারির বাইরের প্রধান চমক হলো গ্লাসগো জুড়ে ১১ দিনব্যাপী চলা ‘গ্লাসগো ২০২৬ ফেস্টিভ্যাল’।
খেলার ভেন্যুর বাইরেও শহরজুড়ে চলছে সাংস্কৃতিক আয়োজন, সংগীত, শিল্পকলা, স্থানীয় খাবার ও নানা বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান। ফলে গেমসের আবহ ছড়িয়ে পড়েছে পুরো শহরে, যেখানে খেলার পাশাপাশি উৎসবের আমেজও সমানভাবে উপভোগ করছেন দর্শনার্থীরা।
গ্যালারির বাইরে পুরো শহরজুড়ে চলছে উৎসবের আমেজ। শহরের ঐতিহাসিক স্থান, উন্মুক্ত রাজপথ ও নদীর তীরবর্তী এলাকাগুলোতে অ্যাথলেটদের মতো সাধারণ মানুষেরও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে নানা চমকপ্রদ আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়া, গ্লাসগো শহরে এবারের ইভেন্ট কোনো সরকারি খরচ ছাড়াই মাত্র ১৫০ মিলিয়ন পাউন্ড বাজেটে অত্যন্ত সীমিত পরিসরে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
কমনওয়েলথ গেমস ২০২৬: গ্যালারির বাইরের কিছু দারুণ আকর্ষণ। গেমসের পাশাপাশি পুরো গ্লাসগো শহর এখন বিশাল এক উৎসবের মঞ্চ। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও সঙ্গীত: গ্লাসগোর বিভিন্ন আইকনিক জায়গায় বিনামূল্যে ও টিকিট কেটে উপভোগ করার মতো লাইভ কনসার্ট, থিয়েটার এবং স্ট্রিট পারফরম্যান্সের ব্যবস্থা রয়েছে।
গ্লাসগো ২০২৬ ফেস্টিভ্যাল জোন: গেমস চলাকালীন শহরের নির্দিষ্ট কিছু উন্মুক্ত স্থানে তৈরি করা হয়েছে ফেস্টিভ্যাল জোন। এখানে বড় স্ক্রিনে খেলা দেখার পাশাপাশি স্থানীয় সুস্বাদু খাবার এবং পানীয়ের দারুণ সমাহার থাকে।
স্কটিশ আতিথেয়তা ও প্রদর্শনী: গ্লাসগো স্কুল অব আর্টসহ শহরের বিভিন্ন গ্যালারিতে গেমসের ইতিহাস এবং স্কটিশ সংস্কৃতির ওপর আকর্ষণীয় প্রদর্শনী চলছে। এছাড়া স্থানীয়রা চমৎকারভাবে দর্শকদের স্বাগত জানানোর নানা প্রস্তুতি নিয়েছে।
কমনওয়েলথ মাইল: সাধারণ মানুষ যেন অ্যাথলেটদের মতো দৌড়ের রোমাঞ্চ অনুভব করতে পারেন, সেজন্য গ্লাসগোতে একটি নির্দিষ্ট এক-মাইল দূরত্বের ট্রেইল তৈরি করা হয়েছে। ক্লাইড প্লেস কোয়ে থেকে শুরু হওয়া এই রুটে ফিনি মাসকটের নির্দেশক এবং সুদৃশ্য আর্চওয়ে রয়েছে।
শহরের নান্দনিক শিল্পকর্ম: পুরো শহরজুড়ে বিভিন্ন দেয়ালচিত্র ও আর্ট ইনস্টলেশন বসানো হয়েছে। এর মধ্যে কিংসটন ব্রিজের নিচের ‘ইয়ার্ডওয়ার্কস’ ইনস্টলেশন এবং কুইন্স ডকের আশপাশের লাইটিং ও পাবলিক আর্ট অন্যতম।
মাসকট ‘ক্লাইড’র প্রত্যাবর্তন: ২০১৪ সালের গেমসের অত্যন্ত জনপ্রিয় মাসকট ফাইবারগ্লাস মূর্তি ‘ক্লাইড’ আবারও গ্লাসগোর রাস্তায় ফিরে এসেছে। এটি দর্শনার্থী ও সোস্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের কাছে দারুণ আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু।
‘মিনি কমনওয়েলথ গেমস’ ও আউটডোর ইভেন্ট: শহরের বিভিন্ন জাদুঘর ও উন্মুক্ত স্থানে (যেমন ব্যারেলে) শিশুদের জন্য মিনি গেমসের আয়োজন করা হয়েছে, যা পরিবার ও পর্যটকদের বাড়তি বিনোদন দিচ্ছে।
অল ইন কর্মসূচি: গেমস ঘিরে পুরো স্কটল্যান্ড জুড়ে ‘অল ইন’ নামে একটি জাতীয় গণ-আন্দোলন শুরু হয়েছে। এর মাধ্যমে স্থানীয় স্কুল, ক্রীড়া ক্লাব এবং কমিউনিটিগুলো নিজ নিজ এলাকায় উৎসব, টাউন-হল জমায়েত ও ফ্যামিলি ফেস্টিভ্যালের আয়োজন করছে।
খাবার ও পানীয় উৎসব: দর্শনার্থীদের জন্য গোভান ফুড অ্যান্ড ড্রিংক ফেস্টিভ্যালসহ নানা খাবারের স্টল এবং স্থানীয় ঐতিহ্যের প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে।
বিনামূল্যে গেমস আয়োজন: পূর্বে অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়া অতিরিক্ত খরচের অজুহাতে আয়োজন থেকে সরে দাঁড়ালে গেমসটি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। পরবর্তীতে স্কটল্যান্ডের গ্লাসগো শহর মাত্র ১৫০ মিলিয়ন পাউন্ডের বিনিময়ে এবং কোনো প্রকার সরকারি অর্থ খরচ না করেই গেমসটি আয়োজনের দায়িত্ব নেয়।
কমসংখ্যক খেলা ও ইভেন্ট: গেমসের পরিধি কমিয়ে খেলাধুলোর সংখ্যা মাত্র ১০টিতে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে (যা আগের তুলনায় ১০টি কম)। ক্রিকেট, হকি, ব্যাডমিন্টন, স্কোয়াশ এবং রাগবির মতো অনেক জনপ্রিয় দলগত খেলা এবার বাদ পড়েছে।
আবাসন ব্যবস্থায় পরিবর্তন: অ্যাথলেটদের জন্য আলাদা কোনো ‘অ্যাথলেট ভিলেজ’ তৈরি করা হয়নি। খরচ বাঁচাতে এবং পরিবেশবান্ধব থাকার জন্য অ্যাথলেটদের সরাসরি খেলার ভেন্যুর কাছাকাছি থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
ভারত ও পরবর্তী গেমসের লক্ষ্য এই আসরে ভারতের বাজেট এবং ইভেন্ট কিছুটা কমানো হলেও, ২০২৬ গেমস ভারতের ক্রীড়াবিদদের জন্য ২০৩০ সালে আহমেদাবাদে অনুষ্ঠিতব্য কমনওয়েলথ গেমসের প্রস্তুতির বড় মঞ্চ হিসেবে কাজ করছে।




















