Dhaka ১১:১৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কারিনার চিকিৎসায় আশার আলো, লিভার দানে প্রস্তুত দুই ভাই

8 / 100 SEO Score

 

লিভারজনিত জটিলতায় সংকটাপন্ন কনটেন্ট নির্মাতা ও অভিনেত্রী কারিনা কায়সারকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারতের চেন্নাই নেওয়া হয়েছে। তিনি বর্তমানে ভেলোরের খ্রিষ্টান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। সেখানে নেওয়ার পর তার চিকিৎসায় নতুন ধাপ শুরু করেছেন চিকিৎসকেরা।

এদিকে চিকিৎসকেরা জানান, প্রথমে তার ফুসফুসের চিকিৎসা করা হবে, এরপর করা হবে লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট। এর আগে, সোমবার (১১ মে) রাত ১১টায় এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে রাজধানীর হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে চেন্নাইয়ের উদ্দেশে রওনা হন কারিনা। এসময় তার সঙ্গে গেছেন মা ও দুই ভাই। তার বাবা ও জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক খেলোয়াড় কায়সার হামিদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মঙ্গলবার কায়সার হামিদ বলেন, ‘ওখানে ডাক্তাররা দ্রুত চিকিৎসা শুরু করেছেন। আগে ফুসফুসের সমস্যাটা সামাল দিচ্ছেন। এরপর লিভারে অপারেশন করা হবে। প্রেশার নিয়ন্ত্রণে আছে। হৃৎপিণ্ড, কিডনিসহ বাকি সব ঠিক আছে।’

তিনি জানান, দেশে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কারিনাকে অতিরিক্ত মাত্রায় ঘুমের ওষুধ দেওয়া হয়েছিল বলে ভারতের চিকিৎসকেরা মত দিয়েছেন। বর্তমানে ধাপে ধাপে তার শারীরিক অবস্থার উন্নতির চেষ্টা করা হচ্ছে।

ফুসফুসে জমে থাকা পানি পরিষ্কার করা হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এদিকে লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টের প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কারিনার দুই ভাইয়ের রক্ত পরীক্ষা করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন লিভার ডোনেট করবেন।

এ বিষয়ে কায়সার হামিদ বলেন, ছোট ছেলে সাদাত হামিদের রক্তের গ্রুপ কারিনার সঙ্গে মিলেছে, তবে দুই ভাইয়েরই প্রয়োজনীয় পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে।

এর আগে রোববার কায়সার হামিদ জানিয়েছিলেন, মেয়ের শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হওয়ায় তাকে জরুরি ভিত্তিতে বিদেশে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় পরিবার। ভিসা প্রক্রিয়া দ্রুত করতে তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গেও যোগাযোগ করেছিলেন।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রথমে জ্বরে আক্রান্ত হন কারিনা। পরে তার শরীরে সংক্রমণ ধরা পড়ে। একইসঙ্গে হেপাটাইটিস এ এবং ই জটিলতায় তার লিভার ফেইলিওর দেখা দেয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয় এবং পরে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়।

উল্লেখ্য, কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে পরিচিতি পেলেও সাম্প্রতিক সময়ে অভিনয় ও চিত্রনাট্য লেখার কাজ নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন কারিনা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার প্রাণবন্ত উপস্থাপনা ও জীবনঘনিষ্ঠ কনটেন্ট তরুণ দর্শকদের কাছে তাকে জনপ্রিয় করে তোলে। এদিকে তার অসুস্থতার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সহকর্মী ও ভক্তরা তার সুস্থতা কামনা করছেন।

 

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

কারিনার চিকিৎসায় আশার আলো, লিভার দানে প্রস্তুত দুই ভাই

Update Time : ০৫:৪৩:০৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬
8 / 100 SEO Score

 

লিভারজনিত জটিলতায় সংকটাপন্ন কনটেন্ট নির্মাতা ও অভিনেত্রী কারিনা কায়সারকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারতের চেন্নাই নেওয়া হয়েছে। তিনি বর্তমানে ভেলোরের খ্রিষ্টান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। সেখানে নেওয়ার পর তার চিকিৎসায় নতুন ধাপ শুরু করেছেন চিকিৎসকেরা।

এদিকে চিকিৎসকেরা জানান, প্রথমে তার ফুসফুসের চিকিৎসা করা হবে, এরপর করা হবে লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট। এর আগে, সোমবার (১১ মে) রাত ১১টায় এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে রাজধানীর হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে চেন্নাইয়ের উদ্দেশে রওনা হন কারিনা। এসময় তার সঙ্গে গেছেন মা ও দুই ভাই। তার বাবা ও জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক খেলোয়াড় কায়সার হামিদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মঙ্গলবার কায়সার হামিদ বলেন, ‘ওখানে ডাক্তাররা দ্রুত চিকিৎসা শুরু করেছেন। আগে ফুসফুসের সমস্যাটা সামাল দিচ্ছেন। এরপর লিভারে অপারেশন করা হবে। প্রেশার নিয়ন্ত্রণে আছে। হৃৎপিণ্ড, কিডনিসহ বাকি সব ঠিক আছে।’

তিনি জানান, দেশে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কারিনাকে অতিরিক্ত মাত্রায় ঘুমের ওষুধ দেওয়া হয়েছিল বলে ভারতের চিকিৎসকেরা মত দিয়েছেন। বর্তমানে ধাপে ধাপে তার শারীরিক অবস্থার উন্নতির চেষ্টা করা হচ্ছে।

ফুসফুসে জমে থাকা পানি পরিষ্কার করা হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এদিকে লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টের প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কারিনার দুই ভাইয়ের রক্ত পরীক্ষা করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন লিভার ডোনেট করবেন।

এ বিষয়ে কায়সার হামিদ বলেন, ছোট ছেলে সাদাত হামিদের রক্তের গ্রুপ কারিনার সঙ্গে মিলেছে, তবে দুই ভাইয়েরই প্রয়োজনীয় পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে।

এর আগে রোববার কায়সার হামিদ জানিয়েছিলেন, মেয়ের শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হওয়ায় তাকে জরুরি ভিত্তিতে বিদেশে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় পরিবার। ভিসা প্রক্রিয়া দ্রুত করতে তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গেও যোগাযোগ করেছিলেন।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রথমে জ্বরে আক্রান্ত হন কারিনা। পরে তার শরীরে সংক্রমণ ধরা পড়ে। একইসঙ্গে হেপাটাইটিস এ এবং ই জটিলতায় তার লিভার ফেইলিওর দেখা দেয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয় এবং পরে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়।

উল্লেখ্য, কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে পরিচিতি পেলেও সাম্প্রতিক সময়ে অভিনয় ও চিত্রনাট্য লেখার কাজ নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন কারিনা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার প্রাণবন্ত উপস্থাপনা ও জীবনঘনিষ্ঠ কনটেন্ট তরুণ দর্শকদের কাছে তাকে জনপ্রিয় করে তোলে। এদিকে তার অসুস্থতার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সহকর্মী ও ভক্তরা তার সুস্থতা কামনা করছেন।